প্রকাশ: সোমবার, ২ মার্চ, ২০২৬, ৮:৫১ পিএম আপডেট: ০২.০৩.২০২৬ ৮:৫৮ পিএম (ভিজিট : ১৫৩)

X
আলু চাষ করে ব্যাপক লোকসানের শিকা
পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার কৃষকেরা গত বছরের আলু চাষ করে ব্যাপক লোকসানের শিকার হলেও এবারও তাদের মুখে হাসি ফোটেনি।
গত বছর উৎপাদিত আলু ১৫-১৬ টাকা কেজি দরে বিক্রি করে দিশেহারা হয়ে পড়েছিলেন চাষিরা। সেই ধাক্কা কাটিয়ে ওঠার আগেই চলতি মৌসুমে উৎপাদিত আলুর বাজারদর আরও নিম্নমুখী হয়ে কৃষকদের কোমর ভেঙে দিয়েছে। সোমবার (২ মার্চ) উপজেলার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, খুচরা পর্যায়ে মানভেদে আলু বিক্রি হচ্ছে মাত্র ১০ টাকা কেজি দরে।
আরও কম দামে কিনতে চাইলে বিক্রেতারা বিশেষ ছাড় দিচ্ছেন। একসাথে ৫ কেজি আলু কিনলে পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৪০ টাকায়, যা পড়ে কেজিপ্রতি ৮ টাকা। অন্যদিকে পাইকারি বাজারে এই চিত্র আরও করুণ। পাইকারি বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৬ থেকে ৭ টাকা কেজি দরে। স্থানীয় কৃষক মো. জয়নাল আবেদীন বলেন, "গতবারও আলু বেচে খরচ উঠেনি।
এবার বীজ আলু, সারের দাম, শ্রমিকের মজুরি সবই বেশি ছিল। অথচ পাইকারী বিক্রি হচ্ছে ৬-৭ টাকায়। এই দামে উৎপাদন খরচই ওঠে না। কেবল আলু নয়, সবজির বাজারও অস্থির। বোদা বাজারে বর্তমানে বেগুনের খুচরা দাম ৬০ টাকা কেজি। তবে মাত্র একদিনের ব্যবধানে এই দাম কমেছে ২০ টাকা। গতকাল বেগুন ৮০ টাকা কেজি দরে খুচরা বিক্রি হয়েছে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরবরাহ বাড়লে দাম কমে আবার কমে গেলে দাম বাড়ে। তবে কৃষক পর্যায়ে উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ার ঘটনা বারবার তাদের ক্ষতির মুখে ফেলছে। সচেতন মহল বলছেন, কৃষকরা উন্নত জাতের বীজ ও প্রযুক্তি ব্যবহার করে।
কিন্তু বাজারে এই দরপতন রোধ করতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি কৃষকদেরও মজুত ও প্রক্রিয়াজাতকরণের দিকে মনোযোগ দিতে হবে। বোদা অঞ্চলের কৃষকেরা যাতে লোকসানের কবল থেকে রক্ষা পান, সেজন্য প্রশাসনের উদ্যোগ নেওয়া দরকার। এদিকে আলুর নিম্নমুখী বাজার আর বেগুনের অস্থির দামে সাধারণ ক্রেতারাও বিপাকে পড়েছেন। এক ক্রেতা জানান, "আলু সস্তা পেলে ভালো লাগে, কিন্তু সবজির দাম বেশি।