
X
স্ত্রী অদলবদল করায় খুলনার বিকুল হত্যাকান্ড সংগঠিত হয়েছে। শীর্ষ সন্ত্রাসী নুর আজিম এবং আরেক সন্ত্রাসী আব্দুল বাছেদ বিকুল একে অপরের স্ত্রীকে ভাগিয়ে বিয়ে করে। বিকুল ছিল শীর্ষ সন্ত্রাসী নূর আজিমের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। তবে বিরোধের কারণে সে আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘বি’ কোম্পানীর প্রধান গ্রেনেড বাবুর দলে যোগ দেয়। হত্যা মিশন সফল করার লক্ষ্যে ‘পিকনিক’ ফাঁদ পাতা হয়।
শনিবার দিবাগত রাত ১টার দিকে রূপসা উপজেলার কদমতলা বালুর মাঠে আয়োজিত পিকনিক পার্টিতে ডেকে নিয়ে গুলি করে হত্যা করা হয় আব্দুল বাছেদ বিকুলকে। তার শরীরে মোট চারটি গুলি করা হয়েছে।
এদিকে ঘটনার পর বিকুলের দ্বিতীয় স্ত্রী রিতি ও তার বান্ধবীসহ ৯ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়। পরে স্ত্রী ও বান্ধবীকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এখনও থানায় ৭ জন রয়েছে। সারারাত সোনাডাঙ্গা মডেল থানায় রেখে রোববার দুপুরে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রূপসা থানায় বাকি ৭ জনকে নিয়ে যাওয়া হয়।
পুলিশ জানায়, আজ রোববার দুপুরে ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে। নিহত বিকুলের বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্রসহ ৭টি মামলা রয়েছে।
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গের সামনে দাড়িয়ে অঝোরে কাদছিলেন নিহত বিকুলের মা নাসিমা বেগম। তিনি এ প্রতিবেদককে জানান, খুলনার শীর্ষ সন্ত্রাসী নুর আজিমের সাথে আমার ছেলের ভাল সম্পর্ক ছিল। প্রথম স্ত্রী স্বর্ণা একজন মাদক কারাবারী এবং পূর্ব রূপসা নিয়ন্ত্রণ করে। ছেলের ঘনিষ্ট বন্ধু হওয়ায় নুর আজিমের সাথে পরকীয়া সম্পর্কে জড়ায় বিকুলের প্রথম স্ত্রী স্বর্ণা। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। বিষয়টি জানতে পেরে প্রথম স্ত্রীকে তালাক দেয় বিকুল।
এরপর শীর্ষ সন্ত্রাসী নুর আজিম ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে গ্রেপ্তার হলে তার স্ত্রী রীতির সাথে অবৈধ সম্পর্ক গড়ে তোলে বিকুল। গত দেড় মাস আগে রীতিকে বিয়ে করে প্রতিশোধ নেয় বিকুল। পরকীয়ায় স্ত্রী অদল-বদল ঘটনায় দুজনের মধ্যে বিরোধ তুঙ্গে ওঠে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কদমতলা এলাকার কয়েজন বাসিন্দা এবং পুলিশের একাধিক সূত্র জানান, বিকুলকে হত্যা মিশন সফল করার লক্ষ্যে ‘পিকনিক’ ফাঁদ পাতা হয়। শনিবার রাতে তাকে ফোন করে পিকনিকে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে নাচ-গান চলছিল। গভীর রাতে ৪-৫ টি মোটরসাইকেল যোগে ৭-৮ জন অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী ওই পিকনিকের মধ্যে প্রবেশ করে।
এসময় সন্ত্রাসীরা বিকুলের বুকে অস্ত্র ঠেকিয়ে গুলি করে। বুকের বাম পাজরে ২ টি, চোখের কোনায় একটি এবং নাকের মধ্যে ১টি গুলি করে। সন্ত্রাসীরা মাত্র তিন মিনিটে হত্যার মিশন শেষ করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
রাত সাড়ে ৩ টার দিকে সোনাডাঙ্গা থানার পুলিশ বিকুলের দ্বিতীয় স্ত্রী রীতি, তার বান্ধবীসহ ৯ জনকে পুলিশ হেফাজতে নেয়। হেফাজতে থাকা ৯ জনকে জিজ্ঞাসাবাবদ করার জন্য সোনাডাঙ্গা থেকে রোববার দুপুরে রূপসা থানায় নেয় পুলিশ। সেখান থেকে স্ত্রী ও বান্ধবীকে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়। বাকি ৭ জন এখনও থানায় রয়েছে।
ঘটনার পরপর পুলিশের পাশাপাশি সিআইডি, পিবিআই, র্যাবের গেযেন্দা ইউনিট ছায়া তদন্ত শুরু করে। তারা ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে গিয়ে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে। সন্ত্রাসীদের সাথে বিরোধের কারণে এ হত্যাকান্ড সংগঠিত হয়েছে বলে তারা নিশ্চিত হয়েছে।
কেএমপি’র একজন উর্ধতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ করা না শর্তে জানান, নিহত বিকুল গ্রেনেড বাবুর সহযোগী ছিল। শীর্ষ সন্ত্রাসী নুর আজিমের সাথে বিরোধ হওয়ায় সে ওই দলে যোগ দেয়। গত ৩০ নভেম্বর আদালতের প্রবেশ মুখে হাসিব হাওলাদার এবং ফজলে রাব্বি হত্যা মিশনে তার উপস্থিতি ছিল।
তিনি আরও জানান, সন্ত্রাসী নূর আজিম বর্তমানে ঢাকার কাশিমপুর কারাগারে হাজতি হিসেবে রয়েছেন। সেখানে থেকে খুলনার অপরাধ জগৎ পরিচালনা করছেন বলে তিনি জানান।
রূপসা থানার ওসি তদন্ত মো. আব্দুর সবুর শেখ বলেন, পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় এখনও কেউ কোন মামলা করতে আসেনি। কি কারণে তাকে হত্যা করা হয়েছে তা তিনি নিশ্চিত করে বলতে পারেনি।