প্রকাশ: সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬, ১২:২৬ পিএম (ভিজিট : ৩৩৬)

X
ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার দক্ষিণ আইচা থানার বাবুরহাট লঞ্চঘাট সংলগ্ন তেঁতুলিয়া নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে নদী তীরবর্তী প্রতিরক্ষা বাঁধ মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে। এতে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত নদী রক্ষা বাঁধ বিলীন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে নদী ভাঙনের আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন নজরুলনগর ও বিচ্ছিন্ন মুজিবনগর ইউনিয়নের কয়েক হাজার মানুষ।
সোমবার (৯ মার্চ) সরেজমিনে দেখা যায়, নজরুলনগর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাবুরহাট লঞ্চঘাট সংলগ্ন তেঁতুলিয়া নদীতে দিনের আলোতেই চলছে অবাধে বালু উত্তোলন। অন্তত ৭ থেকে ৮টি বড় আকারের ড্রেজার জাহাজ দিয়ে নদীর তলদেশ থেকে বালু তোলা হচ্ছে। এতে নদীর তলদেশে বড় বড় গর্ত তৈরি হচ্ছে এবং নদী শাসনের জন্য ফেলা কংক্রিট ব্লক ধীরে ধীরে নদীগর্ভে তলিয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয় মুদি ব্যবসায়ী রিয়াজ, সমাজকর্মী জাহিদসহ একাধিক ব্যক্তি জানান, নজরুলনগর ইউনিয়নের মাহমুদুল হাসানের নেতৃত্বে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে এ অবৈধ বালু উত্তোলন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। স্থানীয়দের দাবি, তার অনুমতি ছাড়া ওই এলাকায় নদী থেকে এক বালতি বালুও উত্তোলন করা সম্ভব নয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ড্রেজারচালক জানান, প্রতিটি ড্রেজার জাহাজ থেকে প্রতিদিন প্রায় ৫ হাজার টাকা করে ‘মাসোহারা’ দিতে হয়। সে হিসাবে প্রতিদিন প্রায় ৪০ হাজার টাকা এবং মাসে প্রায় ১২ লাখ টাকার অবৈধ লেনদেন এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে বাবুরহাট লঞ্চঘাট সংলগ্ন নদী রক্ষা বাঁধ এখন মারাত্মক ঝুঁকির মুখে রয়েছে। স্থানীয় প্রবীণ ব্যক্তি আনিসুর রহমান জুলফিকার বলেন, অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণে নদী শাসনের জন্য ফেলা বড় বড় ব্লক ধীরে ধীরে নদীর গভীরে তলিয়ে যাচ্ছে। এতে করে আমাদের বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে মাহমুদুল হাসান মুঠোফোনে বলেন, “বালি উত্তোলনের সঙ্গে আমি জড়িত নই। ইতোমধ্যে আমি বালি উত্তোলনের বিরুদ্ধে কথা বলেছি। নদী থেকে তাহলে কে বালি উত্তোলন করছে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমি নিজেই জানি না কারা আসলে বালি উত্তোলন করছে।
এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এমাদুল হক বলেন, বাবুরহাট সংলগ্ন তেঁতুলিয়া নদী থেকে বালি উত্তোলনের বিষয়টি আমি জেনেছি। যারা অবৈধভাবে বালি উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।