
X
মানবসেবায় উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত আমিনা মামুন ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা আশরাফুল আলম মামুন
ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার বিশিষ্ট সমাজসেবক ও আমিনা মামুন ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা খন্দকার আশরাফুল আলম মামুন মানবসেবা ও সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে স্থানীয় মানুষের কাছে আস্থা ও মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। শিক্ষা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, অসহায় মানুষ, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতিও তার সহমর্মিতা ও সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে।
দ্বীনি শিক্ষার প্রসারে তিনি বিশেষভাবে আন্তরিক। সেই লক্ষ্যেই আমিনা মামুন ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে বোয়ালমারী উপজেলার গুনবহা ইউনিয়নের কামারগ্রাম এলাকায় অবস্থিত নূরে মদিনা কওমী মাদরাসা ও এতিমখানায় নগদ এক লাখ টাকা অনুদান প্রদান করেন। পাশাপাশি মাদরাসার এতিম শিক্ষার্থীদের আহারের জন্য প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকা করে নিয়মিত সহায়তা দিয়ে যাচ্ছেন। এছাড়াও বোয়ালমারী উপজেলার বাগুয়ান গ্রামে অবস্থিত হালিমাতুস সাদিয়া মাদরাসায় নগদ দুই লাখ টাকা অনুদান প্রদান করেন তিনি।
শুধু ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়, বিভিন্ন দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশেও দাঁড়িয়েছেন এই সমাজসেবক। গত ১৮ অক্টোবর ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার সাতৈর ইউনিয়নের কাদিরদী বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৪টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এতে দোকানঘর ও মালামালসহ প্রায় এক থেকে দেড় কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়। পরে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পাশে দাঁড়িয়ে আমিনা মামুন ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে ১০ লাখ টাকা অনুদান প্রদান করেন খন্দকার আশরাফুল আলম মামুন। তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানভীর হাসান চৌধুরীর উপস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে এ অনুদান বিতরণ করা হয়।
গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতিও তিনি অত্যন্ত সহানুভূতিশীল। এক গণমাধ্যমকর্মীর চোখের চিকিৎসার জন্য তিনি ব্যক্তিগতভাবে ৫০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন। এছাড়া বোয়ালমারীর এক সাংবাদিক অসুস্থ হয়ে ফরিদপুর হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার খবর পেয়ে তাকে ফল উপহার পাঠান। বোয়ালমারী প্রেসক্লাবের তহবিলেও তিনি এক লাখ টাকা অনুদান দিয়েছেন।
এছাড়াও গৃহহীন মানুষের জন্য আশ্রয়ের ব্যবস্থা করেও তিনি মানবিকতার নজির স্থাপন করেছেন। গত ২১ সেপ্টেম্বর উপজেলার গুনবহা ইউনিয়নের রেনিনগর নিচুপাড়া গ্রামে চুলার আগুনে কলম সরদারের বসতঘর পুড়ে ছাই হয়ে যায়। ছয় সদস্যের পরিবারটি মাথা গোঁজার একমাত্র আশ্রয় হারিয়ে বিপাকে পড়ে। পরে সংবাদপত্রে বিষয়টি জানতে পেরে খন্দকার আশরাফুল আলম মামুন নিজ অর্থায়নে কলম সরদারের জন্য একটি নতুন বসতঘর নির্মাণ করে দেন।
গ্রামীণ জনগণের বিশুদ্ধ পানির সংকট দূর করতেও উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি। ইতোমধ্যে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে দরিদ্র পরিবারের মাঝে ৫০টি নলকূপ প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া হতদরিদ্র ও অসহায় নারীদের আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে আমিনা মামুন ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে বিনামূল্যে ৫০টি সেলাই মেশিন বিতরণ করা হয়েছে।
শিক্ষা ক্ষেত্রেও রয়েছে তার অবদান। বোয়ালমারীর বার্তা একাডেমিতে কর্মরত শিক্ষকদের জন্য তিনি প্রতি মাসে ২৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করছেন, যা প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষকদের জন্য বড় ধরনের সহায়তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, ব্যক্তিগত প্রচার বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নয়, বরং মানবিক দায়বদ্ধতা থেকেই খন্দকার আশরাফুল আলম মামুন দীর্ঘদিন ধরে এসব সেবামূলক কাজ করে যাচ্ছেন। তার এমন উদ্যোগ সমাজের বিত্তবানদেরও মানবসেবায় এগিয়ে আসতে অনুপ্রাণিত করবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।
এ ব্যাপারে সমাজ সেবক খন্দকার আশরাফুল আলম মামুন বলেন, মানুষ মানুষের জন্য এই বিশ্বাস থেকেই আমি সবসময় অসহায় ও দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করি। সমাজে অনেক মানুষ আছেন যারা নানা কারণে কষ্টে দিন কাটান। তাদের সামান্য সহযোগিতা করতে পারলে সেটাকেই আমি নিজের সৌভাগ্য মনে করি।
তিনি আরো বলেন, শিক্ষা, দ্বীনি শিক্ষা, চিকিৎসা ও মানবিক সহায়তার মাধ্যমে সমাজের কল্যাণে কাজ করে যেতে চাই। আমিনা মামুন ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে ভবিষ্যতেও এ ধরনের সেবামূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে ইনশাআল্লাহ।