
X
ফেনীর দাগনভূঞা পৌর শহরে চোমুহনী রোড়স্থ কামার গলি নামক স্থানে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। শুক্রবার আনুমানিক সকাল ৭ ঘটিকার সময় অগ্নিকান্ডে ৮ টি দোকান পুড়ে ছাঁই হয়ে যায়। এতে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২ কোটি টাকার কম বা বেশী হতে পারে বলে জানিয়েছেন উপজেলা প্রশাসন।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল আনুমানিক ৬.৪৫ মিনিটের সময় আগুন দেখা যায়। তাৎক্ষণিক উপস্থিত লোকজন আগুন নিয়ন্ত্রন কারার চেষ্টা করেছিলেন কিন্ত উপরে বৈদ্যুতিক তার থাকায় দ্রুত ফায়ার সার্ভিসকে কল করেন। অগ্নিকান্ডের সংবাদ পাওয়ার সাথে সাথে ফেনী হতে ফায়ার সার্ভিসের ৩ টি ইউনিট ও কোম্পানিগজ্ঞ নোয়াখালী হতে ২ টি ইউনিট ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌঁছে অগ্নি নির্বাপনের কাজ শুরু করেন। প্রায় ১ ঘন্টা ৩০ মিনিটের প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। এই অগ্নিকান্ডের ফলে বাজারের ৬ টি দোকান ও ২ টি গোডাউন পুড়ে গিয়েছে। একই মার্কেটের আগুনের লেলিহান শিখা পার্শ্ববর্তী দারোগা মার্কেটে ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সেখানে বীমা কোম্পানি, দন্ত চিকিৎসক চেম্বার ও গোডাউন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অপরদিকে দক্ষিনে একটি বিল্ডিং এর সাইনবোর্ড সহ পুড়ে যায় কিছু অংশ।
ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পুড়ে যাওয়ার মধ্যে কামার গলি মার্কেটের পাটোয়ারী এন্টারপ্রাইজ এবং পাটোয়ারি কুটির শিল্প, মাদবী প্লাওয়ারর্স, হারুন স্টোর, রাজ্জাক কুটির শিল্প, শিল্পী স্টোর, জননী মেডিকেল হল, শাহজাহান কুটির শিল্প, ইব্রাহিম কুটির শিল্প তার সাথে গোডাউন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যার ক্ষতি আনুমানিক ২ কোটি টাকা বা তার বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অগ্নিকান্ডের সংবাদ পাওয়ার সাথে সাথে উপজেলা নির্বাহী অফিসার দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ব্যবসায়িক নেতৃবৃন্দ, ক্ষতিগ্রস্ত দোকানের মালিক, সাংবাদিকবৃন্দ ও স্থানীয় জনসাধারণের সাথে কথা বলেন। অগ্নিকান্ডের ফলে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দাগনভূঞা ক্যাম্প, দাগনভূঞা থানার পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। বর্তমানে সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা জানান, এ মার্কেট একটি ঐতিহ্যবাহী কুটির শিল্প, হস্তশিল্প, প্লাস্টিক জাতীয় বিভিন্ন পণ্য, আসবাবপত্র, রান্না করার পণ্যসামগ্রী, সুতা, বুটিকস পণ্যসহ নানান ধরনের মুল্যবান পণ্য পুড়ে ছাঁই হয়ে যায়। অনেকেরই ব্যাংক লোন, এনজিওর লোনসহ দেনা রয়েছে অনেক। এমন পরিস্থিতিতে সর্বশান্ত হয়ে পড়েছেন তারা। এ ক্ষতি কিভাবে কাটিয়ে উঠবেন এমন শঙ্কায় রয়েছেন এ ব্যবসায়ীগন। সরকারি সহযোগিতা কামনা করেছেন তারা।
দাগনভূঞা বাজার কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন লিটন জানান, ভোর হওয়ার সাথে আগুন লাগার সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে ব্যবসায়ীদের ক্ষতির বিষয়ে প্রশাসনকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। বৈদ্যুতিক সট সার্কিট থেকে আগুনের সুত্রপাত বলে ধারণা করেছেন ফায়ার সার্ভিস ও প্রত্যক্ষদর্শীগন।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা ও ওসি ফয়জুল আজীম নোমান জানান, আগুন লাগার সংবাদ পাওয়ার সাথে উপজেলা প্রশাসন ও থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে যান এবং সার্বিকভাবে সহযোগিতা করেন। ব্যাবসায়ীদের ক্ষতিগ্রস্ত বিষয়ে জেলা প্রশাসক মহোদয়ের নিকট তহবিল অনুযায়ী সর্বোচ্চ সহায়তার আশ্বাস প্রদান করেন উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা মো. শাহীদুল ইসলাম।
উল্লেখ্য, দাগনভূঞাতে ফায়ার সার্ভিস নির্মাণের জন্য ইতোমধ্যে ৩৩ শতক জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। বাকি ৬৭ জায়গা অধিগ্রহণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে যা অতিদ্রুত শেষ করার জন্য প্রশাসন তৎপর রয়েছে। অধিগ্রহণকৃত ৩৩ শতক জায়গাতে কাজ শুরু করা যায় কিনা সে বিষয়ে উচ্চপর্যায়ে যোগাযোগ করা হচ্ছে।