
X
বগুড়ার জেলা, উপজেলার সরকারী হাসপাতাল ও বেসরকারী ফার্মেসী গুলোতে মিলছে না জীবন রক্ষাকারী জলাতঙ্ক প্রতিরোধী (রেবিস ভিসি হিউম্যান) ভ্যাকসিন। বগুড়া জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রতিদিনই বিভিন্ন বয়সের মানুষ কুকুর, বিড়াল, ইদুর ও শিয়ালসহ বণ্য প্রাণীর কামড়ে আক্রান্ত রোগী সরকারি হাসপাতালে ছুটে এলেও টিকা না থাকায় হতাশ হয়ে ফিরছেন।
অনেকে বাইরের ফার্মেসী থেকে কিনতে গেলেও খালি হাতে ফেরত আসছে ফার্মেসী গুলোতে সরবরাহ না থাকায়। এতে করে মানুষের মাঝে চরম আতঙ্ক। দ্রুত ভ্যাকসিন সরবরাহ নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
চিকিৎসকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, জলাতঙ্কের নাম শুনলেই মানুষ আতঙ্কিত হয়। কারণ জলাতঙ্ক রোগ একটি প্রাণঘাতী রোগ। জলাতঙ্ক আক্রান্ত প্রাণী কামড়ের পর নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ভ্যাকসিন না নিলে মৃত্যু অনিবার্য। কুকুর, বিড়াল বা বন্য প্রানীর কামড়ের শিকার হলে আক্রান্ত ব্যক্তির জন্য একমাত্র নিরাপদ উপায় ভ্যাকসিন নেওয়া।
ভূক্তভোগীরা জানান, চিকিৎসকরা কুকুর বিড়াল আক্রমনের শিকার ব্যাক্তিদেরকে
চিকিৎসা নিতে গেলে তারিখ উল্লেখ করে বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির ভ্যাকসিনের নাম লিখে দেন। ভুক্তভোগীদেরকে ফার্মেসি থেকে ভযাকসিন কেনার পরামর্শ দিচ্ছেন। রোগী ও তাদের স্বজনেরা জীবন রক্ষায় ভ্যাকসিনের জন্য বিভিন্ন জায়গায় ছোটা-ছুটি করছেন। কিন্তু জেলা বা উপজেলার কোন ফার্মেসিতে ভ্যাকসিন পাওয়া যাচ্ছে না।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি কুকুর ও বিড়ালের আক্রমণের শিকার রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। এ কারনে জলাতঙ্ক ভ্যাকসিনের চাহিদাও অনেক বেড়েছে।
সূত্র জানায়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে সরবরাহ বন্ধ থাকায় ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে জলাতঙ্ক ভ্যাকসিন জেলার কোথাও নেই। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই নতুন করে ভ্যাকসিন আসার কথা থাকলেও বাস্তবে তা আসছে না ফলে প্রতিদিনই বাড়ছে রোগীর ভিড়।
ইনসেপ্টা ফার্মাসিটিকেলের বিপণন কর্মকর্তা নাজমুল হোসেন বলেন, ডিপোতে সাপ্লাই না থাকায় সরবরাহ করতে পারছি না। এছাড়াও পপুলার ফার্মাসিটিকেলের বিপনন কর্মকর্তা মো.তারেক হোসেন বলেন, আমরা প্রায় ১ মাস হলো ভ্যাকসিন সরবরাহ না থাকায় ঔষধের দোকান গুলোয় সরবরাহ করতে পারছি না।
বগুড়া জেলার সারিয়াকান্দি উপজেলার কর্নিবাড়ী ইউনিয়নের নান্দিয়ার পাড়া গ্রামের মো.জাফরুল সাদিক বলেন, 'আমাকে বিড়াল আঁচর দিয়েছিলো। হাসপাতালে গেলে আমাকে ৫ টি ভ্যাকসিন দিতে বলে। আমি প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজ দিয়েছি এরপর তৃতীয় ডোজ দেওয়ার জন্য আর ভ্যাকসিন পাইনি। সারিয়াকান্দিতে না পাওয়ায় বগুড়া জেলা সদরে খুঁজে কোথাও না পাওয়ায় আর কোন ভ্যাকসিন নিতে পারিনি।
বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা.রাশেদুল ইসলাম বলেন, জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন বর্তমানে হাসপাতালে সরবরাহ নাই। আমরা চাহিদা পাঠিয়েছি আমাদের এখানে সরবরাহ হলেই রোগীদেরকে দেওয়া হবে।
বগুড়া জেলা সিভিল সার্জন ডা.মো.খুরশীদ আলম বলেন, হাসপাতাল গুলোতে আগে যে ভ্যাকসিন সরবরাহ হতো তা এখন বন্ধ রয়েছে। স্বাহ্য অধিদপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। প্রতিটি উপজেলার স্বাহ্য কমপ্লেক্সের চাহিদাপত্র নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে। আশা করছি শিগগিরই সংকট কেটে যাবে।