রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলায় দশম শ্রেণীর এক শিক্ষার্থীকে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বাদী হয়ে মিঠাপুকুর থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
আজ বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মিঠাপুকুর থানার ওসি তদন্ত হাফিজুর রহমান। অভিযুক্ত আরিফুল ইসলাম (২০) মিঠাপুকুর উপজেলার কাফ্রিখাল ইউনিয়নের খোর্দ্দ নারায়ণপুর গ্রামের মনছুর আলীর পুত্র। ধর্ষণের শিকার ভুক্তভোগী জায়গীরহাট ফখরুল উলুম ফাজিল মাদ্রাসার দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থী।
স্থানীয় এবং মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ ডিসেম্বর মিঠাপুকুর উপজেলার লতিবপুর ইউনিয়নের জোতগকুল এলাকার বাসিন্দা বান্ধবী কামিলা আক্তার রিতা ও তার প্রেমিক নাসিরুল পালিয়ে যাওয়ার সময়ে সহযোগিতা করে ভুক্তভোগী ওই কিশোরী। এসময় বান্ধবীর প্রেমিক নাসিরুলের বন্ধু আরিফুলের বাড়িতে সুকৌশলে নিয়ে যাওয়া হয় ভুক্তভোগী ওই কিশোরীকে। এরপরেই নিজ বাড়িতে আশ্রয় দেয়ার সুবাদে ২৮ ডিসেম্বর রাতে ও সকালে তিন দফায় জোরপূর্বক ভুক্তভোগী কিশোরীকে ধর্ষণ করে আরিফুল। রাতভর নির্যাতনের পরে সকালবেলা বিষয়টি জানাজানি হলে ভুক্তভোগী নারীকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে কৌশলে পালিয়ে যায় অভিযুক্ত আরিফুল।
ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থী জানান, বান্ধবী রিতাকে সহযোগিতা করেছিলাম তাদের ভালবাসার পূর্ণতা পাওয়ার জন্য। সেই সহযোগিতাই যে আমার জীবনটাকে নরক বানিয়ে ফেলবে, বুঝতে পারিনি। আমাকে ওরা সুকৌশলে নিয়ে গিয়ে তিনদফায় জোর পূর্বক ধর্ষণ করেছে। আমি ন্যায্য বিচার চাই।।
এ বিষয়ে কথা বলতে অভিযুক্ত আরিফুল ইসলামের বাড়িতে গিয়ে তালাবদ্ধ পাওয়া যায়। স্থানীয়রা জানায়, গণমাধ্যমকর্মী আসার খবর পেয়েই সটকে পড়েছেন আরিফুলের পিতা মাতা।
আরিফুলের চাচা তায়েক আহমেদ প্রতিবেদককে বলেন, ছেলে হামার ভুল করি ফেলছে। হামরা বিয়ে দিবার চাইছিলাম। হাফিজার চেয়ারম্যান মীমাংসা করার অনেক চেষ্টা করছে। ওরা মানে নাই। মামলা করছে। কি করবে করুক, আমরাও দেখব।
মিঠাপুকুর থানার ওসি (তদন্ত) হাফিজুর রহমান বাংলাদেশ বুলেটিনকে জানান, থানায় একটি ধর্ষণ মামলা রুজু করা হয়েছে। আজকে ছুটি থাকায় ভিকটিমের মেডিকেল সম্ভব হয়নি। ভিকটিমকে সাপোর্ট সেন্টার রাখা রয়েছে।