‘খাওনের টাকা নেই, ওষুধ কিনব কি থাইকা’

বিনোদন ডেস্ক

বিনোদন

দেশের প্রখ্যাত লোকসংগীতশিল্পী কাঙ্গালিনী সুফিয়া বর্তমানে গুরুতর অসুস্থতা ও চরম আর্থিক সংকটের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।দীর্ঘদিন ধরেই নানা শারীরিক

2026-03-25T19:31:16+00:00
2026-03-25T19:46:13+00:00
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬ ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬
   
‘খাওনের টাকা নেই, ওষুধ কিনব কি থাইকা’
কষ্টে আছেন কাঙালিনী সুফিয়া
বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ২৫ মার্চ, ২০২৬, ৭:৩১ পিএম  আপডেট: ২৫.০৩.২০২৬ ৭:৪৬ পিএম  (ভিজিট : ১৮)
লোকসংগীতশিল্পী কাঙ্গালিনী সুফিয়া
X

লোকসংগীতশিল্পী কাঙ্গালিনী সুফিয়া

দেশের প্রখ্যাত লোকসংগীতশিল্পী কাঙ্গালিনী সুফিয়া বর্তমানে গুরুতর অসুস্থতা ও চরম আর্থিক সংকটের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

 দীর্ঘদিন ধরেই নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি, তবে সাম্প্রতিক সময়ে তার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হয়েছে। উচ্চ রক্তচাপের পাশাপাশি কিডনি সমস্যা, হৃদরোগ এবং অন্যান্য জটিল রোগ শরীরে বাসা বেঁধেছে। গত বেশ কিছুদিন ধরে তিনি তীব্র বুকে ব্যথায় ভুগছেন, মুখমণ্ডলে ফোলাভাব দেখা দিয়েছে এবং স্বাভাবিকভাবে কথা বলতেও কষ্ট হচ্ছে।
চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের অভাবে তার পরিবার এখন দিশেহারা। ঈদের সময়ও নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী ও চার মাসের বাসাভাড়া বকেয়া ছিল, যা তাদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে চিকিৎসা ও দৈনন্দিন খরচ চালানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

নিজের অসহায়ত্বের কথা জানাতে গিয়ে কাঙালিনী সুফিয়া বলেন, সংসার চালানো তো দূরের কথা, ওষুধ কেনার টাকাও জোগাড় করতে পারছেন না। কয়েক বছর ধরেই তার সংসারে আর্থিক টানাপোড়েন চলছে। ধারদেনা করে কোনোরকমে দিন পার করছিলেন তিনি। কিন্তু সেই ঋণের বোঝা সামলাতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত সাভারের পূর্ব জামসিং এলাকার নিজের ভিটামাটি ও বাড়ি বিক্রি করে দিতে বাধ্য হন। বর্তমানে উত্তর জামসিং এলাকার একটি ভাড়া বাসায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন এই শিল্পী।

কমেছে সরকারি ভাতা, বন্ধ মাসিক সহায়তা

অসচ্ছল সংস্কৃতিসেবীদের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে যে ভাতা দেওয়া হয়, সেখান থেকে আগে বছরে ৪২ হাজার টাকা পেতেন কাঙালিনী সুফিয়া। কিন্তু গত বছর সেই ভাতা কমে দাঁড়ায় মাত্র ১২ হাজার টাকায়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার একমাত্র মেয়ে পুষ্প বেগম, যিনি মায়ের সঙ্গে গান পরিবেশনে সহযোগিতা করেন।

পুষ্প জানান, বছরে পাওয়া ওই ভাতার টাকা সংসারের জন্য অনেকটাই সহায়ক ছিল। কিন্তু হঠাৎ করে ভাতা কমে যাওয়ায় তাদের আর্থিক সংকট আরও তীব্র হয়েছে। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে মাসিক ১০ হাজার টাকার যে সহায়তা দেওয়া হতো, তা-ও অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকে বন্ধ রয়েছে। এই অর্থ দিয়ে ওষুধ কেনা, বাজার করা এবং প্রয়োজনীয় খরচ চালানো হতো। এখন সেই উৎস বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিবারটি চরম বিপাকে পড়েছে।

আয় বন্ধ, নেই কোনো অনুষ্ঠান

কাঙ্গালিনী সুফিয়ার পরিবারের প্রধান আয়ের উৎস ছিল বিভিন্ন স্থানে গান পরিবেশন করা। প্রতি মাসেই দেশের বিভিন্ন এলাকায় অনুষ্ঠানের ডাক পেতেন তিনি। কিন্তু গত এক বছরে নানা কারণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান কমে যাওয়ায় তার আয় প্রায় শূন্যে নেমে এসেছে। শুধু তাই নয়, গত পাঁচ মাসে কোনো টেলিভিশন অনুষ্ঠানেও তাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।

তার মেয়ে জানান, আগে নিয়মিত টেলিভিশনে গান গাওয়ার সুযোগ থাকত, যা থেকে কিছু অর্থ উপার্জন করা যেত। কিন্তু এখন সেই পথও বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে সংসারের খরচ চালানোর মতো কোনো স্থায়ী আয়ের উৎস নেই তাদের।

চিকিৎসা ব্যয় মেটানো অসম্ভব

বর্তমানে কাঙালিনী সুফিয়ার চিকিৎসার জন্য প্রতি মাসে ৮ থেকে ১০ হাজার টাকার ওষুধ প্রয়োজন। চিকিৎসকরা তাকে নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার পরামর্শ দিলেও সেই সামর্থ্য নেই পরিবারের। অনেক সময় একবেলা খেলে আরেকবেলা না খেয়ে থাকতে হচ্ছে তাদের।

পুষ্প বেগম বলেন, তাদের অবস্থা এতটাই খারাপ যে কখনো কখনো চুলায় আগুন জ্বলে না। ধারদেনা করে বাজার করতে হয়, কিন্তু সেই দেনা শোধ করার কোনো উপায় নেই। এই পরিস্থিতিতে মানসিক চাপও বাড়ছে, যা অসুস্থ শিল্পীর জন্য আরও ক্ষতিকর হয়ে উঠছে।

সম্বল হারানোর পথে পরিবার

২০২০ সালের পর থেকে অসুস্থতার চিকিৎসার জন্য প্রায় ১৫ লাখ টাকা ঋণ নিতে হয়েছিল। সেই ঋণ পরিশোধ করতে গিয়ে সাভারের শেষ সম্বল বাড়িটি বিক্রি করতে হয়েছে। পরে উত্তর জামসিং এলাকায় অল্প কিছু জমি কিনলেও সেখানে বসবাসের মতো ঘর তৈরি করার সামর্থ্য নেই। ফলে ভাড়া বাসাতেই থাকতে হচ্ছে।

বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে সেই জমিটিও বিক্রি করতে হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন পরিবারের সদস্যরা। এতে ভবিষ্যতে তাদের মাথা গোঁজার ঠাঁইও অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।

সাহায্য নয়, চান কাজের সুযোগ

এত প্রতিকূলতার মধ্যেও কারও কাছে সরাসরি সাহায্য চাইতে চান না কাঙালিনী সুফিয়া। তিনি এখনও নিজেকে একজন শিল্পী হিসেবেই দেখতে চান। অসুস্থ শরীর নিয়েও গান গাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে তিনি জানান, যদি তাকে অনুষ্ঠানে গান গাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়, তাহলে তিনি আবারও নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারবেন।

তার কণ্ঠে এখনও সেই শক্তি রয়েছে বলেই বিশ্বাস করেন তিনি। তাই সহায়তার বদলে কাজের সুযোগই চান এই গুণী শিল্পী।

সংগ্রামী জীবনের গল্প

রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলার রামদিয়া গ্রামে জেলে পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন কাঙালিনী সুফিয়া। তার প্রকৃত নাম টুনি হালদার। মাত্র ১৪ বছর বয়সেই গান গেয়ে মানুষের নজর কাড়েন তিনি। গৌর মহন্ত, দেবেন খ্যাপা এবং হালিম বয়াতির কাছে সংগীতের তালিম নিয়েছেন।

দীর্ঘ সংগীতজীবনে দেশ-বিদেশে বহু সম্মাননা ও পুরস্কার অর্জন করেছেন তিনি। তার গাওয়া ‘কোনবা পথে নিতাইগঞ্জ যাই’, ‘বুড়ি হইলাম তোর কারণে’, ‘নারীর কাছে কেউ যায় না’ এবং ‘আমার ভাটি গাঙের নাইয়া’ গানগুলো এখনও শ্রোতাদের মাঝে সমান জনপ্রিয়।

হালিম বয়াতির কাছেও গান শিখেছিলেন কাঙালিনী। এ পর্যন্ত ৩০টি জাতীয় ও ১০টি আন্তর্জাতিক পুরস্কার পেয়েছেন। ‘কোনবা পথে নিতাইগঞ্জ যাই’, ‘বুড়ি হইলাম তোর কারণে’, ‘নারীর কাছে কেউ যায় না’, ‘আমার ভাটি গাঙের নাইয়া’সহ বেশ কিছু জনপ্রিয় গানের শিল্পী তিনি।





Loading...
Loading...


বিনোদন এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy