ঈদকেন্দ্রিক ঢাকাই সিনেমার বাজার

বিনোদন রিপোর্ট

বিনোদন

বাংলাদেশের চলচ্চিত্র অঙ্গনে ঈদ বরাবরই সিনেমা মুক্তির বড় মৌসুম হিসেবে পরিচিত। এবারো আসন্ন রোজার ঈদকে ঘিরে সম্ভাব্য ১৬টি

2026-03-05T16:27:22+00:00
2026-03-05T16:27:22+00:00
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬ ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬
   
ঈদকেন্দ্রিক ঢাকাই সিনেমার বাজার
বিনোদন রিপোর্ট
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ, ২০২৬, ৪:২৭ পিএম   (ভিজিট : ১০২)
সংগৃহীত ছবি
X

সংগৃহীত ছবি

বাংলাদেশের চলচ্চিত্র অঙ্গনে ঈদ বরাবরই সিনেমা মুক্তির বড় মৌসুম হিসেবে পরিচিত। এবারো আসন্ন রোজার ঈদকে ঘিরে সম্ভাব্য ১৬টি সিনেমা মুক্তির ঘোষণা এসেছে। নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে- আদৌ এতগুলো সিনেমা একসঙ্গে মুক্তি পাবে কি? এবং যদি পায়ও, এ সীমিত প্রেক্ষাগৃহে কোথায় প্রদর্শিত হবে?
গত বছর দুই ঈদ মিলিয়ে প্রায় ১২টি সিনেমা মুক্তি পেয়েছিল। সে তুলনায় এবার এক ঈদে ১৬টি সিনেমার ঘোষণা অনেকের কাছে বেশ উচ্চাভিলাষী মনে হচ্ছে। একসময় বছরজুড়ে নতুন সিনেমা মুক্তির আমেজ থাকত। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনে ঢাকাই সিনেমা এখন অনেকটাই ঈদকেন্দ্রিক হয়ে পড়েছে।

বছরের বাকি সময়ে খুব কম সিনেমা মুক্তি পায়, আর প্রযোজক-পরিচালকদের মূল লক্ষ্য থাকে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার সময় বড় বাজেটের সিনেমা মুক্তি দেয়া। ছুটি, পরিবার, ঘোরাঘুরি আর বিনোদনের এ সামাজিক প্রেক্ষাপটকে কাজে লাগিয়ে নির্মাতারা দর্শককে হলমুখী করতে চেষ্টা করেন। ফলে ঈদের সময় একাধিক বড় সিনেমা একসঙ্গে মুক্তি পায়। সাম্প্রতিক বছরগুলোয় ‘প্রিয়তমা’, ‘সুড়ঙ্গ’ বা ‘তুফান’-এর মতো সিনেমা এ সময়ে মুক্তি পেয়ে ব্যাপক আলোচনায় এসেছে এবং ব্যবসায়িক সফলতাও পেয়েছে।

বর্তমানে দেশে বছরের চলমান প্রেক্ষাগৃহের সংখ্যা মাত্র ৬০-৭০। ঈদ উৎসবে সাময়িকভাবে কিছু প্রেক্ষাগৃহ চালু করা হলেও মোট সংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় ১৪০-এর কাছাকাছি। এর মধ্যে অনেক হলে বসে সিনেমা দেখার জন্য পর্যাপ্ত পরিবেশ নেই। এ সীমিত প্রেক্ষাগৃহ নিয়েই শুরু হয় ঈদ উৎসবের ‘হলযুদ্ধ’। কে আগে কোন প্রেক্ষাগৃহ দখল করবে, কোন সিনেমা কতগুলো শো পাবে, সব মিলিয়ে তীব্র প্রতিযোগিতা চলে। বরাবরের মতো এবারো এ যুদ্ধ আগের চেয়ে আরো জটিল এবং চাপযুক্ত হতে পারে এটা বোঝাই যাচ্ছে, বিশেষত যখন ১৬টি সিনেমার মুক্তির ঘোষণা এসেছে।

আসন্ন ঈদে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আছেন শাকিব খান, যিনি ‘প্রিন্স: ওয়ানস আপন আ টাইম ইন ঢাকা’-এ নব্বই দশকের গ্যাংস্টার চরিত্রে দর্শকের সামনে আসছেন। আফরান নিশো ‘দম’ সিনেমায় বড় পর্দায় হাজির হচ্ছেন, আর সিয়াম আহমেদ ও সুস্মিতা চ্যাটার্জির ‘রাক্ষস’, বুবলী ও নাজিফা তুষির ‘প্রেশার কুকার’ও আলোচনায় রয়েছে। এছাড়া সাহিত্যনির্ভর সিনেমা ‘বনলতা এক্সপ্রেস’, ‘বনলতা সেন’ এবং ‘রঙবাজার’, পোশাক শিল্পের গল্প ‘কাট পিস’ও মুক্তির তালিকায় রয়েছে। সম্ভাব্য মুক্তির তালিকায় আরো আছে ‘পিনিক’, ‘ট্রাইব্যুনাল’, ‘হাঙর’, ‘মালিক’, ‘দুর্বার’, ‘ডোডোর গল্প’, ‘তছনছ’ ও ‘অফিসার’।

অধিকসংখ্যক সিনেমার কনটেন্টের এ বৈচিত্র্য দর্শককে উৎসাহিত করার পাশাপাশি প্রযোজকদের জন্যও নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। ঈদ মৌসুমে অধিকসংখ্যক সিনেমা মুক্তির বিষয় নিয়ে নির্মাতা তানিম নূর গণমাধ্যমকে বলেন, ‘বাংলা সিনেমা আবার নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে। ঈদকে ঘিরে সবার মধ্যেই একটি বিশেষ তাড়না কাজ করে, কারণ এ সময় দর্শক তুলনামূলকভাবে অবসর থাকে। তাই নির্মাতারা স্বাভাবিকভাবেই সময়টিকে সিনেমা মুক্তির জন্য উপযুক্ত মনে করেন। বাণিজ্যিক দিক থেকেও ঈদে মুক্তি পাওয়া সিনেমা অনেক ভালো সাফল্য পায়।

তবে তিনি মনে করেন, একসঙ্গে অতিরিক্ত সংখ্যক সিনেমা মুক্তি পেলে শেষ পর্যন্ত সেটি কারো জন্যই ভালো ফল বয়ে আনে না। তিনি আশাবাদী, সামনে হয়তো এ নির্দিষ্ট সময়নির্ভর মুক্তির প্রবণতা ধীরে ধীরে কমে যাবে। তখন বছরজুড়েই নিয়মিত সিনেমা মুক্তি দেয়া সম্ভব হবে।

চলচ্চিত্র নির্মাতা খিজির হায়াতও বলেন, ‘ঈদে সবাই সিনেমা মুক্তি দিতে চায়, কারণ তখন দর্শক বেশি হলমুখী থাকে। তবে এ প্রবণতা দীর্ঘমেয়াদে দেশের চলচ্চিত্র শিল্পের জন্য ক্ষতিকর। বছরে শুধু দুই ঈদকে কেন্দ্র করে সিনেমা মুক্তি দেয়ার কারণে বছরের বাকি সময় হলগুলো প্রায় ফাঁকা থাকে। এতে ধীরে ধীরে দেশের বিদ্যমান হলগুলোর টিকে থাকাও কঠিন হয়ে পড়ে।’

তার মতে, প্রযোজক সমিতি ও ডিস্ট্রিবিউশনের দায়িত্বে যারা আছেন, তাদের সমন্বয়ের মাধ্যমে নিশ্চিত করা উচিত যেন ঈদে সর্বোচ্চ চার-পাঁচটি সিনেমা মুক্তি পায়। বাকি সিনেমাগুলো সারা বছর পরিকল্পিতভাবে মুক্তি দেয়া প্রয়োজন। এ অভ্যাস থেকে বের হতে না পারলে নিজেদের ক্ষতি নিজেরাই করবেন। ঈদে চার-পাঁচটির বেশি সিনেমা মুক্তি পাওয়া সবার জন্যই ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। অনেক পরিশ্রম ও বিনিয়োগে একটি সিনেমা নির্মাণের পর যদি যথেষ্ট হল বা সিনেপ্লেক্সে শো না পাওয়া যায়, তাহলে ভালো সিনেমাও দর্শকের কাছে পৌঁছতে পারে না। 

মাত্র দুই বা তিনটি শো দিয়ে কোনো সিনেমার টিকে থাকা সম্ভব নয়। চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ঈদকেন্দ্রিক সিনেমা মুক্তি প্রযোজকদের জন্য ঝুঁকি কমায়, বড় সিনেমা সহজে প্রচার পায়, আর ব্যবসার সুযোগও বৃদ্ধি পায়। তবে বছরের বাকি সময় হল ফাঁকা থাকে, ছোট ও মাঝারি বাজেটের সিনেমা প্রদর্শনের সুযোগ কমে যায়, আর প্রযোজকরা ঝুঁকি নিতে অনীহা প্রকাশ করেন।






Loading...
Loading...


বিনোদন এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy