
X
ঈদ এলেই রূপগঞ্জের বিভিন্ন গ্রামে শুরু হয় চাক সেমাই তৈরির ধুম।
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে জমে উঠেছে নারায়ণগঞ্জে রূপগঞ্জে ঐতিহ্যবাহী চাক সেমাই পল্লী। ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে, ততই ব্যস্ত হয়ে পড়ছেন সেমাই তৈরির সঙ্গে জড়িত কারিগররা। দিন-রাত পরিশ্রম করে তারা তৈরি করছেন সুস্বাদু ও নকশাদার চাক সেমাই, যার চাহিদা এখন স্থানীয় বাজার ছাড়িয়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে।
ঈদ এলেই রূপগঞ্জের বিভিন্ন গ্রামে শুরু হয় চাক সেমাই তৈরির ধুম। কারিগরদের হাতে তৈরি এই সেমাইয়ের স্বাদ ও মানের কারণে বছরের পর বছর ধরে এর জনপ্রিয়তা বাড়ছে। ফলে বাড়তি চাহিদা পূরণে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ব্যস্ত সময় পার করছেন সেমাই পল্লীর কারিগররা।
রূপগঞ্জের ভোলাবো, কাঞ্চন, দাউদপুর, রূপগঞ্জ ও চারিতাল্লুকসহ কয়েকটি গ্রামে প্রায় তিন শতাধিক পরিবার দীর্ঘদিন ধরে এই ঐতিহ্যবাহী সেমাই তৈরির সঙ্গে জড়িত। ঈদকে ঘিরে এসব এলাকায় এখন উৎসবমুখর কর্মচাঞ্চল্য দেখা যাচ্ছে। প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই চলছে সেমাই তৈরির ব্যস্ততা।
চাক সেমাই তৈরির প্রক্রিয়াটি বেশ শ্রমসাধ্য। প্রথমে ময়দার সঙ্গে পানি মিশিয়ে তৈরি করা হয় খামি। এরপর বিশেষ যন্ত্রের মাধ্যমে সেই খামি থেকে বের করা হয় চিকন সুতার মতো সেমাই। পরে ধাতব পাত্রে সাজিয়ে ছুরি দিয়ে তৈরি করা হয় চতুর্ভুজ আকৃতির নকশা। রোদে শুকানোর পর তন্দুরিতে সেঁকে লালচে রং ধারণ করলে তা বিক্রির জন্য প্রস্তুত করা হয়।
কারিগররা জানান, এই সেমাই তৈরিতে কোনো ধরনের ক্ষতিকর রাসায়নিক বা কেমিক্যাল ব্যবহার করা হয় না। সম্পূর্ণ স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে তৈরি হওয়ায় এর স্বাদ ও মান অন্য সেমাই থেকে আলাদা। এ কারণে রূপগঞ্জের চাক সেমাইয়ের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে।
বর্তমানে এই সেমাই নারায়ণগঞ্জ জেলার বাইরে ঢাকা, গাজীপুর, নরসিংদী ও মুন্সীগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলার বাজারে সরবরাহ করা হচ্ছে।
সেমাই পল্লীর ব্যবসায়ীরা জানান, ঈদকে ঘিরে প্রতিবছরই চাহিদা বেড়ে যায়। তবে পর্যাপ্ত পুঁজির অভাবে অনেক সময় ব্যবসা সম্প্রসারণে সমস্যায় পড়তে হয়। সহজ শর্তে সরকারি ঋণ সহায়তা পেলে এই শিল্পকে আরও বড় পরিসরে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।
এ বিষয়ে রূপগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফরিদ আল সোহান বলেন, ঈদকে সামনে রেখে চাক সেমাই তৈরিতে রূপগঞ্জের কারিগররা ব্যস্ত সময় পার করছেন। এটি এলাকার একটি ঐতিহ্যবাহী শিল্প। এই শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।
ঐতিহ্য, স্বাদ ও পরিশ্রমের সমন্বয়ে তৈরি রূপগঞ্জের চাক সেমাই শুধু একটি জনপ্রিয় খাবারই নয়, বরং স্থানীয় মানুষের জীবিকার গুরুত্বপূর্ণ উৎস। যথাযথ সহায়তা ও পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এই শিল্প ভবিষ্যতে দেশজুড়ে একটি স্বীকৃত ব্র্যান্ড হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।