
X
দাগনভূঞা উপজেলা ইয়াকুবপুর ইউনিয়ন মুন্সিবাড়ির দরজায় অবস্থিত করমুল্যাহপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষিকা বিবি আয়েশা'র শিশুপুত্র আজিমুল ইসলাম আরাফ ( ৪) বয়সের শিশু নিখোঁজ হওয়ার ১৬ দিন পার হলেও এখনও পর্যন্ত মিলেনি তার সন্ধান। এ দিকে শিশুর মা বাবা সহ আত্নীয় স্বজন থেকে শুরু করে সবাই চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। এ নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল। অনেকেই জানতে চেয়েছেন আপডেট কি! কিন্ত নেই কোন উত্তর। উদ্বেগ উৎকন্ঠায় দিন পার করছেন তার স্বজনরা। নিখোঁজ হওয়ার ১৬ দিন অতিবাহিত হওয়ায় জনমনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে শিক্ষক নেতৃবৃন্দ, সুশীল সমাজ, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, সাধারণ জনগন দ্রুত আইনের কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করছেন এবং উক্ত বিষয়টি রাস্ট্রের সর্বোচ্চ মহলের সহযোগিতা চেয়েছেন শিশু আরাফের বাবা - মা সহ স্বজনরা।
আরাফ এর মা বাবা জানিয়েছেন, অপেক্ষার প্রহর গুনতে গুনতে ১৬টি দিন পার হতে যাচ্ছে এখনও কোন খবর পাইনি। সন্তান কোথায় আছে, কেমন আছে, কার কাছে আছে, খাওয়া দাওয়া দিচ্ছে কিনা বা খায় কিনা এগুলো বলে কান্না করছেন দিনরাত। যে সন্তান বাবার কাছে মিষ্টি খেতে চায় প্রত্যেকদিন সে সন্তানকে হারিয়ে বাবার অজোরে কান্না, নিস্তব্ধতা, মায়ের বুকফাটা আত্ননাদ যেন আকাশ বাতাস ভারি হয়ে আসছে। কখন শুনবেন একটি সুখবর এ বুঝি সন্তানের খবর পাওয়া গেছে এমন আশায় দিন পার করছেন এ দম্পতি। সন্তান হারানোর যে কষ্ট তা সবাই অনুধাবন করছেন। আরাফের নিখোঁজ বিষয়টি প্রতিদিন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল কেউ না কেউ আপডেট দিচ্ছেন। সন্ধান পেতে সহযোগিতা করে চলেছেন। আবাফ এর বাবা সন্তানকে খুঁজে পেতে সহযোগিতা এবং সন্ধানদাতার জন্য ৫০ হাজার টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছেন। সবার উদ্যেশ্য বলেন আমাদের জানা মতে কারও সাথে আমাদের ঝগড়া বিবাদ কিংবা মনোমালিন্য নেই তবুও যদি মনের অজান্তে কোন ভুলক্রুুটি করে থাকি আমাদেরকে আপনারা ক্ষমা করে দিবেন। শুধু আমাদের সন্তানকে ফেরত দিন। কেউ যদি আরাফকে নিয়ে থাকেন তাহলে তাকে ফেরত দিন আমরা মাফ করে দিবো। পরিচয় গোপন রাখবো। অথবা কোথাও রেখে আমাদেরকে খবর দিবেন আমরা নিয়ে আসবো এগুলো বলতে বলতে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। আমরা এর কষ্ট আর সহ্য করতে পারছিনা। আপনাদের সবার সহযোগিতা চাই। সবাই সহযোগিতা করছেন আপনাদের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
আরাফ এর মা সহকারি শিক্ষিকা বিবি আয়েশা জানান, আপনাদের সন্তানদের আমরা নিজের সন্তান মনে করে পড়াশোনা করাই। আপনারাও আমার সন্তানকে আপনাদের সন্তান মনে করে সহযোগিতা করছেন। কিন্ত আমি তো মা। আমার কান্নার শেষ কোথায়! আমার সন্তানের কি অপরাধ ও তো এখনও শিশু। মা বাবা, স্বজন সহ বিদ্যালয়ের সবাই মানসিকভাবে অনেক দুর্বল হয়ে পড়েছেন। কেড়ে নিয়েছে তাদের ছোট সংসারের আনন্দ। এখন কেবলই কান্না আর হাহাকার এ যেন এক নিস্তব্ধতায় তাদের জীবন যাপন।
উল্লেখ্য, গত (৪ জানুয়ারি) রবিবার সকাল সাড়ে দশ ঘটিকার সময় শিশু আরাফকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না মর্মে স্থানীয় বিভিন্ন মসজিদে মাইকিং করে খবরটি প্রচার করা হয়। এরই মধ্যে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্রমান্বয়ে ভিড় বাড়তে থাকে। স্থানীয় লোকজন, অভিভাবকগনসহ নারি পুরুষ ও শিক্ষার্থীরা তাৎক্ষণিক মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েন।
প্রতিদিনের ন্যায় করমুল্যাহপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষিকা বিবি আয়েশা'র পুত্র সন্তান আজিমুল ইসলাম আরাফ (৪) স্কুলের আঙ্গিনায় খেলাধুলা করতো। বেশীরভাগ সময় সে শহীদ মিনার ও বেষ্টনীর ভিতরে কিংবা মায়ের সাথে সময় কাটাতো। ঔদিন শিক্ষার্থীদের ভর্তি সংক্রান্ত কাজ বিধায় শিশুটির মা অফিস কাজে ব্যস্ত ছিলেন। মাত্র ৮/১০ মিনিটের ব্যবধানে তাকে খুঁজতে আসেন মা কিন্ত কোথাও পেলেন না তাকে। এরপর স্থানীয়দের সহযোগিতায় আশপাশের মসজিদে মাইকিং সহ সবাই নেমে পড়েন খুঁজতে। পরবর্তীতে দাগনভূঞা থানা ও ফায়ার সার্ভিসকে বিষয়টি জানানো হয়। ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ প্রশাসন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। বিদ্যালয়ের পশ্চিমে ও উত্তর পাশে পুকুর থাকায় প্রাথমিকভাবে সন্দেহ হলে ফায়ার সার্ভিস টিম পুকুরে নেমে তল্লাশি করেন। সম্পূর্ণ নিশ্চিত হতে জেলেদের খবর দিয়ে জাল টেনে দুটি পুকুর পরিক্ষা করে দেখেন। তাতে কোন ফলাফল আসেনি। ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফয়জুল আজীম নোমান, মোহাম্মদ ইব্রাহিম আখন্দ ফেনীর ফায়ার সার্ভিস লিড়ার ও প্রতিনিধিগন, স্থানীয় লোকজনসহ শত শত মানুষ।
সকাল দশটার পর তাকে খাবার খাইয়ে মুখ ধুয়ে দিয়ে তিনি অফিসের কাজ করছেন। তিনি দেখেছেন সে রুমের বাহিরে অর্থাৎ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে গিয়েছে। ৮/১০ মিনিট পরেই তিনি বাহিরে দেখতে যান। গিয়ে দেখেন সে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে কোথাও নেই। পরবর্তীতে বিদ্যালয়ের শিক্ষক - শিক্ষিকা সবাই বের হন আরাফকে খুঁজতে। কিন্ত দীর্ঘসময় পার হলেও মেলেনি তার সন্ধান
দাগনভূঞা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফয়জুল আজীম নোমান জানান, প্রাথমিক ধারণামতে সবগুলো স্থানে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। সন্দেহজনকভাবে সবকিছু দেখা হচ্ছে। বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা কাজ করছেন। তার খোঁজ পেতে আইনের সর্বোচ্চ দিয়ে আমরা অব্যাহত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আপনারা সবাই দয়া করে চোখ কান খোলা রেখে আরাফকে সন্ধান পেতে সহযোগিতা করুন।