
X
সংগৃহীত ছবি
বাগেরহাটের বিভিন্ন হাটবাজারে অতিরিক্ত দামে পণ্য বিক্রি, মানহীন ও ভেজাল খাদ্যপণ্য তৈরি, ক্ষতিকর উপাদান মিশ্রণ, খোলা স্থানে খাদ্যপণ্য রাখা এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার বিক্রির অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।
রমজান মাসে বাজার তদারকিতে জাতীয় ভোক্তা–অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কার্যক্রম নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, জনবল সংকটের কারণে নিয়মিত ও প্রত্যাশিত মাত্রায় বাজার তদারকি করা সম্ভব হচ্ছে না।
স্থানীয় ভোক্তা শেখ শাহিদুর রহমান ভুট্টো বলেন, বাগেরহাটের বাজার ব্যবস্থাপনায় অনেক অনিয়ম রয়েছে। তাঁর দাবি, “বাজারে ড্রেনের পাশে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে গরু জবাই করা হয়। অনেক হোটেল-রেস্তোরাঁয় পচা ও বাসি খাবার বিক্রি হয়। আবার মেয়াদোত্তীর্ণ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যও বিক্রি হতে দেখা যায়। এসব দেখভালের জন্য ভোক্তা অধিদপ্তর থাকলেও তাদের তেমন কোনো কার্যকর উদ্যোগ চোখে পড়ে না।”
শহরের এক ফল ব্যবসায়ী রানা বলেন, খেজুরের মতো ফলে মাছি বসা স্বাভাবিক। তিনি বলেন, “যতই তাড়ানো হোক, মাছি চলে আসে। আবার পুরোপুরি ঢেকে রাখলে অনেক সময় ক্রেতারা দেখতে পান না, তখন কিনতেও আগ্রহ দেখান না।”ক্যামেরা দেখেই তিনি পলিথিন দিয়ে খেজুর ঢেকে রাখার চেস্টা করেন ঐ ব্যবসায়ী।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) বাগেরহাট জেলার সাধারণ সম্পাদক এস কে এ হাসিব বলেন, শহরের বিভিন্ন স্থানে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার তৈরি ও বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের দৃশ্যমান অভিযান খুব কম দেখা যায়। তিনি বলেন, “অনেকে অভিযোগ করলেও বলা হয় জনবল কম থাকায় সব জায়গায় নজরদারি করা সম্ভব হচ্ছে না। আমরা চাই, ভোক্তাদের স্বার্থে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হোক।”
এ বিষয়ে বাগেরহাট জেলা ভোক্তা–অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক শরিফা সুলতানা বলেন, রমজান মাস উপলক্ষে জেলার বিভিন্ন বাজারে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। তিনি জানান, বুধবার (১১ মার্চ) পর্যন্ত বাগেরহাট জেলায় ১৩টি অভিযানে ৩১টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ১ লাখ ৩১ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশই ইফতারসামগ্রী বিক্রির সঙ্গে জড়িত।
শরিফা সুলতানা আরও বলেন, “জনবল সংকটের কারণে সব জায়গায় প্রত্যাশিতভাবে অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না। অনেক সময় অফিসিয়াল কাজে বাইরে থাকতে হয়। ফলে কেউ অভিযোগ নিয়ে এলে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রহণ করা সম্ভব হয় না।”তিনি বলেন, ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষায় অভিযান অব্যাহত থাকবে।