
X
গোবিন্দ মিষ্টান্ন ভান্ডারে গেলে একনজরেই চোখে পড়ে পোড়া বাড়ি চমচম, সাদা চমচম, মৌচাক, হাড়িভাঙ্গা, বেবি সুইট, কেক সন্দেশ, টিপ প্যাড়া, হ নানা ধরনের মিষ্টি।
রকমারি নাম ও স্বাদের মিষ্টির জন্য বিখ্যাত ‘গোবিন্দ মিষ্টান্ন ভান্ডার’। দোকানে গেলে একনজরেই চোখে পড়ে পোড়া বাড়ি চমচম, সাদা চমচম, মৌচাক, হাড়িভাঙ্গা, বেবি সুইট, কেক সন্দেশ, টিপ প্যাড়া, দেবু সন্দেশ, জেলি সন্দেশ, বেবি সন্দেশ, রোল সন্দেশ, কাজুভোগ, মুক্তাভোগ, সরভোগ, পটলভোগ, ছানার সন্দেশ, রসগোল্লা, কালোজাম, দধি, রসমালাই, মালাই চপসহ নানা ধরনের মিষ্টি। প্রতিদিন ২০-২৫ ধরনের মিষ্টি তৈরি হয়। কোন কোনদিন তারও বেশি। এসব মিষ্টির স্বাদ যেমন বিচিত্র, তেমনি নামও আকর্ষণীয়।
ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার দাদপুর ইউনিয়নের দুটি স্থানে রয়েছে দোকানটির শাখা। চিতারবাজার মেইন রোডের শাখাটি প্রধান শাখা, অপরটি অবস্থিত কোন্দারদিয়ায়। সদর থেকে সাড়ে সাত কিলোমিটার দূরে চিতারবাজার শাখা। সদর ইউনিয়ন পরিষদের পাশ দিয়ে যে পাকা রাস্তা চিতারবাজারে গেছে, সেই সড়কের ধারেই দোকানটি। মোটরসাইকেলে সময় লাগে ১৫-২০ মিনিট। পৌরসভার ওয়াপদা মোড় থেকে সারাদিন ভ্যান পাওয়া যায়; ভ্যানে সময় লাগে ৩০-৪০ মিনিট, ভাড়া ৪০ টাকা। চিতারবাজার থেকে কোন্দারদিয়া শাখা আরও তিন কিলোমিটার দূরে। প্রতিদিন দোকানে ২০-২৫ ধরনের মিষ্টি তৈরি হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে দামি ও জনপ্রিয় হচ্ছে ‘ইলিশ পেটি’। দেখতে ইলিশ মাছের পেটির মতো হওয়ায় মিষ্টিটির এ নামকরণ। কেজিপ্রতি ৭৫০ টাকা দরে বিক্রি হয়, ২০-২২ পিসে এক কেজি হয়। খুচরা প্রতি পিস ৪০ টাকা। পুরোপুরি ক্ষীর দিয়ে তৈরি হওয়ায় স্বাদে ও মানে তুলনাহীন, স্বল্পসময়েই পেয়েছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা।

গোবিন্দ মিষ্টান্ন ভান্ডারে যেকোনো অনুষ্ঠান-বিয়ে, জন্মদিন, দাওয়াত- ইত্যাদির জন্য মিষ্টির অর্ডারও নেওয়া হয়। দোকান গ্রাম এলাকায় হলেও প্রতিদিন গড়ে ৬০-৮০ কেজি মিষ্টি বিক্রি হয়। দিনের মিষ্টি সেই দিনেই বিক্রি শেষ হয়ে যায়, আগের দিনের মিষ্টি বিক্রি করা হয় না।
উপজেলার দাদপুর ইউনিয়নের কোন্দারদিয়া গ্রামের বাসিন্দা গোবিন্দ কুন্ডু ১৯৯৭ সালে দোকানটি প্রতিষ্ঠা করেন। কয়েক বছর আগে তার মৃত্যু হলে পৈতৃক পেশাকে টিকিয়ে রাখতে দোকানটির দায়িত্ব নেন ছেলে গুরুদাস কুন্ডু। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত চারজন কারিগর মিষ্টি তৈরির কাজ পরিচালনা করেন।
সরেজমিন দেখা যায়, চিতারবাজার ও কোন্দারদিয়া- উভয় শাখাতেই ক্রেতা-বিক্রেতার ভিড় আর ব্যস্ততা চোখে পড়ে। থরে থরে সাজানো সব মিষ্টির মধ্যে ইলিশ পেটি যেন সবার আগে নজর কাড়ে। গোবিন্দ মিষ্টান্ন ভান্ডারের মালিক গুরুদাস কুন্ডু বলেন, ‘প্রতিদিন প্রায় ২০-২৫ রকম মিষ্টি তৈরি করি। আমাদের মিষ্টি তৈরি হয় নির্ভেজাল ছানা ও ক্ষীর দিয়ে। কোনো মিষ্টিতেই ভেজাল দেওয়া হয় না। তাই স্বাদ ও মান দুটিই ভালো থাকে।’ তিনি আরও বলেন, ‘যেকোনো অনুষ্ঠানের জন্য অর্ডার নেওয়া হয়। দোকান গ্রামে হলেও প্রতিদিন গড়ে ৬০-৮০ কেজি মিষ্টি বিক্রি হয়। দিনের মিষ্টি দিনেই বিক্রি হয়ে যায়, আগের দিনের মিষ্টি বিক্রি করি না।’
পার্শ্ববর্তী চালিনগর গ্রামের নাজমুল হক বলেন, ‘গোবিন্দ মিষ্টান্ন ভান্ডারের মিষ্টি খেতে মানুষ দূর-দূরান্ত থেকে আসে। মিষ্টির আকৃতি যেমন আলাদা, স্বাদও তেমনি ভালো।’ বোয়ালমারী শহরের বাসিন্দা সুমন রাফি বলেন, ‘লোকমুখে শুনে গিয়েছিলাম। স্বাদ অসাধারণ! দোকানে খেয়েছি, আবার বাড়ির জন্যও নিয়ে এসেছি। বোয়ালমারী শহরে একটি শাখা হওয়া উচিত।’ দাদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন মুশা বলেন, ‘গোবিন্দ মিষ্টান্ন ভান্ডারের মিষ্টি খুবই ভালো। উপজেলায় ও বাইরে থেকেও অনেকে কিনতে আসেন।’