প্রকাশ: সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৫:২৭ পিএম আপডেট: ১৬.০২.২০২৬ ৫:৩৫ পিএম (ভিজিট : ১৭৭)

X
খুলনার ঝিমিয়ে পড়া অর্থনীতিতে প্রাণ ফেরাতে এবং বেকারত্ব দূর করতে এখানে রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলের (ইপিজেড) আদলে একটি অত্যাধুনিক শিল্প নগরী গড়ে তোলা হবে। খুলনার শিল্পাঞ্চলখ্যাত খালিশপুর ও দৌলতপুর এলাকার হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে এক মহাপরিকল্পনার কথা ভাবছেন কেন্দ্রীয় বিএনপির ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক ও খুলনা-৩ আসনের বিএনপির বিজয়ী এমপি আলহাজ্ব রকিবুল ইসলাম বকুল। একইসঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা রাষ্ট্রায়ত্ত ও ব্যক্তি মালিকানাধীন কলকারখানাগুলো পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এ সময় তিনি বলেন, এই অঞ্চলের মানুষের প্রধান সমস্যা হলো কর্মসংস্থান এবং এই অভাব দূর করতে হলে পরিকল্পিত ও আধুনিক শিল্পায়নের কোনো বিকল্প নেই। তিনি বলেন, খুলনার সোনালী অতীত ছিল এই কলকারখানা গুলো। এই অচলাবস্থা কাটাতে বন্ধ হয়ে যাওয়া জুট মিলসহ সকল কলকারখানা পুনরায় চালু করা হবে এবং আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটিয়ে এসব মিলকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা হবে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, খুলনার ভৌগোলিক অবস্থান ও মোংলা বন্দরের বাণিজ্যিক সুবিধা কাজে লাগিয়ে এখানে বড় আকারের নতুন বিনিয়োগ আনা সম্ভব। ইপিজেডের আদলে শিল্প নগরী গড়ে তোলা হলে, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা খুলনার প্রতি আকৃষ্ট হবেন। যা পুরো দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনৈতিক মানচিত্র বদলে দেবে। নগর জীবনে ফিরে আসবে কর্মচঞ্চলতা।
বকুল আরো বলেন, অবহেলিত এই শিল্পাঞ্চলকে পুনরায় কর্মচঞ্চল করে তোলা এবং স্থানীয় যুবসমাজের জন্য দীর্ঘমেয়াদী কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করাই তার মূল লক্ষ্য। একটি আধুনিক ও শিল্পবান্ধব পরিবেশ তৈরির মাধ্যমে খুলনার হারানো ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারের করা হবে।
এছাড়া তিনি দৌলতপুর বিএল কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরে চেষ্টা করবেন। গড়ে তুলবেন বিশেষায়িত আধুনিক মানের হাসপাতাল। সকল অংশিজনদের সাথে নিয়ে খুলনাকে চাদাঁবাজ-সন্ত্রাসীমুক্ত নগরী হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গিকার করেন। তরুন ও যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে কারিগরি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন। গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে রকিবুল ইসলাম বকুল ধানের শীষেল প্রতীকে ৭৪ হাজার ৮৪৫ ভোট পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রার্থী দাড়িঁপাল্লা প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৬৬ হাজার ১০ ভোট। ৮ হাজার ৮৩৫ ভোঠের ব্যবধানে বিজয়ী হন।
বকুল বলেন, খুলনা ৩ এ সবার দায়িত্ব আমার। আমার পোস্টারে বা বিভিন্ন বিল বোর্ডে এবং প্যানায় এ স্লোগান ছিল। আমি ছাত্র জীবন থেকে বিশ্বাস করি সকলকে নিয়ে ভালো থাকা হচ্ছে রাজনৈতিক বিজয়। আমি খালিশপুর, দৌলতপুর ও খানজাহান আলী থানার সকল দলের এবং মতের ও ধর্মের মানুষকে একটা ম্যাসেজ দিয়েছিলাম, আমি নির্বাচিত হলে সকলের এমপি হবো। রাজনৈতিক সৌন্দর্য্য আমার চেয়ারম্যান তারেক রহমান সকলকে শিখিয়েছেন। আমি তার আদর্শ ও চিন্তার খুব কাছ থেকে উপলব্ধি করেছি এবং তা বাস্তবায়নে নির্বাচনের আগে যে ওয়াদা করেছি তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করবো। ভিন্ন মতাদর্শীদের সঠিক প্রস্তাব এবং সমালোচনা গ্রহণ করে একটি আদর্শ বাস্তায়ন করে দেখিয়ে দিতে চাই খুলনার উন্নয়নে আমি সকলের বকুল। নিজ দলের কোন নেতা বা কর্মী কোন প্রকার অপকর্মের সাথে জড়িয়ে পড়লে এবং তা প্রমান হলে কঠোর হাতে দমন করবেন এমন মন্তব্য করে বলেন, বিভাজনের রাজনীতি বন্ধ করে একটি জনকল্যাণ মুলক এলাকা প্রতিষ্ঠায় দলের একজন ক্ষুদ্র কর্মী হিসেবে নিজেকে নিয়োজিত রাখতে চাই।