প্রকাশ: শনিবার, ৩ জানুয়ারি, ২০২৬, ৬:২৭ পিএম (ভিজিট : ২১৬)

X
নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলায় গড়াডোবা ইউনিয়নের ট্রান্সফরমার চুরির সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আহত হওয়ার পর এক যুবককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে জবাই করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।
আজ শনিবার ভোরে উপজেলার গড়াডোবা ইউনিয়নের বিদ্যাবল্লভ বাজারের পেছনে একটি জমি থেকে ওই যুবকের লাশ উদ্ধার করে কেন্দুয়া পুলিশ।
নিহত যুবকের নাম মো. রিপন মিয়া। বয়স আনুমানিক ২৫ থেকে ৩০ বছর। তিনি মৌলা মিয়ার ছেলে। তার বাড়ি একই ইউনিয়নের কালেঙ্গা গ্রামে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, লাশ উদ্ধারের স্থান থেকে প্রায় ৩০০ মিটার দূরে একটি সরকারি (বিএডিসি) সেচ মটরের জন্য স্থাপিত বৈদ্যুতিক খুঁটি রয়েছে। ওই খুঁটিতে তিনটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ট্রান্সফরমার বসানো ছিল। খুঁটিতে ওঠার জন্য লাগানো লোহার রড ঘটনাস্থলে পাওয়া গেছে, যা ট্রান্সফরমার খোলার প্রস্তুতির ধারণা করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত রিপন মিয়ার দুই হাত সম্পূর্ণভাবে পুড়ে গেছে এবং তাঁর গলায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতের স্পষ্ট চিহ্ন রয়েছে। এ ছাড়া লাশের আশপাশে তাঁর দুটি স্যান্ডেল পড়ে থাকতে দেখা গেছে, যা ঘটনাটিকে আরও রহস্যজনক করে তুলেছে।
প্রাথমিকভাবে পুলিশ ধারণা করছে, রিপন মিয়া অজ্ঞাতনামা একটি চোরচক্রের সঙ্গে ট্রান্সফরমার চুরির উদ্দেশ্যে সেখানে যান। ট্রান্সফরমার খুলতে গিয়ে তিনি বৈদ্যুতিক খুঁটিতে উঠে হাইভোল্টেজ বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে নিচে পড়ে যান। এতে তার দুই হাত মারাত্মকভাবে দগ্ধ হয়।
বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার পর রিপনকে তার সঙ্গে থাকা চোরচক্রের সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে বিদ্যাবল্লভ এলাকার বাসিন্দা মো. খাইরুল ইসলামের জমিতে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে জবাই করে হত্যা করা হয় বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে যান কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী মাকসুদ। তার নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে লাশের সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত হচ্ছে। পরে লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য নেত্রকোণা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।
এ বিষয়ে ওসি মেহেদী মাকসুদ বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও রহস্যজনক। প্রাথমিকভাবে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের আলামত পাওয়া গেছে। ট্রান্সফরমার চুরির সঙ্গে জড়িত অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।