হলফনামায় মিলনের সম্পদ ৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা

স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুর

সারাবাংলা

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রার্থীদের দাখিল করা হলফনামায় তাঁদের সম্পদ, আয়–ব্যয়, ঋণ ও মামলার বিস্তারিত

2026-01-01T11:06:28+00:00
2026-01-01T11:06:28+00:00
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬ ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬
   
হলফনামায় মিলনের সম্পদ ৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা
স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুর
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারি, ২০২৬, ১১:০৬ এএম   (ভিজিট : ১২০)
X

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রার্থীদের দাখিল করা হলফনামায় তাঁদের সম্পদ, আয়–ব্যয়, ঋণ ও মামলার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ পেয়েছে। গাজীপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও সাবেক সংসদ সদস্য এ কে এম ফজলুল হক মিলন গাজীপুর–৫ আসন থেকে নির্বাচনে অংশ নিতে দাখিল করা হলফনামায় জানিয়েছেন, তাঁর মোট সম্পদের পরিমাণ ৩ কোটি ৪৯ লাখ ৯৮ হাজার ৩৬৮ টাকা। তাঁর বার্ষিক আয় দেখানো হয়েছে ৩০ লাখ ৫৬৪ টাকা।

গত সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) মনোনয়নপত্রের সঙ্গে হলফনামাটি সহকারী রিটার্নিং অফিসারের কাছে জমা দেওয়া হয়।

হলফনামা অনুযায়ী, ফজলুল হক মিলনের কাছে বর্তমানে নগদ রয়েছে ১৫ লাখ ২৫ হাজার ৮২৯ টাকা এবং ব্যাংকে জমা আছে ১৩ লাখ ২৬ হাজার ৩৪১ টাকা। এ ছাড়া তাঁর মালিকানায় রয়েছে ৫০ ভরি স্বর্ণালংকার। আসবাবপত্রের মূল্য দেখানো হয়েছে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং ইলেকট্রনিক পণ্যের মূল্য ৫০ হাজার টাকা।

হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে, তাঁর স্ত্রীর কাছে নগদ রয়েছে ২১ লাখ ৭১ হাজার ২০৩ টাকা এবং ব্যাংকে জমা আছে ২ লাখ ৫৩ হাজার ২৪৮ টাকা। স্ত্রীর মালিকানায় রয়েছে ২০০ তোলা স্বর্ণালংকার। এ ছাড়া ২ লাখ ৫০ হাজার টাকার আসবাবপত্র ও ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকার ইলেকট্রনিক পণ্য রয়েছে। স্বামী ও স্ত্রী—উভয়েরই আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে বলে হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে।

ফজলুল হক মিলন তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা এমএসএস (মাস্টার্স) উল্লেখ করেছেন। পেশা হিসেবে ব্যবসার কথা জানিয়ে তিনি বলেছেন, ব্যবসা থেকে তাঁর বার্ষিক আয় ১৫ লাখ ২৮ হাজার ৪০০ টাকা। বাড়ি বা সম্পত্তি ভাড়া থেকে আয় ১৪ লাখ ৪৬ হাজার টাকা এবং অন্যান্য খাত থেকে আয় ২৬ হাজার ১৬৪ টাকা। শেয়ার, বন্ড বা সঞ্চয়পত্র থেকে আয়ের কোনো তথ্য তিনি উল্লেখ করেননি।

হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, তাঁর কৃষিজমির পরিমাণ ২৮৭ দশমিক ৩ শতাংশ এবং অকৃষিজমির পরিমাণ ৫১ দশমিক ৭৫ শতাংশ। তিনি পূবাইলে ৪ হাজার ৪০০ বর্গফুট আয়তনের একটি একতলা ভবন, বনানীতে একটি টিনশেড বাড়ি, কাকরাইলে ১ হাজার ৬৬৩ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট এবং বসুন্ধরায় ১ হাজার ৪৭৪ বর্গফুট আয়তনের ১ কোটি ৭০ লাখ ৫৩ হাজার ৭০০ টাকা মূল্যের একটি ফ্ল্যাটের মালিক।

হলফনামায় স্ত্রী ও সন্তানের কোনো আয়ের উৎস উল্লেখ না থাকলেও স্ত্রীর বার্ষিক আয় দেখানো হয়েছে ৮ লাখ ১১ হাজার ৬০০ টাকা। তাঁর স্ত্রী বর্তমানে গৃহিণী। স্ত্রীর মোট সম্পদের পরিমাণ দেখানো হয়েছে ৮৬ লাখ ৪৪ হাজার ৬২৩ টাকা। এ ছাড়া রমনা সার্কুলার রোডে ১৮০ বর্গফুট আয়তনের একটি দোকান রয়েছে তাঁর স্ত্রীর মালিকানায়। ২০২৫–২৬ অর্থবছরে তিনি ৩৬ হাজার ১৬০ টাকা আয়কর দিয়েছেন।

ফজলুল হক মিলনের নামে কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণ নেই। তবে তাঁর স্ত্রীর কাছ থেকে ব্যাংকের মাধ্যমে নেওয়া ৩০ লাখ টাকার ঋণ রয়েছে। ২০২৫–২৬ অর্থবছরে তিনি নিজে ৫ লাখ ৯২ হাজার ৯২৬ টাকা আয়কর দিয়েছেন বলে হলফনামায় উল্লেখ করেছেন।

হলফনামা অনুযায়ী, তাঁর বিরুদ্ধে বর্তমানে চারটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এ ছাড়া অতীতে তাঁর বিরুদ্ধে ৪৩টি মামলা ছিল। এসব মামলার মধ্যে কিছু স্থগিত রয়েছে, কিছুতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে, কয়েকটিতে তিনি খালাস পেয়েছেন এবং কিছু মামলা নিষ্পত্তি বা প্রত্যাহার করা হয়েছে।

৬৩ বছর বয়সী এ কে এম ফজলুল হক মিলন এর আগে বিএনপি থেকে দুইবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনি হলফনামায় উল্লেখ করেছেন, সংসদ সদস্য থাকাকালে গাজীপুর–৫ আসনের সার্বিক উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমে তিনি ভূমিকা রেখেছেন। তিনি কালীগঞ্জ উপজেলার বরতুল গ্রামের বাসিন্দা।

রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, কালীগঞ্জ পৌরসভা ও উপজেলার সাতটি ইউনিয়ন এবং গাজীপুর সদর উপজেলার বাড়িয়া ইউনিয়ন ও গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ৪০, ৪১ ও ৪২ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত গাজীপুর–৫ আসনটি জাতীয় সংসদের ১৯৮ নম্বর আসন। এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৫৪ হাজার ৬৪৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৭৯ হাজার ৯৩ জন, নারী ভোটার ১ লাখ ৭৫ হাজার ৫৪৮ জন এবং হিজড়া ভোটার রয়েছেন ২ জন। এখানে ১২৪টি ভোটকেন্দ্রের ৬৭৮টি কক্ষে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে ফজলুল হক মিলনসহ মোট আটজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। অন্য প্রার্থীরা হলেন—মো. খায়রুল হাসান (জামায়াতে ইসলামী), মো. আল আমিন দেওয়ান (ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ), কাজল ভূঞা (গণফোরাম), মো. আজম খান (জনতার দল), রুহুল আমিন (খেলাফত মজলিস), গাজী আতাউর রহমান (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ) ও ডা. মো. সফিউদ্দিন সরকার (জাতীয় পার্টি)।

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, দাখিল করা হলফনামার তথ্য যাচাই করা হবে এবং কোনো প্রার্থী ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা তথ্য দিলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নির্বাচন বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনী হলফনামা ভোটারদের জন্য প্রার্থীদের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল, যা সুষ্ঠু নির্বাচন প্রক্রিয়াকে আরও শক্তিশালী করে।

তফসিল অনুযায়ী, প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাছাই চলবে ৩০ ডিসেম্বর থেকে ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত। আপিল দায়ের করা যাবে ৫ থেকে ৯ জানুয়ারি। আপিল নিষ্পত্তি হবে ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারি। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২০ জানুয়ারি। ২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দসহ চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে। নির্বাচনি প্রচারণা শুরু হবে ২২ জানুয়ারি এবং চলবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে সাতটা পর্যন্ত। ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ১২ ফেব্রুয়ারি।





Loading...
Loading...


সারাবাংলা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy