
X
ঈদে ঘরমুখো মানুষের ঢল, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের ১৫ কিলোমিটার যানজট
গাজীপুর শিল্পাঞ্চলের অধিকাংশ কারখানা ছুটি হয়েছে। একসঙ্গে ঈদ করতে বাড়ির উদ্দেশ্য রওনা হয়েছেন সাধারণ মানুষ। ফলে মহাসড়কে মানুষ ও গণপরিবহনের চাপ বেড়েছে। বুধবার দুপুর পর্যন্ত ওই মহাসড়কে গাড়ির চাপ বেশী থাকলেও বিকেলে অসহনীয় যানজট সৃষ্টি হয়েছে।
ঢাকা-টাঙ্গাইল ও নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কের প্রায় ১৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে থেমে থেমে যানজট সৃষ্টি হয়েছে। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে পরিবহনগুলোর বিরুদ্ধে।
আজ বুধবার (১৮ মার্চ) কারখানা ও শিল্প পুলিশের সূত্র জানা যায়, গাজীপুরে অধিকাংশ শিল্পকারখানা ছুটি হয়েছে। বেশিরভাগ কারখানা বেলা ১২টার দিকে ছুটি হয়।
শিল্প পুলিশ, যাত্রী ও পরিবহন চালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বুধবার অধিকাংশ কারখানা বেলা ১২ টার পর্যন্ত ডিউটি করানো হয়েছে। ছুটি হওয়ায় সঙ্গে সঙ্গে শ্রমিকরা বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। ফলে দুপুরের পর থেকেই মহাসড়কে যাত্রী বেড়েছে, গাড়ির তুলনায় যাত্রী হয়েছে কয়েকগুণ। বাস না পেয়ে অনেকেই ট্রাক ও পিকআপে চড়েই বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। এই চাপ বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) পর্যন্ত অব্যহত থাকবে।
স্থানীয় স্টারলাইট সোয়েটার কারখানার শ্রমিক সামিয়া খাতুন বলেন, তিনি রংপুরে যাবেন দুই ঘণ্টা ধরে ভোগড়া বাইপাস পেয়ারা বাগান এলাকায় বাসের অপেক্ষায় আছি। “বাস পাওয়া কষ্ট। বাসের দুই একটা সিট পাওয়া গেলেও ৬শ' টাকার ভাড়া চাচ্ছে ১৬শ'-১৭শ' টাকা। গাড়ি সংকট দেখা দিয়েছে। শেষে স্বামী সন্তানসহ ৬শ' টাকা ভাড়ায় ট্রাকে উঠেন।
সেখানে একই পরিস্থিতির শিকার গাজীপুর মহানগরের ভোগড়া নেক্সাস সোয়েটার কারখানার শ্রমিক শাহিন। স্ত্রী-সন্তানসহ গ্রামের বাড়ি সিরাজগঞ্জে যাবেন। দুই ঘণ্টা ধরে পেয়ারা বাগান অপেক্ষা করছেন। গাড়ি না পেয়ে শেষে আজ বাসায় ফিরে গেছেন। বৃহস্পতিবার ভোরে যাবেন বলেন তারা
মাইক্রোবাসে রংপুরে ভাড়া চাচ্ছে ৬০০০ টাকা, অনেকেই যাচ্ছেন, কিন্তু আমাদের এতো টাকা দিয়ে যাওয়া কষ্টকর। বাড়িতে আসা যাওয়াতেই তো আমাদের বোনাসের টাকা শেষ হয়ে যাবে।”
আব্দুল হক নামে অপর এক যাত্রী বলেন, “চন্দ্রা থেকে সিরাজগঞ্জের ভাড়া ৩০০ টাকা। আজ ৮০০ টাকার নিচে গাড়ি পাওয়া যাচ্ছে না। তারমধ্যে গাড়িও সুবিধাজনক নয়, লক্করঝক্কর বাস। মূলত জিম্মি করে অর্থ আদায় করা হচ্ছে।”
কোনাবাড়ী নাওজোর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সওগাতুল আলম বলেন, যাত্রীদের অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে। বেশি ভাড়া নেয়ার বিষয়টি প্রমানিত হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে৷
ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক চন্দ্রা এলাকা পরিদর্শনে এসে সাংবাদিকদের বলেন, অতিরিক্ত ভাড়া নিলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে৷ আপনার বলেছেন আমরা নজরদারিতে রেখেছি৷