প্রকাশ: শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২৬, ৮:৪৯ পিএম (ভিজিট : ৭৫)

X
মুকসুদপুরে পেট্রোল-অকটেন সংকট
গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলায় হঠাৎ করেই পেট্রোল ও অকটেনের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকার মালিকরা। উপজেলার প্রায় সব ফিলিং স্টেশন থেকে জ্বালানি উধাও হয়ে যাওয়ায় দৈনন্দিন যাতায়াত কার্যত ব্যাহত হচ্ছে।
উপজেলার মুকসুদপুর ফিলিং স্টেশন, নিশাতলা ফিলিং স্টেশন এবং মা ফিলিং স্টেশন—এই তিনটি প্রধান পাম্পেই বর্তমানে পেট্রোল ও অকটেন সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, কোথাও কোথাও অল্প পরিমাণে তেল এলেও তা দ্রুত শেষ হয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে রাতের দিকে কিছু পাম্পে মাত্র ২০০ টাকার তেল দিয়ে ‘শেষ’ ঘোষণা করা হচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
এর আগে উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারের খুচরা দোকানগুলোতে পেট্রোল ও অকটেন সহজলভ্য থাকলেও বর্তমানে সেখানেও তীব্র সংকট বিরাজ করছে। অভিযোগ উঠেছে, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী গোপনে তেল মজুদ রেখে প্রতি লিটার ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত দামে বিক্রি করছে।
এই সংকটের প্রভাব পড়েছে জনজীবনের প্রায় সব ক্ষেত্রে। চাকরিজীবী, সাংবাদিক ও ব্যবসায়ীরা প্রয়োজনীয় কাজে যানবাহন ব্যবহার করতে পারছেন না। যেখানে প্রতিদিন রাস্তায় শত শত মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকার চলাচল করত, সেখানে এখন দৃশ্যত কমে গেছে যানবাহনের সংখ্যা। সাধারণ মানুষের মুখে মুখে এখন পেট্রোল ও অকটেন ‘সোনার হরিণ’ হিসেবে আলোচিত হচ্ছে।
ফিলিং স্টেশন সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, ডিপো থেকে চাহিদা অনুযায়ী ডিজেল, পেট্রোল ও অকটেন সরবরাহ না পাওয়াই এই সংকটের মূল কারণ।
এদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে মুকসুদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদ আশিক কবির নিয়মিত ফিলিং স্টেশন পরিদর্শন করছেন। পাশাপাশি উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে অভিযান চালানো হচ্ছে। ইতোমধ্যে তেল মজুদের অভিযোগে কয়েকজন ব্যবসায়ীকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা করা হয়েছে।
তবে স্থানীয়দের দাবি, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি—বিশেষ করে ইরান, আমেরিকা ও ইসরাইলের চলমান উত্তেজনাকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে। তারা গোপনে তেল মজুদ রেখে অতিরিক্ত মুনাফা অর্জনের চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
এ অবস্থায় দ্রুত জ্বালানি সংকট নিরসনে প্রশাসনের কার্যকর ও স্থায়ী পদক্ষেপ কামনা করেছেন সাধারণ মানুষ।