
X
বসন্তের রঙে সাতক্ষীরায় সাংবাদিক-গুণীজনের মহামিলন
‘ওরে গৃহবাসী, খোল্ দ্বার খোল্, লাগল যে দোল’ কবিগুরুর এই অমোঘ আহ্বানে সাড়া দিয়ে ‘বসন্ত মানে নতুন আশা, বসন্ত মানে ভালোবাসা’ স্লোগানে জেগে উঠেছে প্রকৃতি। জীর্ণতা ঝেড়ে ফেলে নব সাজে সেজেছে চারপাশ। ইট-পাথরের যান্ত্রিক জীবন পেরিয়ে বসন্ত আজ শুধু ঋতু নয়, এক গভীর অনুভূতির নাম। সেই আবেগময় পরিবেশেই সাতক্ষীরায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো বসন্ত উৎসব।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) বিকালে শহরের ফুড প্লাস চত্বরে আয়োজিত এ উৎসব রূপ নেয় সাংবাদিক, কবি, সাহিত্যিক ও গুণীজনদের এক প্রাণবন্ত মিলনমেলায়।
অশোক-পলাশের রঙিন ছোঁয়া আর দখিন বাতাসের মৃদু পরশ যেন ছড়িয়ে দেয় অকারণ আনন্দ। সাতক্ষীরা সাংবাদিক কেন্দ্রের আয়োজনে প্রতিটি মুহূর্তে ছিল নতুনের আহ্বান।
সাংবাদিক কেন্দ্রের সভাপতি আব্দুস সামাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সাধারণ সম্পাদক আহসান রাজিব। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সভাপতি আবুল কাশেম, সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান, দৈনিক দৃষ্টিপাতের সম্পাদক জিএম নূর ইসলাম, দক্ষিণের মশালের সম্পাদক আশেক-ই-এলাহী, সাবেক সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব তৈয়েব হাসান বাবুসহ নানা অঙ্গনের বিশিষ্টজনেরা।
এছাড়া উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র সাংবাদিক রামকৃষ্ণ চক্রবর্তী, বদিউজ্জামান বাচ্চু, শামীম পারভেজ, মোশারফ হোসেন, বরুন ব্যানার্জী, নাগরিক নেতা মাধব চন্দ্র দত্ত, নারী নেত্রী জ্যোৎস্না দত্ত, অধ্যাপক ভারতী সরকারসহ সাংস্কৃতিক ও সামাজিক অঙ্গনের বহু গুণীজন।
অনুষ্ঠানের সাংস্কৃতিক পর্বে কণ্ঠশিল্পী পুষ্পিতা চক্রবর্তী অর্পা পরিবেশন করেন বসন্তের বন্দনা সংগীত ‘বাতাসে বহিছে প্রেম...’। নৃত্যে মনোমুগ্ধকর পরিবেশনা উপহার দেন সাংবাদিক তনয়া মেধা। গানে-নাচে উৎসব হয়ে ওঠে আরও প্রাণবন্ত ও উচ্ছ্বল।
উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ ছিল কৃতি ব্যক্তিত্বদের সম্মাননা প্রদান। আইনজীবী হিসেবে নতুন যাত্রা শুরু করায় এসএম বিপ্লব হোসেন এবং কালেরকণ্ঠ ডিজিটালে যোগদান করায় আলী মুক্তদাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। ক্রীড়াক্ষেত্রে অবদানের জন্য সম্মাননা পান তৈয়েব হাসান বাবু।
একই সঙ্গে অনুষ্ঠানে বিশেষ তাৎপর্য যোগ করে সাংবাদিক এসএম শহীদুল ইসলাম ও সালমা খাতুন দম্পতির ৩০তম বিবাহবার্ষিকী উদযাপন। সহকর্মী ও আয়োজকদের শুভেচ্ছায় মুহূর্তটি হয়ে ওঠে আবেগঘন।
দেশের বরেণ্য শিল্পীদের সুরের মূর্ছনায় বসন্তের সন্ধ্যা হয়ে ওঠে মায়াবী। আবু আফফান রোজবাবু, চৈতালী মুখার্জী, মাহবুব শাহ, শিরিনা আক্তার, ফারহানা ইমরোজ রোজসহ শিল্পীদের পরিবেশনায় উৎসব পায় পূর্ণতা।
সপরিবারে সাংবাদিকদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি রূপ নেয় এক বৃহৎ পারিবারিক মিলনমেলায়। পুরাতন বিরহ ভুলে নতুন জীবনের জয়গান গেয়ে শেষ হয় বসন্তের এই আনন্দ আয়োজন।
সবশেষে, প্রজাপতির পাখার মতো রঙিন আগামীর প্রত্যাশা আর ভালোবাসার বন্ধন অটুট রাখার অঙ্গীকারে ভাঙে এই উৎসবমুখর আসর।