
X
হঠাৎ তাপমাত্রা কমে গিয়ে তীব্র শীতে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের মতো রাজধানীতেও শীতের তীব্রতা বেড়েছে। রাতের পাশাপাশি দিনের বেলাতেও কনকনে ঠাণ্ডায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন ছিন্নমূল মানুষ। এতে বিপাকে পড়েছে শ্রমজীবী খেটে খাওয়া লোকজনও।
রাজধানীর ফুটপাত, রেলস্টেশন, বাসস্ট্যান্ড ও উড়ালসড়কের নিচে দেখা মিলছে এসব মানুষের। শীতবস্ত্র, নিরাপদ আশ্রয় ও পর্যাপ্ত খাবারের অভাবে তাদের জীবনযাপন হয়ে উঠেছে চরম অনিশ্চিত ও কষ্টকর।
ভোরের আলো ফোটার আগেই ঢাকার বাতাসে শীতের তীক্ষ্ণ ছোবল অনুভূত হচ্ছে। দিনের দুপুর ১২টার দিকেও রাজধানীতে সূর্যের দেখা মেলেনি। এতে শীতের প্রকোপ কমছে না। এই শীতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন ছিন্নমূল মানুষ। শহরের ব্যস্ত এলাকায় যেখানে মানুষ কোট-সোয়েটারে নিজেদের ঢেকে নিচ্ছেন, সেখানে ফুটপাতে থাকা মানুষগুলো পুরনো কাপড়, পলিথিন কিংবা বস্তা গায়ে জড়িয়ে ঠাণ্ডা ঠেকানোর চেষ্টা করতেও দেখা গেছে।
ফুটপাতে থাকা মানুষগুলো পুরনো কাপড়, পলিথিন কিংবা বস্তা গায়ে জড়িয়ে ঠাণ্ডা ঠেকানোর চেষ্টা করছেন।
আগারগা মোড়ে কথা হয় ষাটোর্ধ্ব আব্দুল বাতেন মিয়ার সাথে তিনি বলেন, বয়স হয়েছে, শরীর আর আগের মতো নেই। এই শীতে রাতে ঘুমানোই সবচেয়ে বড় কষ্ট। ঠাণ্ডায় বুক ব্যথা করে, কাশি ধরে।’
মিরপুর এলাকার মধ্যে বয়সী হালিমা খাতুন বলেন, হঠাৎ করে এত শীতের কারনে বিপাকে পড়েছে নিম্ন আয়ের লোকজন বিশেষ করে যারা বিকাল থেকে রাত পর্যন্ত রিস্কা বা অটোরিকশা চালাচ্ছেন। এবং ফুটপাতে রাতে অনেক সময় দেখা যায় রাস্তা বা বিভিন্ন জায়গা শুয়ে থাকা লোকজন তাদের সন্তানদের জড়িযে ঘুমাচ্ছেন তাদের তো কষ্ঠের সীমা নেই। তাদের জীবনে তো এই শীতে বেঁচে থাকাটাই আরেকটি লড়াই।
৬০ ফিট এলাকার রিকশাচালক কাবুল মিয়া জানান, শীতের সময় কাজ কমে যায়। রিকশা ঠেললেও যাত্রী পাওয়া যায় না। সকালে ঘুম থেকে উঠলে হাত-পা শক্ত হয়ে থাকে। তার কথায় শীতের পাশাপাশি জীবিকার চালানোও যতেষ্ট কষ্টদায়ক।
ফার্মগেট এলাকায় থাকা আরেক বৃদ্ধা রেখা বেগম বলেন, অনেক বছর রাস্তায় আছি, কিন্তু এবার শীতটা বেশি কষ্ট দিচ্ছে। শরীর দুর্বল, চোখে ঠিকমতো দেখি না। রাতে শুয়ে শুয়ে কাঁপি, কখন যে সকাল হবে সেই অপেক্ষায় থাকি। শীত বাড়লে খাবারের চেয়ে গরম কাপড়ের প্রয়োজন বেশি দরকার হয়।
খামারবাড়ি মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে সড়কে থাকা মধ্যে বয়সী রহিম নামের একজন রিকশাচালক জানান, রিকশা চালিয়ে ঠিকমত সংসারের খাবার জোগাতেই পারি না, এখন আবার এত শীতে কেমনে কাজ করে সংসার চালাবো বুঝতে পারছি না।
নগরীর বিভিন্ন স্থানে দেখা গেছে, অনেক ছিন্নমূল মানুষ দল বেঁধে আগুন জ্বালিয়ে শরীর গরম রাখার চেষ্টা করছেন। এতে একদিকে শীত থেকে সাময়িক স্বস্তি মিললেও অন্যদিকে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে। কোথাও কোথাও পথচারীদের দেওয়া পুরনো কাপড়ই তাদের একমাত্র ভরসা।
শীত যত দীর্ঘ হচ্ছে, ততই ছিন্নমূল মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে। মানবিক উদ্যোগ ও সংগঠিত সহায়তা ছাড়া এই মানুষগুলোর শীত পার করা কঠিন হয়ে উঠছে। নগরবাসী ও সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের সহযোগিতাই পারে এই কনকনে শীতে তাদের কষ্ট কিছুটা হলেও লাঘব করতে।
দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা শুক্রবার রেকর্ড করা হয়েছে যশোরে ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর আজ ঢাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৩ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস বলছে, আগামী কয়েক দিন সারা দেশে তাপমাত্রা আরও কমতে পারে। বাড়তে পারে শীতের তীব্রতা। পাশাপাশি থাকবে কুয়াশার প্রকোপ।
বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ১২০ ঘণ্টার (৫ দিন) আবহাওয়ার বিষয়ে এমন পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।