দীর্ঘ ২২বছর ধরে সুবিধা বঞ্চিত রাণীনগরের শফিকপুর কারিগরি কলেজ

রাণীনগর, নওগাঁ প্রতিনিধি

সারাবাংলা

নওগাঁর রাণীনগরের প্রত্যন্ত অঞ্চল শফিকপুর। উপজেলার শেষ সীমানা হওয়ায় আধুনিকতার ছোঁয়া থেকে বঞ্চিত এই অঞ্চলের মানুষরা। প্রত্যন্ত এই

2026-01-31T13:35:02+00:00
2026-01-31T13:45:27+00:00
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬ ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬
   
দীর্ঘ ২২বছর ধরে সুবিধা বঞ্চিত রাণীনগরের শফিকপুর কারিগরি কলেজ
রাণীনগর, নওগাঁ প্রতিনিধি
প্রকাশ: শনিবার, ৩১ জানুয়ারি, ২০২৬, ১:৩৫ পিএম  আপডেট: ৩১.০১.২০২৬ ১:৪৫ পিএম  (ভিজিট : ১০৬)
X

নওগাঁর রাণীনগরের প্রত্যন্ত অঞ্চল শফিকপুর। উপজেলার শেষ সীমানা হওয়ায় আধুনিকতার ছোঁয়া থেকে বঞ্চিত এই অঞ্চলের মানুষরা। প্রত্যন্ত এই অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের মাঝে কারিগরি শিক্ষার আলো পৌঁছে দিতে ২০০৪ সালে স্থাপিত হয় শফিকপুর টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিজনেজ ম্যানেজমেন্ট কলেজ। এই কলেজ থেকে প্রতি বছরই শতাধিক শিক্ষার্থী কারিগরি বিষয়ে মাধ্যমিক ডিগ্রি অর্জন করে দেশের বিভিন্ন নামীদামী বিশ^বিদ্যালয়ে পড়ালেখার সুযোগ পাচ্ছে।


বিদ্যাপিঠটি প্রতিবছর ফলাফলের দিকেও ভালো অবস্থান ধরে রাখলেও ২২বছর ধরে সরকারের বিনা বেতন ও ভাতায় স্বেচ্ছায় শ্রম দিয়ে আসছে ১০জন শিক্ষক ও কর্মচারী। একদিন সরকারি সুবিধা পাওয়ার আশা বুকে ধারণ করে যুগের পর যুগ পার করে দিচ্ছেন তারা। বিগত সময়ে রাজনৈতিক যাঁতাকলে পড়ে অনেক দুর্বল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিও সুবিধা পেলেও এই প্রতিষ্ঠানের ভাগ্যে জোটেনি কিছুই। কক্ষ স্বল্পতা, ভগ্ন পাঠদান কক্ষ, নষ্ট হওয়া টিনের ছাউনির নিচে বছরের পর বছর শিক্ষা গ্রহণ করছে অবহেলিত অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা। প্রত্যন্ত এই অঞ্চলের মানুষদের কাছে কারিগরি শিক্ষাকে আরো আকর্ষনীয় করতে অবহেলিত এই প্রতিষ্ঠানকে আধুনিকায়নের মাধ্যমে সরকারের সুবিধার আওতায় আনার কোন বিকল্প নেই বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।


বিদ্যাপিঠের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী মো: পারভেজ হোসেন ও দ্বাদশ শ্রেণির মোছা: আকলিমা আক্তার জানান, শফিকপুর এলাকাটি প্রত্যন্ত অঞ্চল। এছাড়া উপজেলা এলাকায় কারিগরি পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ইচ্ছে থাকলেও সেগুলোতে ভর্তি হওয়া সম্ভব হয় না। আর যারা গরীব পরিবারের সন্তান তাদের পক্ষে আরো কঠিন বিষয়। তাই বাড়ির পাশের এই বিদ্যাপিঠটির অবস্থা খুব খারাপ হলেও এখানে  ভর্তি হতে হয়েছে। কিন্তু যুগের পর যুগ পার হলেও একটি আধুনিকমানের একাডেমিক ভবন হচ্ছে না। যদি এই প্রতিষ্ঠানে একটি আধুনিক ভবন হতো তাহলে এই অঞ্চলে কারিগরি শিক্ষা বিস্তারে এক মাইলফলক হিসেবে কাজ করতো। আর সরকারি সুবিধা পেলে এখানকার শিক্ষক ও কর্মচারীরা আরো যতœ সহকারে পাঠদান করতে পারতেন।


কলেজের অধ্যক্ষ হারুনুর রশিদ জানান, যুগের পর যুগ অবহেলিত এই অঞ্চলে কারিগরি শিক্ষা ছড়িয়ে আসছে কলেজটি। কিন্তু এখন পর্যন্ত সরকারের কোন বড় ধরণের সুবিধা পায়নি অবহেলিত এই প্রতিষ্ঠানটি। স্থানীয় শিক্ষানুরাগী মানুষদের সার্বিক সহযোগিতা আর নিজেদের অর্থায়নে গুটি কয়েক পাঠদান কক্ষ নির্মাণ করা হলেও অর্থাভাবে এখন পর্যন্ত কক্ষগুলোতে ভালো মানের দরজা কিংবা জানালা স্থাপন করা সম্ভব হয়নি। কলেজের মোট ৫টি কক্ষের মধ্যে ৩টি কক্ষতে পাঠদানের কার্যক্রম চলমান রাখা হয়েছে। নষ্ট হওয়া টিনের ছাউনির কক্ষ পরিত্যক্ত হলেও বাধ্য হয়ে সেখানে অফিস ও পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। শিক্ষকদের বসার জন্য নেই ভালো কোনো কক্ষ। বিগত সময়ে স্থানীয় এমপিদের রাজনৈতিক যাঁতাকলে পড়ে আজোও উন্নয়ন বঞ্চিত বিদ্যাপিঠটি। যে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তৎকালীন এমপিদের চাহিদা পূরণ করতে পেরেছেন তাদের একাডেমিক ভবনের প্রয়োজন না থাকলেও বহুতল ভবন বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। অথচ কয়েক যুগ ধরে বিনা বেতন আর ভাতায় আমরা প্রত্যন্ত অঞ্চলে কারিগরি শিক্ষা বিস্তার করে আসছি।


উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও কলেজ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মো: রাকিবুল হাসান জানান, প্রতিষ্ঠানটির খুবই দুরবস্থা। উপজেলা প্রশাসনের সামান্য বরাদ্দ দিয়ে বিদ্যাপিঠের তেমন উন্নয়ন করা সম্ভব নয়। তবুও যতটুকু পারা যায় চেস্টা অব্যাহত রাখা হয়েছে। এছাড়া সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রতিষ্ঠানের এমন দূরবস্থার কথা জানানো হয়েছে। আগামীতে সরকারি ভাবে এই কলেজের উন্নয়নের বিষয়ে জোরালো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।  







Loading...
Loading...


সারাবাংলা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy