
X
পিরোজপুর জেলার নেছারাবাদ (স্বরূপকাঠি) উপজেলার সোহাগদলে অবস্থিত স্বরূপকাঠি কলেজিয়েট একাডেমী একটি সুপরিচিত ও ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ১৯৭৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যালয়টি বরিশাল বোর্ডের অধীনে মাধ্যমিক (SSC) পর্যায়ে বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় পাঠদান করে এবং দীর্ঘ ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে মানসম্মত ফলাফল ও সহশিক্ষা কার্যক্রমে (স্কাউট, কুইজ প্রতিযোগিতা) শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করে আসছে।
আজ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী ৫০ তম বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও অতিথিদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রফেসর মোহাম্মদ আজমল হোসেন, অধ্যক্ষ সরকারি স্বরূপকাঠি কলেজ। উদ্বোধনী দিনে বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন ধরনের ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে। দৌড়, লং জাম্প, হাই জাম্প, বল নিক্ষেপসহ নানা ইভেন্টে শিক্ষার্থীদের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণ পুরো প্রাঙ্গণকে উৎসবমুখর করে তোলে।
খেলাধুলার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় ছিল মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সংগীত, নৃত্য ও আবৃত্তির মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা তাদের প্রতিভা তুলে ধরলে উপস্থিত অতিথি, শিক্ষক ও অভিভাবকরা উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন। এই আয়োজন শিক্ষার্থীদের শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি মানসিক ও মেধা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে সংশ্লিষ্টরা মত প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রফেসর মোহাম্মদ আজমল হোসেন, অধ্যক্ষ সরকারি স্বরূপকাঠি কলেজ। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, “শিক্ষার মূল লক্ষ্য শুধু পরীক্ষায় ভালো ফলাফল নয়, বরং শারীরিক, মানসিক ও নৈতিক দিক থেকে একজন পূর্ণাঙ্গ মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠা। ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড শিক্ষার্থীদের সেই পথেই এগিয়ে নিয়ে যায়।” তিনি শিক্ষার্থীদের নিয়মিত খেলাধুলা ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বরূপকাঠি কলেজিয়েট একাডেমীর সাবেক সভাপতি আলহাজ্ব আবদুল্লাহ আল বেরুনি সৈকত, অধ্যাপক ফজলুল হক (অব) সরকারি স্বরূপকাঠি কলেজ, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রাজ্জাক সহ বিদ্যালয়ের সাবেক কার্যকরি পরিষদের সদস্য সহ ছাত্র ছাত্রীদের অভিভাবক বৃন্দ।
বিদ্যালয়ের সভাপতি উপজেলা নির্বাহী অফিসার অমিত দত্ত বিশেষ কারণে উপস্থিত হতে পারেননি। তবে তিনি মুঠো ফোনে বলেন, এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের মধ্যে সৌহার্দ্য, সহযোগিতা ও প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব সৃষ্টি করে। তিন দিনব্যাপী এই অনুষ্ঠানের সমাপনী দিনে বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হবে।
অনুষ্ঠানে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ পরিণত হয় এক আনন্দঘন উৎসবস্থলে।