
X
নাটোর পৌরবাসীকে দ্রুত ও আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ভারত সরকার উপহার হিসেবে দিয়েছিল প্রায় সাড়ে ৪ কোটি টাকার লাইফসাপোর্ট (আইসিইউ) সম্বলিত অ্যাম্বুলেন্স। মুমূর্ষু রোগীদের জীবন বাঁচানোর সে বাহনটি এখন ব্যবহার করা হচ্ছে গণভোটের প্রচারণায়। নির্বাচনকে সামনে রেখে নাটোর পৌর কর্তৃপক্ষ অ্যাম্বুলেন্সটি প্রচারণার ‘ভোটের গাড়িতে’ রূপান্তর করেছে।
সোমবার সকাল ১১টায় পৌরসভা চত্বর সংলগ্ন সড়কে দেখা যায়, অত্যাধুনিক অ্যাম্বুলেন্সটির গায়ে নির্বাচনী স্টিকার সাঁটানো হয়েছে। উপরের স্থাপন করা হয়েছে সাউন্ড সিস্টেম। এরপর শহরের কানাইখালি পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকা হয়র শহরের বিভিন্ন অলিগলিতে এটি এখন গণভোট প্রচারণা চালায়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০২২ সালের শুরুর দিকে ভারত সরকার নাটোর পৌরসভা, নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতাল ও সিংড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একটি করে মোট তিনটি অত্যাধুনিক আইসিইউ সম্বলিত অ্যাম্বুলেন্স উপহার দেয়। ওই বছরের ১৬ফেব্রুয়ারি নাটোর পৌরসভা প্রাঙ্গণে এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার সঞ্জীব কুমার ভাটি নাটোর পৌর মেয়রের কাছে অ্যাম্বুলেন্সের চাবি হস্তান্তর করেন।
নাটোর পৌরবাসীর দাবি, গত দুই বছর ধরে দক্ষ জনবল ও অতিরিক্ত ভাড়ার অজুহাতে এটি সাধারণ মানুষের কোনো কাজেই আসেনি। শুরুতে এটি নিয়ে পৌরবাসীর মধ্যে ব্যাপক আশা তৈরি হলেও গত দুই বছরে খুব কম মানুষই এর সেবা পেয়েছেন। আর পৌর কর্তৃপক্ষের দাবি ছিল, বিশেষায়িত এই অ্যাম্বুলেন্স পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষ টেকনিশিয়ান ও জনবল নেই। পাশাপাশি সাধারণ অ্যাম্বুলেন্সের তুলনায় এর ভাড়াও নির্ধারণ করা হয়েছিল বেশি। ফলে গ্যারেজেই অলস পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছিল কোটি টাকার এই সম্পদ।
এদিকে, দক্ষ জনবল নিয়োগ দিয়ে জনগণের সেবায় ব্যবহারের পরিবর্তে অ্যাম্বুলেন্সটিকে ব্যবহার করা হচ্ছে নির্বাচনী প্রচারণায়। জীবন রক্ষাকারী একটি বাহনকে এভাবে নির্বাচনী কাজে ব্যবহার করায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন স্থানীয়রা।
শহরের কানাইখালির বাসিন্দা শামসুল আলম বলেন, অ্যাম্বুলেন্সটি ছিল মানবতার সেবার জন্য, ভোটের প্রচারণার জন্য না। এটি জনস্বার্থের পরিপন্থি কাজ।
শহরের মাদ্রাসামোড়ের বাসিন্দা আব্দুল বাতেন বলেন, অ্যাম্বুলেন্স মানেই জীবন বাঁচানোর বাহন। জনবল নিয়োগ দিয়ে এটি মানুষের সেবায় ব্যবহার করা যেত। এটা যদি ভোটের কাজে ব্যবহার হয়, তাহলে অসুস্থ মানুষ যাবে কোথায়?
শহরের বড়গাছা এলাকার বাসিন্দা রুহুল আমিন বলেন, পৌরসভার মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের কোনো কর্মকর্তার সিদ্ধান্তে এ ধরনের বিতর্কিত কাজ হতে পারে তা ভাবা যায় না। কারা এটি করে গণভোটের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ইস্যুকে খেলা করার চেষ্টা করতেছে তার খুঁজে বের করার দরকার।
এ বিষয়ে সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) যুগ্ম সাধারণ মানুষ ও মানবাধিকার কর্মী বুলবুল আহমেদ বলেন, গণভোটের প্রচারণা থেকে জনগণের দৃষ্টি সরে গিয়ে এখন অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে। এতে প্রচারণার উদ্দেশ্য ব্যাহত হচ্ছে। যারা এসব প্রতিষ্ঠান ও প্রচারণা সংশ্লিষ্ট তাদের আরও দায়িত্বশীল হতে হবে।
নাটোর পৌরসভার পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা আমিনুর রহমান বলেন, সকালে পৌরসভায় এসে দেখি অ্যাম্বুলেন্সে হ্যাঁ-না ভোটের স্টিকার লাগানো। তবে অ্যাম্বুলেন্স হঠাৎ ভোটের গাড়িতে রূপান্তরের বিষয়ে আগে থেকে পৌর কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়নি।
এ বিষয়ে নাটোর পৌরসভার পৌর প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক এস.এইচ.এম. মাগ্ফুরুল হাসান আব্বাসী বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। কথা বলে জানাতে পারব।