
X
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ক্ষমতায় যাওয়ার সুযোগ পেলে ইনশাল্লাহ সবাইকে নিয়ে সরকার গঠন করা হবে। তিনি বলেন, ‘সবাইকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশকে এগিয়ে নিতে চাই। জাতি ও ধর্ম নির্বিশেষে সবার প্রতি ইনসাফ কায়েম করা হবে।’
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে সিরাজগঞ্জ জেলা জামায়াতের আয়োজনে ইসলামিয়া সরকারি কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত এক নির্বাচনী জনসভায় এসব কথা বলেন তিনি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বিচারব্যবস্থায় ইনসাফ কায়েম হলে দেশের উন্নতি ত্বরান্বিত হবে। স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, জামায়াত ক্ষমতায় গেলে মানসম্মত স্বাস্থ্যনীতির মাধ্যমে জনস্বাস্থ্যের উন্নতি করা হবে।
সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর ভাঙনের কথা তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, প্রতি বছর নদীভাঙনে মানুষ সর্বস্বান্ত হচ্ছে। জামায়াত ক্ষমতায় গেলে যমুনা নদী খনন, নদীর বাঁধ শক্তিশালী করা ও নদী শাসনের মাধ্যমে সিরাজগঞ্জের উন্নয়ন করা হবে। তিনি আরও বলেন, সিরাজগঞ্জের দুগ্ধ উৎপাদন ঢাকায় পাঠানোর পরিবর্তে সারা দেশের চাহিদা পূরণে উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং তাঁতশিল্পে জড়িত শ্রমিকদের দুঃখ-দুর্দশা লাঘবে কাজ করা হবে।
দুর্নীতির বিষয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা ক্ষমতায় গেলে অনিয়ম, দুর্নীতি, চুরি ও চাঁদাবাজিকে প্রশ্রয় দেব না। কেউ চাঁদাবাজি করলে তাদের শিকড় উপড়ে ফেলা হবে। আমরা দুর্নীতি করব না, কাউকে করতেও দেব না।’ এ সময় তিনি আসন্ন নির্বাচনে দুর্নীতিবাজ ও চাঁদাবাজদের বয়কট করার আহ্বান জানান।
নারীদের নিরাপত্তা ও উন্নয়নের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, জামায়াতসহ দশ দলীয় জোট ক্ষমতায় গেলে নারীদের ঘরে-বাইরে ও কর্মস্থলে সুরক্ষা দেওয়া হবে এবং নারীদের উন্নয়নে কাজ করা হবে। যারা নারীদের নিয়ে মিথ্যা মায়াকান্না করেন, তারাই নারীদের ক্ষতি করেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
জুলাই সনদ প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে ভোট দিতে হবে। হ্যাঁ ভোট দিলে ওসমান হাদী হত্যার বিচার এবং জুলাইয়ের শহীদদের বিচার সম্ভব হবে। যারা ‘না’ ভোটের পক্ষে থাকবে, তারা ভারতীয় আধিপত্যের দালাল হিসেবে চিহ্নিত হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা শাহিনুর আলমের সভাপতিত্বে জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং সিরাজগঞ্জ-৪ (উল্লাপাড়া-সলঙ্গা) আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান।
এছাড়া সিরাজগঞ্জ -৩ (তাড়াশ ও রায়গঞ্জ) আসনে খেলাফত মজলিস মনোনীত দশ দলীয় জোটের প্রার্থী মুফতি এনায়েতুল্লাহ আব্দুর রউফ, সিরাজগঞ্জ-৫ (শাহজাদপুর) আসনে এনসিপি মনোনীত দশ দলীয় জোটের প্রার্থী এস এম সাইফ মুস্তাফিজ, জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির ও সিরাজগঞ্জ-৫ (বেলকুচি) আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী অধ্যক্ষ আলী আলম, সিরাজগঞ্জ-২ (সদর ও কামারখন্দ) আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মওলানা মো. জাহিদুল ইসলাম, জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক শহিদুল ইসলাম, ছাত্রশিবিরের সিরাজগঞ্জ শহর শাখার সভাপতি শামীম রেজা এবং জেলা শিবিরের সভাপতি আব্দুল আজিজ।