মারা গিয়েছেন একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি জাহানারা আরজু

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিনোদন

একুশে পদকপ্রাপ্ত প্রথিতযশা কবি, সাহিত্যসম্পাদক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব জাহানারা আরজু আজ সোমবার (২ মার্চ) দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে

2026-03-02T16:13:32+00:00
2026-03-02T16:13:32+00:00
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬ ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬
   
মারা গিয়েছেন একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি জাহানারা আরজু
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: সোমবার, ২ মার্চ, ২০২৬, ৪:১৩ পিএম   (ভিজিট : ১২৪)
একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি জাহানারা আরজু
X

একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি জাহানারা আরজু

একুশে পদকপ্রাপ্ত প্রথিতযশা কবি, সাহিত্যসম্পাদক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব জাহানারা আরজু আজ সোমবার (২ মার্চ) দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে রাজধানীর গুলশানে নিজ বাসভবনে ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তিনি দীর্ঘদিন বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯৩ বছর।

মৃত্যুকালে তিনি দুই ছেলে, এক মেয়ে, নাতি-নাতনীসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী ও শুভানুধ্যায়ী রেখে গেছেন। তিনি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মোঃ আশফাকুল ইসলামের শ্রদ্ধেয় মাতা। তাঁর স্বামী মরহুম এ কে এম নুরুল ইসলাম ছিলেন বাংলাদেশের উপরাষ্ট্রপতি, আইনমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী, পাকিস্তান আমলে ঢাকা হাইকোর্টের বিচারপতি এবং সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার।

১৯৩২ সালের ১৭ নভেম্বর জন্মগ্রহণ করেন এই মহীয়সী নারী। অতি অল্প বয়সেই তাঁর সাহিত্যসাধনার সূচনা। ১৯৪৫ সালে ‘আজাদ’ পত্রিকার ‘মুকুলের মাহফিল’ এ তাঁর প্রথম কবিতা প্রকাশিত হয়। পরবর্তীকালে ‘সওগাত’, ‘মোহাম্মদী’, ‘বেগম’, ‘মিল্লাত’ ও ‘ইত্তেহাদ’সহ বিভিন্ন সাময়িকীতে তাঁর কবিতা ও রচনা নিয়মিত প্রকাশিত হতে থাকে।

তিনি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের প্রথম মহিলা সাপ্তাহিক ‘সুলতানা’ পত্রিকার প্রতিষ্ঠাকালীন সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন, যা নারীসম্পাদিত সাহিত্যধারায় এক ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত।

জাহানারা আরজুর কাব্যকর্মে মানবতাবোধ, মানবিক চেতনা ও প্রকৃতিপ্রেমের অনন্য সমন্বয় লক্ষ করা যায়। মাটি, মানুষ ও সমাজের বহুমাত্রিক অভিজ্ঞতাকে তিনি সহজ, স্বচ্ছ ও আবেগঘন ভাষায় রূপ দিয়েছেন। তাঁর লেখনীতে অন্তর্গত বেদনার অনুরণনের পাশাপাশি আশাবাদ ও আলোকিত মানবিকতার দীপ্ত প্রকাশ ছিল স্পষ্ট।

বাংলা সাহিত্যে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ১৯৮৭ সালে একুশে পদক লাভ করেন। সাহিত্যসাধনায় বিশেষ অবদানের জন্য তিনি সর্বমোট ২৬টি সাহিত্য পুরস্কারে ভূষিত হন। তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ ও রচনাবলি বাংলা সাহিত্যভাণ্ডারকে সমৃদ্ধ করেছে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

মরহুমার প্রথম নামাজে জানাজা আজ বাদ মাগরিব গুলশানের আজাদ মসজিদে অনুষ্ঠিত হবে। দ্বিতীয় জানাজা বাদ ঈশা ও তারাবির নামাজের পর মানিকগঞ্জ জেলার হরিরামপুর থানাধীন খলিলপুর নিজ গ্রামে অনুষ্ঠিত হবে। জানাজা শেষে তাঁকে সেখানেই তাঁর স্বামীর কবরের পাশে দাফন করা হবে।

বাংলা সাহিত্যাঙ্গনে তাঁর প্রয়াণ এক অপূরণীয় শূন্যতা সৃষ্টি করল। সাহিত্য ও সংস্কৃতির জগতে তাঁর অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।





Loading...
Loading...


বিনোদন এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy