পুণ্য দোল-পূর্ণিমা তিথিতে পাবনায় শুরু হয়েছে শ্রী শ্রী ঠাকুর অনুকূলচন্দ্র-এর ১৩৮তম শুভ আবির্ভাব-বর্ষ স্মরণে তিনদিনব্যাপী মহোৎসব। প্রভাতে সমবেত প্রার্থনা, সন্ধ্যায় প্রদীপ প্রজ্জ্বলন, ধর্মালোচনা এবং দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত ভক্তদের মিলনমেলায় উৎসবের সূচনা হয়।
সোমবার (২ মার্চ) পাবনার হিমাইতপুর আশ্রম প্রাঙ্গণে মহোৎসবের উদ্বোধন করা হয়। প্রথম দিন থেকেই ভক্তদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে আশ্রম অঙ্গন।
সন্ধ্যায় আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের সিরাজগঞ্জ, পাবনা ও বগুড়া অঞ্চলের ট্রাস্টি অ্যাডভোকেট ইন্দ্রজিৎ সাহা। পরে আয়োজিত আলোচনা সভায় সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন অবসরপ্রাপ্ত ক্যাপ্টেন ডা. সরওয়ার জাহান ফয়েজ।
সৎসঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সহ-প্রতি ঋত্বিক প্রাণশঙ্কর দাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ধর্মালোচনা সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক সহ-প্রতি ঋত্বিক সৌমিত্র মজুমদার পলাশ।
‘দোল-দীপালির প্রাণনদীপনায় পরমতীর্থ’ শীর্ষক আলোচনায় বক্তব্য দেন চট্টগ্রামের সুমন ঘোষ বাদশা, ঋত্বিক পরিষদের সহ-ঋত্বিক সচিব অধ্যাপক মোহিত কুমার বিশ্বাস, সুনির্মল মন্ডল, প্রকৌশলী রণজিৎ বর্মন, মুকুল কুমার বর্দ্ধন, সিলেটের চন্দন কুমার সাহা, অধ্যাপক সমাপ্ত কুমার সাহা, সুশান্ত পাল বাচ্চু, তপন কান্তি দত্ত ও সিরাজগঞ্জের গগন ঘোষ প্রমুখ।
এর আগে সোমবার দুপুরে অনুষ্ঠিত যুব সম্মেলনে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পাবনা জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম-সম্পাদক মোসাব্বির হোসেব সঞ্জু। সৎসঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি সহ-প্রতি ঋত্বিক বিকাশ চন্দ্র দাসের সভাপতিত্বে সম্মেলনে বক্তব্য দেন ঢাকার লিখন চন্দ্র রায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সঞ্জয় কুমার দাস, চট্টগ্রামের ডা. এস কে বল শুভ, বিভু চক্রবর্তী ও বিমল চন্দ্র দে আকাশ প্রমুখ।
অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় দিন মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সন্ধ্যার আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন জেলা প্রশাসক ড. শাহেদ মোস্তফা, পুলিশ সুপার আনোয়ার জাহিদ, বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের ভাইস চেয়ারম্যান রমেশ দত্ত, পাবনা প্রেসক্লাবের সভাপতি আখতারুজ্জামান আখতার, সম্পাদক জহুরুল ইসলাম, পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (পুর) সুধাংশু কুমার সরকার এবং সমাজসেবক-সাংবাদিক আঁখিনূর ইসলাম রেমন।
আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, তিনদিনব্যাপী মহোৎসবে ধর্মসভা ছাড়াও থাকছে ঊষালগ্নে মাঙ্গলিকী, তারকব্রহ্ম নামসংকীর্তন, সকাল-সন্ধ্যা নাম-ধ্যান, সদ্গ্রন্থ পাঠ, ভক্তি সংগীত, বিশ্বকল্যাণে বিশেষ প্রার্থনা, ৮১ বার পুষ্পাঞ্জলি, শঙ্খধ্বনি, পুরুষোত্তম প্রণাম, জাতীয় পতাকা ও সৎসঙ্গ পতাকা উত্তোলন, শ্রীকৃষ্ণের দোলযাত্রা, লীলাকীর্তন, জন্মস্থান প্রদক্ষিণ, ঋত্বিক ও যুব সম্মেলন, কিশোরমেলা, মাতৃ সম্মেলন, কর্মী সম্মেলন, আন্দোবাজারে মহাপ্রসাদ বিতরণ ও রাত্রিকালীন লোকরঞ্জন অনুষ্ঠান।
সৎসঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক সহ-প্রতি ঋত্বিক তাপস চন্দ্র বর্মণ জানান, সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে অনুষ্ঠান সম্পন্ন করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। দেশের বিভিন্ন জেলা ও ওপার বাংলা থেকে লাখো ভক্তের আগমন ঘটেছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।