পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় আয়েশা নামে ১১ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার ঘটনায় মূল ঘাতক রুবেল প্যাদাকে (৩৫) আটক করেছে পুলিশ। পরবর্তীতে আসামি রুবেল প্যাদা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। তবে সবচেয়ে রোমহর্ষক বিষয় হলো, আদালতে আসামি রুবেল জানিয়েছে, শিশুটির বাবা বাবুল প্যাদারের নির্দেশেই তিনি এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন।
রাঙ্গাবালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম বলেন, আসামি রুবেল প্যাদাকে আদালতে তোলা হলে তিনি শিশু আয়েশাকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে হত্যার কথা স্বীকার করেন। ওসি সিরাজুল ইসলাম আরও বলেন, নিহত শিশুর মা প্রবাসে থাকার সুযোগে বাবা বাবুল প্যাদা তার সন্তানের (নিহত শিশুর) সমবয়সী এক শিশুর সঙ্গে অবৈধ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। পরবর্তীতে নিহত শিশুটি তা দেখে ফেলে এবং তার বড় বোনকে জানায়।
এ ঘটনায় তাদের পরিবারে তীব্র কলহের সৃষ্টি হয়। ফলে এই বিষয়টি ধামাচাপা দিতে বাবুল তার আত্মীয় রুবেল প্যাদাকে নিজ সন্তানকে খুনের জন্য টাকা দেয়। পরিকল্পনা মোতাবেক গত শুক্রবার রুবেল প্যাদা শিশু আয়েশাকে প্রথমে ধর্ষণ করে। পরে হত্যা করে লাশ বস্তাবন্দী করে রান্নাঘরে লুকিয়ে রাখে। শিশুটির বাবা পড়ে নিখোঁজের নাটক সাজিয়ে থানায় জিডি করে যাতে করে আশেপাশের কেউ যাতে বুঝতে না পারে। তবে শেষ রক্ষা হয় নি।
পুলিশ লাশ উদ্ধার করলে সত্য ঘটনা বেরিয়ে আসে। এ ঘটনায় শিশুটির বড় বোন মামলা করেন। মামলায় শিশুটির পিতা বাবুল প্যাদা এবং রুবেল প্যাদাকে আসামী করা হয়।
পুলিশ জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে রুবেল প্যাদা হত্যার আগে আয়েশাকে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছেন। তবে আদালতে দেওয়া ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে তিনি কেবল হত্যার দায় স্বীকার করেন। আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে হুকুমের আসামি হিসেবে আয়েশার বাবা বাবুল প্যাদাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।