
X
সংগৃহীত ছবি
১৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও পাঁচ প্রতিষ্ঠানকে স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২৬ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সংস্কৃতিতে বিশেষ অবদান রাখার জন্য এবছর এই পুরস্কার পাচ্ছেন দেশের জনপ্রিয় সঞ্চালক-নির্মাতা এ. কে. এম. হানিফ (হানিফ সংকেত)। বৃহস্পতিবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর নিজের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন হানিফ সংকেত।
সামাজিক মাধ্যমে একটি পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘সুহৃদ, আমি আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার এ বছর আমাকে সংস্কৃতিতে ‘স্বাধীনতা পদক’-এ ভূষিত করেছেন। এই অর্জন আমার একার নয়। যাদের ভালোবাসা, সমর্থন ও সহযোগিতায় সাংস্কৃতিক অঙ্গনে আমার এই দীর্ঘ যাত্রা সম্ভব হয়েছে এই অর্জন তাদের সবার।’
কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি লিখেছেন, ‘আজকের এই আনন্দের দিনে আমি তাদের সবার কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। এই পুরস্কার আমি আমার লক্ষ-কোটি দর্শকদের উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করছি। আমি বিশ্বাস করি, সুস্থ সংস্কৃতিই পারে একটি সমাজকে আলোকিত করতে এবং দেশের জন্য সম্মান বয়ে আনতে। আমৃত্যু আমি সুস্থ সংস্কৃতির চর্চায় দেশের জন্য কাজ করে যেতে চাই।’
সবার কাছে দোয়া কামনা করেছে শেষে তিনি লিখেছেন, ‘অতীতেও আমি যেমন দায়িত্ব নিয়ে কাজ করেছি, ভবিষ্যতেও দায়িত্ব নিয়ে কাজ করে যাব। এই পুরস্কার আমাকে সামনে এগিয়ে যেতে আরও উৎসাহিত করবে। আপনারা আমার জন্য দোয়া করবেন।’
হানিফ সংকেত শুধু ইত্যাদি দিয়েই নয়, নাটক-টেলিফিল্ম নির্মাণ করে এবং বই লিখেও দেশের শিল্প-সংস্কৃতিতে অসামান্য অবদান রেখেছেন। তিনি একাধারে পরিচালক, উপস্থাপক, লেখক ও প্রযোজক। প্রয়াত ফজলে লোহানীর ‘যদি কিছু মনে না করেন’ ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান দিয়ে তার পথচলা শুরু। এরপর দেশের সবচেয়ে জনিপ্রয় ম্যাগাজিন ইত্যাদি দিয়ে তিনি রাজত্ব করে চলেছেন। সমাজের নানা অসঙ্গতিকে মজার ছলে ইত্যাদিতে তুলে ধরেন হানিফ সংকেত। বিবিসির জরিপ বলছে, বিশ্বের ৭৫ শতাংশ বাঙালি ‘ইত্যাদি’ দেখেন।
নিজের কাজের বিষয়ে খুবই যত্নশীল হানিফ সংকেত। নাটক পরিচালনাতেও নিজের মুন্সিয়ানা বজায় রেখেছেন। তার পরিচালিত জনপ্রিয় নাটকের মধ্যে ‘আয় ফিরে তোর প্রাণের বারান্দায়’, ‘দুর্ঘটনা’, ‘তোষামোদে খোশ আমোদে’, ‘কিংকর্তব্য’, ‘কুসুম কুসুম ভালোবাসা’, ‘শেষে এসে অবশেষে’ উল্লেখযোগ্য।
চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেছেন হানিফ সংকেত। বেশ কয়েকটি ব্যঙ্গ ও রম্য রচনা লিখেছেন তিনি। ‘চৌচাপটে’, ‘এপিঠ ওপিঠ’, ‘ধন্যবাদ’, ‘অকাণ্ড কাণ্ড’, ‘খবরে প্রকাশ’, ‘ফুলের মতো পবিত্র ’, ‘প্রতি ও ইতি’, ‘আটখানার পাটখানা’ অন্যতম।
এদিকে দেশের বরেণ্য সংগীতশিল্পী ও সুরকার কুমার বিশ্বজিৎ প্রিয় বন্ধুর এমন অনন্য অর্জনে আনন্দ শেয়ার করে নিয়েছেন । হানিফ সংকেতকে অভিনন্দন জানিয়ে সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে তিনি লিখেছেন- ‘বন্ধু, তোর ‘স্বাধীনতা পদক’ প্রাপ্তিতে আমি ভীষণ আনন্দিত। তোর জন্য রইল অনেক ভালোবাসা আর শুভকামনা।’
প্রসঙ্গত, স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও নারীশিক্ষাসহ দেশ গঠনে সার্বিক অবদানের জন্য এবার স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২৬ পাচ্ছেন বেগম খালেদা জিয়া, এছাড়া মুক্তিযুদ্ধে মেজর মোহাম্মদ আবদুল জলিল (মরণোত্তর), বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে অধ্যাপক জহুরুল করিম, সাহিত্যে আশরাফ সিদ্দিকী (মরণোত্তর), সংস্কৃতিতে বশির আহমেদ (মরণোত্তর), ক্রীড়ায় জোবেরা রহমান (লিনু), সমাজসেবায় ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী (মরণোত্তর), মো. সাইদুল হক, মাহেরীন চৌধুরী (মরণোত্তর), জনপ্রশাসনে কাজী ফজলুর রহমান (মরণোত্তর), গবেষণা ও প্রশিক্ষণে মোহাম্মদ আবদুল বাকী, অধ্যাপক এম এ রহিম ও অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়ুয়া এবং পরিবেশ সংরক্ষণে আবদুল মুকিত মজুমদার (মুকিত মজুমদার বাবু) স্বাধীনতা পুরস্কার পাচ্ছেন।
এ ছাড়া পাঁচ প্রতিষ্ঠান হলো মুক্তিযুদ্ধে ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ, চিকিৎসাবিদ্যায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, পল্লী উন্নয়নে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ), সমাজসেবায় এসওএস চিলড্রেনস ভিলেজ ইন্টারন্যাশনাল ইন বাংলাদেশ ও সমাজসেবায় গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র।