প্রকাশ: শনিবার, ৩ জানুয়ারি, ২০২৬, ৩:২৯ পিএম (ভিজিট : ১৭৭)

X
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির নেতাকর্মীরা রাউজানে বহু বছর থেকে দ্বিধা বিভক্ত। দুই নেতাকে ঘিরে রাজনীতি করে আসা উভয় পক্ষের নেতাকর্মীরা এখন রয়েছে চরম টেনশনে। তাদের মধ্যে উদ্বেগ উৎকন্ঠা চট্টগ্রাম-৬ নির্বাচনী আসন রাউজানে ধানের শীষ প্রার্থী নিয়ে। এই নির্বাচনী আসনে দলের পক্ষে ধানের শীষ প্রার্থী হয়েছেন পরস্পরের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়া দলের চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য সাবেক সংসদ সদস্য ও রাস্ট্রদুত গোলাম আকবর খোন্দকার ও জাতীয় নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান (পদস্থগিত) সাবেক সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী।
দুই নেতা দলের প্রতীকে নির্বাচন করতে ২৯ ডিসেম্বর মনোনয়ন দাখিল করেছেন। গতকাল ৩ জানুয়ারি মনোনয়নপত্র যাছাই বাছাই শেষে দুই প্রার্থীকে বৈধ বলে ঘোষনা করেছেন নির্বাচনী দায়িত্বে থাকা রিটানিং কর্মকর্তার কার্যালয়। এর আগে আলোচিত দুই প্রার্থীকে দলের মনোনয়ন বোর্ড ধানের শীষের মনোনয়ন ফরম দিয়েছিলেন। সর্বশেষ দুই প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধতা পেলে স্থানীয় বিএনপির বিবাদমান দুই শিবিরে বেড়েছে উদ্বেগ উৎকন্ঠা। সাধারণ ভোটারগণও এই নিয়ে কৌতুহলী। সকলের অপেক্ষা ধানে শীষে শেষ হাসি কে হাসছেন তা দেখতে।
নির্বাচনী এলাকার সাধারণ মানুষসহ দলের নেতাকর্মীরা জানতে চায় ধানের শীষের আসল প্রার্থী কে ? উৎকন্ঠিত সকলেই মনে করেন দলীয় হাইকমান্ডের উচিত দ্রুততার সাথে এই ধুম্রুজালের অবসান করা।
জানা যায়, রাউজানে ১৯৯৬ সাল থেকে আলোচিত দুই নেতার মধ্যে দলের নির্বাচনী মনোনয়ন পাওয়া না পাওয়ার দ্বন্দ্বে বিরোধ চলে আসছে। তখন থেকে রাউজানের বিএনপি’র রাজনীতিতে বিরজমান আছে কোন্দল। গত বছরের ছাত্র-জনতার জুলাই বিপ্লবের পর থেকে এলাকার রাজনীতির নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার প্রতিযোগিতায় নেমে দুই পক্ষের মধ্যে সশস্ত্র সংঘাতের ঘটনা ঘটেছে। বিভিন্ন সময় সংঘটিত এই সংঘাতে গুলিতে মারা গেছে অন্তত ১৭ জন। আহত হয়েছে অনেকেই। চলমান এসব রক্তক্ষয়ী ঘটনার জন্য উভয় পক্ষ পরস্পরের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে আসছে। রাউজানের এই বিভিষিকাময় পরিস্থিতির সংবাদ বিভিন্ন গণমাধ্যমে ধারাবাহিক ভাবে প্রকাশ হতে থাকলে দলের হাই কমান্ড ক্ষুদ্ধ হয়। পরে চলে আসা সংঘাত সংঘাতের জন্য দায়ী করা হয় কম বেশি মনোনয়ন প্রত্যাশী দুই নেতাকে।
প্রথম পর্যায়ে ঘটনার জন্য ব্যাখ্যা চাওয়া হয় গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর কাছে। পরবর্তীতে অপর এক সিদ্ধান্তে তার দলীয় জাতীয় নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান পদটি স্থাগিত করা হয়। একই সাথে গোলাম আকবর খোন্দকারের নেতৃত্বে থাকা উত্তর জেলা বিএনপি’র কমিটি বাতিল করা হয়। এই কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন গোলাম আকবর খোন্দকার। দলের কেন্দ্রীয় সেল থেকে দুই নেতার বিরুদ্ধে নেয়া এই ব্যবস্থা নেয়া হলে সংঘাত সংঘর্ষের পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলে দলীয় হাইকমান্ড রাউজানের পরিস্থিতি নিবিড় ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে থাকে। নির্বাচনী ডামাঢোল শুরু হলে দলের প্রার্থী নির্বাচনে প্রথম দফায় রাউজান আসনের প্রার্থীর নাম ঘোষনা থেকে বিরত থাকে।
নির্বাচনী তফসিল ঘোষনার পর এই আসনে গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীকে প্রার্থী ঘোষণা করে। দেয়া হয় তাকে দলের মনোনয়নপত্রের ফরম। উচ্ছ্বাসিত হয় গিয়াস উদ্দিন শিবিরে। হতাশ হয়ে পড়ে খোন্দকার সমর্থকরা। একপক্ষের আনন্দ উল্লাস আর অন্য পক্ষে ক্ষোভ হতাশার মধ্যে দলের পক্ষ থেকে নতুন বার্তা আসে খোন্দকার সমর্থকদের কাছে। বার্তাটি হচ্ছে দলীয় মনোনয়ন বোর্ড এই আসন থেকে নির্বাচন করতে (ধানের শীষ) মনোনয়ন ফরম দিয়েছেন গোলাম আকবর খোন্দকারকে। এক আসনে দুজনকে মনোনয়ন দেয়ার সংবাদে সাধারণ ভোটার ও বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে সৃষ্টি হয় প্রার্থী নিয়ে ধুম্রজাল। এই নিয়ে সর্বত্র চলমান আছে নানা আলোচনা সমালোচনা। দলীয় কর্মীরাও নিশ্চিত হতে পারছেন না শেষ পর্যন্ত তারা কার পক্ষে যাবে।
এমন এক পরিস্থিতির মধ্যে দুইজনেই দলের মনোনয়ন নিয়ে গত ২৯ ডিসেম্বর নিয়ম মেনে জেলা ও উপজেলায় দুটি মনোনয়নপত্র জমা করেন। নির্বাচন কমিশনের দেয়া যাছাই বাছাই সময় সূচির সর্বশেষ তথ্যে জানা যায় দুই প্রার্থীর মনোয়ন পত্র বৈধতা পেয়েছে।