প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ, ২০২৬, ৩:২২ পিএম (ভিজিট : ১০৯)

X
সংগৃহীত ছবি
ভারতীয় অভিনেত্রী হানসিকা মোতওয়ানি ও ব্যবসায়ী সোহেল খাটুরিয়ার সম্পর্ক একসময় ছিল ইন্ড্রাস্টির সবচেয়ে আলোচিত বিষয়। বান্ধবীর সাবেক স্বামী ও দীর্ঘদিনের বন্ধু সোহেল খাটুরিয়াকে বিয়ে করে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন এই অভিনেত্রী। কিন্তু বিয়ের চার বছর না যেতেই বিচ্ছেদের পথে হাঁটলেন এই দম্পতি। বুধবার বান্দ্রার আদালতে তাদের আইনি বিচ্ছেদের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। হানসিকার আইনজীবীও বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, অভিনেত্রী বিচ্ছেদের সময় কোনো আর্থিক ক্ষতিপূরণ দাবি করেননি।
ডিভোর্সের আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ছোটখাটো বিষয় নিয়েও তাদের মধ্যে বারবার মতবিরোধ হচ্ছিল, যা ধীরে ধীরে সম্পর্ককে তিক্ত করে তোলে। পরিবার ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের অনেক চেষ্টা সত্ত্বেও তাদের সংসার টেকানো সম্ভব হয়নি। ভারতীয় গণমাধ্যম সূত্র অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুলাই থেকেই আলাদা থাকছিলেন হানসিকা ও সোহেল। এরপর দুজনেই আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ে ভাঙার সিদ্ধান্ত নেন।
হানসিকা ও সোহেলের পরিচয় বহুদিনের। প্রায় আট বছরের বেশি সময় ধরে তারা বন্ধু ছিলেন। সেই বন্ধুত্ব গড়ায় প্রেমে। ২০২২ সালের নভেম্বরে প্যারিসে আইফেল টাওয়ারের সামনে সোহেল হানসিকাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। সেই মুহূর্তের ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হলে আলোচনায় আসে তাদের সম্পর্ক। পরে ২০২২ সালের ৪ ডিসেম্বর জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনে তাদের বিয়ে হয়।
আড়ম্বরপূর্ণ আয়োজনের জন্য সেই সময় এই বিয়ে ছিল বছরের অন্যতম আলোচিত সেলিব্রিটি বিয়ে। পরে হানসিকা তার বিয়ের পুরো অভিজ্ঞতাকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য জিও হটস্টারে একটি রিয়েলিটি শো বানান ‘হানসিকা’স লাভ শাদি ড্রামা’নামে।
বিয়ের পর ছবি সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করে হানসিকা লেখেন, ‘এখনের এবং চিরকালের।’ কিন্তু সেই চিরকালের গল্প মাত্র ৪ বছরের মাথাতেই শেষ হলো।
তবে বিয়ের শুরু থেকেই একটি বিতর্ক ঘিরে ছিল তাদের নিয়ে। হানসিকাকে বিয়ের আগে সোহেলের বিয়ে হয়েছিল হানসিকার পুরোনো বান্ধবী রিংকি বাজাজের সঙ্গে। তখন অনেকেই সমালোচনা করেন হানসিকার জন্যই তার বান্ধবীর সংসার ভেঙেছে। তবে বিষয়টি অস্বীকার করে সোহেল বলেন, তাদের বিচ্ছেদের জন্য হানসিকা দায়ী নন, সেসময় তারা শুধু ভালো বন্ধু ছিলেন।
মাত্র ১২ বছর বয়সে ‘কই মিল গেয়া’ ছবিতে হৃতিক রোশনের সাথে অভিনয় করে শিশু তারকা হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি পান হানসিকা। এরপর বলিউডের ‘আপ কা সুরুর’, ‘অরু কাল অরু কন্নড়ি’, ‘মাই নেম ইজ শ্রুতি’র মতো সিনেমায় কাজ করে জনপ্রিয়তা পান তিনি।