আলোচিত গফুর মাষ্টারের পাশে দাড়ালেন বিশিষ্ট সমাজসেবক এ্যাড আহসান হাবিব

তেতুলিয়া (পঞ্চগড়) প্রতিনিধি

সারাবাংলা

বয়সের ভারে আজ নুব্জ জীবনের গতি থেমে যাওয়া ৭০ বছর বয়সী গফুর মাষ্টারের পাশে দাড়ালেন মানবতার ফেরিওয়ালা এ্যাড

2026-01-25T13:52:47+00:00
2026-01-25T13:52:47+00:00
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬ ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬
   
আলোচিত গফুর মাষ্টারের পাশে দাড়ালেন বিশিষ্ট সমাজসেবক এ্যাড আহসান হাবিব
তেতুলিয়া (পঞ্চগড়) প্রতিনিধি
প্রকাশ: রোববার, ২৫ জানুয়ারি, ২০২৬, ১:৫২ পিএম   (ভিজিট : ৯৮)
X

বয়সের ভারে আজ নুব্জ জীবনের গতি থেমে যাওয়া ৭০ বছর বয়সী গফুর মাষ্টারের পাশে দাড়ালেন মানবতার ফেরিওয়ালা এ্যাড আহসান হাবীব । গফুর মাষ্টারের বাড়িতে পানির সমস্যা সমাধানের জন্য একটি  টিউবওয়েল ও একটি নিরাপদ টয়লেটের ব্যবস্থা করে দেন। 

আহসান হাবীব  একজন  নিবেদিত সেচ্ছাসেবক। আত্ম মানবতার কল্যানে জীবনের মূল্যবান দায়িত্ব পালন করেছেন হত দারিদ্র মানুষের পাশে। মানুষের পাশে দাড়িয়ে  নির্মল আনন্দ ছড়িয়ে দিয়ে মানবতার পথ তৈরী করেছেন জীবনের বাঁকে বাঁকে। স্বপ্ন দেখেন বৈষম্যহীন সমাজ বাস্তবতার নতুন বন্দোবস্ত। যেখানে জীবনের প্রতিটি প্রাণই মূল্যবান। জাতি ও ধর্মের কোন কোন বৈষম্য না রেখে একেছেন মানব সৃষ্টির মহান বায়োলজিক্যাল পট। 

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার দেবনগড় ইউনিয়নের ঝালিংগীগছ গ্রামের গফুর গফুর মাষ্টার।  নিজের ভবিষ্যতের দিকে না তাকিয়ে ৫০ বছর ধরে শিক্ষকতার পেশায় জীবন উৎস্বর্গ করেছেন। আজ  ৭০ বছর বয়সে জীবন থমকে গেছে। গ্রামের হত দারিদ্র পরিবারের সন্তানদের বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে প্রাইভেট পরিয়ে দু- বেলা খাবার আর কিছু পয়সায় প্রাইভেট খরচের বিনিময়ে পড়িয়েছেন । ৫০ বছর ধরে স্কুল ও মাদ্রাসা পড়ুয়া শত শত  শিশু শিক্ষার্থীদের হাতেখড়ি দিয়ে শিক্ষার আলোয় আলোকিত করেছেন। 

চাওয়া ছিল খুবই সামান্য। দু বেলা খাওয়া আর মাস শেষে কিছু টাকা। যাতে নিজের চলার পথটা সহজ হয়। গরীব দুঃখী পরিবারের সন্তানদের পড়াশুনার জন্য বাড়তি টাকা না থাকায় , কিংবা স্কুলের শিক্ষকদের কাছে প্রাইভেট পড়ার খরচ যোগান দিতে অপারগ অবিভাবকরা খুজে নিতেন গফুর মাষ্টার কে। গফুর মাষ্টারের নেই কোন চাওয়া উচ্চ বিলাসিতা নেই উচ্চ আকাংক্ষা। নিজেই ছুটে যেতেন স্টুডেন্ট এর বাসায় । সকাল থেকে সন্ধা। 

এভাবে বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে ছাত্রছাত্রী পড়িয়ে নিজের সংসার জীবনের কথা ভূলেই গিয়েছিলেন গফুর মাষ্টার। সংসারের প্রতি উদাসীনতার কারণে স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে বাপের বাড়িতে আশ্রয় গ্রহন করে। একা হয়ে যায় গফুর মাষ্টার।  কিন্তু কোন দিন কোন অভিযোগ ছিলনা। আজ বেলা শেষে চার দেয়ালে অন্ধকার । খাদ্য বস্ত্র চিকিৎসা সমস্যার মত মৌলিক  সমস্যা গুলো দরজায় এসে তাড়া করছে  সকাল বিকাল সন্ধা। 

সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেইসবুকের পঞ্চগড় কমিউনিটি নিউজ পেজ-এ খবরটি ছড়িয়ে পড়লে দ্রুতই তা ভাইরাল হয়ে যায়। খবরটি শোনা মাত্রই এগিয়ে আসেন অনেকেই। তার মধ্যে অন্যতম এ্যাড আহসান হাবীব মানবতার ফেরিওয়ালার মত এগিয়ে আসেন একবুক ভরসা আর সাহস নিয়ে। প্রাথমিক ভাবে এ্যাড আহসান হাবীবের পিতা আলহাজ্ব মোশারফ হোসেন কিছু আথির্ক সহযোগিতা নিয়ে এগিয়ে আসেন এর পর নিজেই এসে সমস্যাগুলোর কথা শুনে একটা একটা করে সমাধান করার আশ্বাস দেন। এবং গফুর মাষ্টার ভবিষ্যৎ  জীবন  নিয়ে বৃহত্তর সহযোগিতা করার পরিকল্পনার কথা জানান। 

ঝালিংগীগছ গ্রামের মুনীর হোসেন বলেন গফুর স্যার সারাজীবন শিক্ষাদানের উপর নিজের জীবন বিলিয়ে দিয়েছেন। কখনও কিছুই চাওয়া ছিলনা তার। আজ স্যারের জন্য হাবিব ভাই দাড়িয়েছেন। আমরা খুবই খুশি। হাবীব ভাইয়ের এই মানবিক কাজের জন্য। স্যারকে নিয়ে হাবিব ভাইয়ের ভবিষ্যত পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য দোয়া রইল। গফুর মাষ্টার বলেন , জীবন থেমে গিয়েছিল – হাবিবের মত মানুষ পেয়ে জীবনে বাচতে ইচ্ছে করে। আমার শারীরীক অবস্থা ভাল না। বুকের ব্যাথাটা বাড়ছে । একজন ভাল চিকিৎসকের সুচিকিৎসার প্রয়োজন।

শুক্রবার ২৩ জানুয়ারী /২৬ সকালে শীতের কম্বল ও ফলমূল নিয়ে গফুর মাষ্টার কে দেখতে এসে টিউবওয়েল ও টয়লেট স্থাপনের কাজ ও ভবিষ্যত পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন এ্যাড আহসান হাবিব। তিনি বলেন স্যার এখন অসুস্থ । রোজগার বন্ধ হয়ে গেছে । এখন আর আগের মত বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে ছাত্র পড়াতে পারেন না। আমরা স্যারের বাড়িটিকেই প্রতিষ্ঠানিক রুপ দিতে চাই। স্যার যেন নিজবাড়িতে থেকে ছাত্র পড়ানোর কাজ চালিয়ে যেতে পারেন সে লক্ষ্যে পদক্ষেপ গ্রহন করছি। 





Loading...
Loading...


সারাবাংলা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy