
X
চট্টগ্রামে খেলার মাঠ দখল করে মাসব্যাপী মেলা আয়োজন এখন যেন নিয়মে পরিণত হয়েছে। আর এ অনিয়মের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্বাঞ্চল কর্তৃপক্ষের ভূমিকা। “খেলার মাঠে মেলা নয়”—এই বহুল আলোচিত নীতিকে প্রকাশ্যে অগ্রাহ্য করে বারবার একই স্থানে মেলার অনুমতি দেওয়ায় জনমনে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
নগরীর পাহাড়তলী থানার আমবাগান এলাকায় অবস্থিত শহীদ শাহজাহান মাঠে চলতি বছরও পুরো এপ্রিলজুড়ে মেলা বসানো হয়েছে। ফলে মাঠটি কার্যত খেলাধুলার বাইরে চলে গেছে। স্থানীয় শিশু-কিশোরদের জন্য একমাত্র উন্মুক্ত এই মাঠটি হারিয়ে যাওয়ায় তারা বাধ্য হয়ে ঘরে বন্দি জীবনযাপন করছে। এতে বাড়ছে মোবাইল নির্ভরতা, কমছে শারীরিক ও মানসিক বিকাশের সুযোগ—যা দীর্ঘমেয়াদে সামাজিক অবক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
অভিযোগ রয়েছে, দৃষ্টি প্রতিবন্ধী কল্যাণ সংস্থার প্রধান নির্বাহী পরিচয়ে মোশাররফ হোসেন মাসুদের নামে এই মেলার আয়োজন করা হয়েছে। তবে স্থানীয়দের ভাষ্য, নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে প্রভাব খাটিয়ে এবং আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে অনুমতি নেওয়া হয়েছে বলে জানা যায়।
উল্লেখ্য, গত বছর একই সময়ে এই মাঠে মেলা বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হলে এলাকাবাসীর তীব্র প্রতিবাদ ও গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পর তা বন্ধ করতে বাধ্য হয় সংশ্লিষ্টরা। কিন্তু চলতি বছর আবারও একই চিত্রের পুনরাবৃত্তি ঘটায় রেলওয়ের দায়িত্বশীলতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
মেলা বসার ফলে আশপাশের সড়কে চরম ভোগান্তি তৈরি হয়। স্থানীয়দের দাবি, মেলার সময় প্রায় ২ কিলোমিটার এলাকায় দীর্ঘ যানজট লেগে থাকে, যা প্রতিদিনের যাতায়াতকে দুর্বিষহ করে তুলেছে।
সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো, একই সময়ে কাছাকাছি রেলওয়ের জায়গায় দুটি বাণিজ্যিক মেলার অনুমতি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী নির্দিষ্ট দূরত্বের মধ্যে একাধিক মেলার অনুমতি দেওয়ার বিধান না থাকলেও তা উপেক্ষা করা হয়েছে কিনা—সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক (ডিআরএম) দাবি করেন, “সকল নিয়ম মেনেই মেলার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।” তবে মন্ত্রণালয়ের কোনো নির্দেশনা রয়েছে কিনা—সে প্রশ্নে তিনি সুনির্দিষ্ট জবাব দিতে পারেননি।
অন্যদিকে মেলার আয়োজক মোশাররফ হোসেন মাসুদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রশ্নের জবাবে ক্ষোভ প্রকাশ করে বাংলাদেশ বুলেটিনকে বলেন, রেলওয়ে অনুমতি না দিলে মেলা বসত কীভাবে? আপনারা রেলওয়ের সাথে যোগাযোগ করেন। এরপর তিনি আর কোনো মন্তব্য না করে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন।
খেলার মাঠ দখল করে বারবার মেলা আয়োজন, নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগ এবং জনদুর্ভোগ—সব মিলিয়ে বিষয়টি এখন শুধু একটি স্থানীয় সমস্যায় সীমাবদ্ধ নেই; বরং এটি প্রশাসনিক জবাবদিহিতা ও নীতিমালার কার্যকারিতা নিয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ ও কঠোর অবস্থান না নিলে ভবিষ্যতে নগরীর অবশিষ্ট খেলার মাঠগুলোও একই পরিণতির মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল।