লৌহজংয়ে প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গাছ কেটে ফেললেন প্রধান শিক্ষক

লৌহজং (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধি

সারাবাংলা

মুন্সিগঞ্জের লৌহজং উপজেলায় নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বেশ কিছু গাছ বিক্রি করে কেটে ফেলেছে

2026-02-05T13:30:37+00:00
2026-02-05T13:30:37+00:00
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬ ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬
   
লৌহজংয়ে প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গাছ কেটে ফেললেন প্রধান শিক্ষক
লৌহজং (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১:৩০ পিএম   (ভিজিট : ৪৯)
X

মুন্সিগঞ্জের লৌহজং উপজেলায় নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বেশ কিছু গাছ বিক্রি করে কেটে ফেলেছে স্কুলের প্রধান শিক্ষক। গত রবিবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সরেজমিনে গনমাধ্যমকর্মীরা গিয়ে দেখতে পান লৌহজং উপজেলার মেদিনী মন্ডল আনোয়ার চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়ের দেয়ালের ভিতরের বেশ কিছু ইউকেলিপটস/আকাশমনি গাছ কাটছে কাঠুরে শ্রমিকগণ। ঐ দিন শ্রেনী কার্যক্রম বন্ধ ছিলো।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এই গাছ গুলোকে আগ্রাসী ও ক্ষতিকারক বলে উল্লেখ করে তার মদদ পুষ্ট স্হানীয় কিছু ব্যাক্তিকে বুঝিয়ে এ কাজ করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অথচ এসব গাছ কাটা বা বিক্রি করতে হলেও যে সরকারী নিয়ম নীতি মেনে করতে হয় তা জেনও সে সব নিয়ম নীতির কোন তোয়াক্কা না করেই তিনি তার নিজের অদৃশ্য ক্ষমতা খাটিয়ে এগুলো বিক্রি করে দিয়ে কেটে ফেলার আয়োজন করেন।

স্হানীয় সুত্র থেকে জানা যায়, এই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিজ ক্ষমতা খাটিয়ে অত্র বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সদস্য মো. ঝিলু হাওলাদরের কাছে নাম মাত্র মুল্যে বিক্রি করেন। অথচ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গাছ কাটতে হলে মন্ত্রনালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী বন বিভাগকে অবগত করে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করার কথা থাকলেও সেই নিয়ম নীতির কোন তোয়াক্কা না করেই বিক্রি করে দিয়ে বিদ্যালয় ছুটির দিনে কাটতে শুরু করেন। বিদ্যালয়টির আশপাশ জুড়ে বিভিন্ন প্রকার প্রচুর গাছ ছিলো। এর আগেও তিনি এভাবেই বেশ কিছু গাছ বিক্রি করে দিয়ে পুরো বিদ্যালয়ের এলাকা খালি করে দেন। তার ব্যাক্তিগত টাকার দরকার হলেই তিনি এসব গাছ বিক্রি করতে থাকেন।

অথচ শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী দেখা যায় স্মারক নং: ২২,০০,০০০০.০৬৬,৩১.০০১.২৫.১০০ তারিখ- ০১ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩২, ১৫ মে, ২০২৫ এর এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে পরিবেশ, প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্রা সংরক্ষণের স্বার্থে এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার পুরণে সরকারি, বেসরকারি সংস্থা ও ব্যক্তি পর্যায়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচীতে আগ্রাসী প্রজাতির ইউক্যালিপটাস এবং আকাশমনি গাছের চারা রোপণ, উত্তোলন ও বিক্রয় নিষিদ্ধ করা হলো। উক্ত আগ্রাসী প্রজাতির গাছের চারা রোপণের পরিবর্তে দেশিয় প্রজাতির ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করে বনায়ন করতে হবে।

আবার গাছ কাটার বেপারেও সঠিক নিয়ম পালন করার নির্দেশনা রয়েছে যে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ইউক্যালিপটাস ও আকাশমনি গাছ রোপণ, উত্তোলন ও বিক্রয় ১৬ জুন ২০২৫-এর প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী নিষিদ্ধ, কারণ এগুলো আগ্রাসী প্রজাতি। পুরনো বা ঝুঁকি সৃষ্টিকারী গাছ কাটার জন্য জেলা/উপজেলা কমিটির অনুমোদন এবং বন বিভাগের ৩ নং ফরম পূরণ করে আবেদন করতে হবে। দেশীয় ফলজ ও ঔষধি গাছ রোপণের নির্দেশনা রয়েছে।

ইউক্যালিপটাস গাছ কাটা ও বিক্রয়ের নিয়মাবলী: নিষেধাজ্ঞা: পরিবেশ, প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার্থে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ইউক্যালিপটাস এবং আকাশমনি গাছের চারা রোপণ ও চারা উত্তোলন নিষিদ্ধ। অনুমোদন: প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব জায়গায় অবস্থিত গাছ বা পুরোনো গাছ কাটার জন্য জেলা বা উপজেলা পর্যায়ের কমিটির (যেখানে বন কর্মকর্তা অন্তর্ভুক্ত) অনুমোদন অত্যাবশ্যক।


আবেদন প্রক্রিয়া: গাছ কাটার জন্য বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (যেমন: ঢাকা সামাজিক বন বিভাগ) বরাবর সরকারি প্রতিষ্ঠানের জন্য নির্দিষ্ট ফরম-০৩ (অঢ়ঢ়ষরপধঃরড়হ ঋড়ৎস ০৩) পূরণ করে আবেদন করতে হয়। গাছ নিলাম: অনুমোদিত গাছগুলো নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করতে হবে।


বিকল্প ব্যবস্থা: নিষিদ্ধ গাছের পরিবর্তে দেশীয় প্রজাতির ফলজ, বনজ ও ঔষধি চারা রোপণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অনুমোদন ছাড়া গাছ কাটা অবৈধ এবং এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। গাছ কাটার বিষয়ে মেদিনী মন্ডল আনোয়ার চৌধুরী উচ্চ  বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নারায়ন চন্দ্র মন্ডলের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি ইউএনও সাহেব জানেন বলে জানান। গনমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্নের মুখে তিনি পরক্ষণেই এই কথা পরিবর্তন করে বলেন কয়েক মাস আগের বিদায়ী ইউএনও তাকে মৌখিক ভাবে বলেছেন। ইউএনও সাহেব নিয়ম উপেক্ষা করে মৌখিক অনুমোদন দিতে পারে কিনা জানতে চাইলে তিনি কোন সদুত্তর দিতে পারেননি এমনকি এই বিষয়ে ম্যানেজিং কমিটির রেজুলেশন, অনুমতি দেওয়ার কোন সঠিক কাগজ পত্রও দেখাতে পারেননি।

এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শরীফ মোহাম্মদ মর্তুজা আহসান মুন্সিগঞ্জের বার্তাকে বলেন, আমি যেহেতু এ কমিটির সদস্য নই তাই এ বিষয়ে আমি কিছু জানিনা। যেনে জানাবো।

“ওই গাছ কাটার বিষয়ে আমাকে লিখিত বা মৌখিক ভাবে জানানো হয়নি।”বিদ্যালয়ের গাছ কাটার একটি নিয়ম রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “বিদ্যালয়ের গাছ কাটতে হলে কারণ উল্লেখসহ ম্যানেজিং কমিটির রেজুলেশন করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে আবেদন দাখিল করতে হবে। এখানে একটি কমিটি আছে ওই কমিটির অনুমোদন সাপেক্ষে গাছ কাটা যাবে। কমিটির সদস্য স্থানীয় বন বিভাগের কর্মকর্তা এবং সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।”

এ বিষয়ে জানতে চাইলে লৌহজং বন বিভাগের বিট কর্মকর্তা মো. সেলিম মুন্সিগঞ্জের বার্তাকে বলেন, “কোনো প্রতিষ্ঠানের গাছ কাটতে হলে প্রথমে বন বিভাগকে অবগত করে গাছটি মেপে মূল্য নির্ধারণ করে বিক্রয়ের জন্য টেন্ডার আহ্বান করতে হবে। মেদিনী মন্ডল আনোয়ার চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়ের গাছ কাটার ব্যাপারে আমাকে অবগত করা হয়নি।”
লৌহজং উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও মেদিনী মন্ডল আনোয়ার চৌধুরী উচ্চ  বিদ্যালয়ের বর্তমান সভাপতি ফারজানা ববি মিতু মুন্সিগঞ্জের বার্তাকে বলেন, এ বিষয়টি আমার জানা আছে। আমি তাকে সময় দিয়েছি এরমধ্যে সমস্ত কাগজপত্র আমার কাছে সাবমিট করবে।





Loading...
Loading...


সারাবাংলা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy