
X
সুনামগঞ্জ-৪ আসনে ফ্যাসিবাদ আমলে আন্দোলন সংগ্রামের অগ্রসৈনিক বিএনপি মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম নুরুলের ওপরই নির্বাচনে আস্তা রাখতে চান সাধারণ ভোটার।
তরুণ এই প্রার্থীর নেতৃত্বে হাওরের রাজধানীতে ধানের শীষের পক্ষে বইছে গণজাগরণ। তরুণ প্রজন্ম থেকে শুরু করে সকল বয়সের নারী-পুরুষের মাঝে গ্রহনযোগ্যতা রয়েছে তার৷ এই আসনের উন্নয়নে নুরুলের বিকল্প নেই বলে মনে করছেন বেশিরভাগ ভোটার৷
জানা যায়, সুনামগঞ্জ-৪ (সদর-বিশ্বম্ভরপুর) আসনে একতরফা তিনটি নির্বাচন ছাড়া এই আসনে অতীতে বিএনপি, আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা পালাক্রমে নির্বাচিত হয়েছেন। চব্বিশের অভ্যুত্থানের পর মূল প্রতিদ্বন্ধীতায় চলে এসেছে বিএনপি। অবস্থান সৃষ্টি করতে বসে নেই জামায়াতও৷ আর এই আসনে চার বার নির্বাচিত জাতীয় পার্টি এখন অস্তিত্ব সংকটে৷ ভোটাররা ঝুঁকেছেন বিএনপির দিকে। আর এর মূলে রয়েছেন ধানের শীষের প্রার্থী নূরুল ইসলাম নুরুলের ক্যারিশিম্যাটিক নেতৃত্ব৷ ফ্যাসিবাদ আমলেও তরুণ প্রজন্মকে ঐক্যবদ্ধ রেখেছিলেন নূরুল। প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামে ভয়-ভীতি উপেক্ষা করে রাজপথে নেতাকর্মীদের ঢল নামত তার নেতৃত্বে৷
ভোটাররা বলছেন, অতীতের দলের জন্য যে ত্যাগ স্বীকার করেছেন নুরুল, তারই ধারাবাহিকতায় ধানের শীষের পক্ষে জনজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। এখানে বিপুল ভোটে জিতবে ধানের শীষ৷
জানা যায়, সুনামগঞ্জ সদর আসনে পাঁচজন মনােনয়ন প্রত্যাশী ছিল বিএনপির। তাদের মধ্যে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভােকেট নুরুল ইসলাম নুরুল। আওয়ামী লীগ বিরােধী আন্দোলন-সংগ্রামে অগ্রণী ভূমিকা রাখায় হাইকমান্ডের নজর কেড়েছিলেন তরুণ এই নেতা। সংগঠক হিসেবেও সুপরিচিতি রয়েছে তার। মনোনয়ন পাওয়ার পর থেকে নেতাকর্মীদর ঐক্যবদ্ধ করার পাশাপাশি জোরেশোরে প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন নুরুল।
এই আসনে সিনিয়র আইনজীবী ও জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির অ্যাডভােকেট মুহাম্মদ শামসউদ্দিনকে প্রার্থী করছে জামায়াত। ভোটের মাঠে নিজেদের অবস্থান জানান দিতে নিয়মিত সভা-সমাবেশ ও প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।
এদিকে, বিএনপি প্রার্থী নুরুলের বিপরীত অপর যে চারজন দলীয় মনোনয়ন চেয়েছিলেন মনোনয়ন বঞ্চিত চারবারের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান দেওয়ান জয়নুল জাকেরীন নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন৷ মরমি কবি হাছন রাজার প্রপৌত্র জাকেরীন পারিবারিক কারণে এখানকার ভোটের মাঠ ‘ফ্যাক্টর’। তবে দলের সমর্থন ছাড়া কতদূর এগুতে পারবেন সেটি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে ভোটারদের মাঝে৷ তবে জাকেরীন নিজের অবস্থান ধরে রাখতে পারলে এই আসনে ত্রিমুখী লড়াইয়ের আভাস মিলছে।
বিএনপির প্রার্থী নুরুল ইসলাম বলেন, ফ্যাসিবাদ বিরােধী আন্দোলন সংগ্রাম ও রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে আমরা রাজপথে ছিলাম। এক মহূর্তের জন্যও রাজপথের দখল ছাড়িনি। যে কারণে দল আমাকে মূল্যায়ন করেছে। আমিও ঐক্যবদ্ধ বিএনপি নিয়ে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করতে চাই। পাশাপাশি এই অঞ্চলের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য খাত উন্নত করতে চাই।
জামায়াতর প্রার্থী শামস উদ্দীন বলেন, ভোটের মাঠে দিন দিন আমাদের অবস্থান ভালো হচ্ছে৷ জয়ের লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি আমরা। আমাদের লক্ষ্য নির্বাচিত হয়ে সদর আসনকে উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগের ক্ষেত্রে একটি মডেল আসনে পরিণত করা।
স্বতন্ত্র প্রার্থী জয়নুল জাকেরীন বলেন, আমার বয়স প্রায় ৮০ বছর। জীবনের শেষ নির্বাচন হিসাবে এই নির্বাচনে অংশ নিয়েছি। যদি নির্বাচিত হই, তবে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি আর দুর্নীতির বিরুদ্ধে কাজ করা হবে আমার অগ্রাধিকার।