নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলা সদরের গুরুত্বপূর্ণ ‘বালিকা বিদ্যালয় রোড’ এখন জনদুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংস্কারের মাত্র এক বছরের মাথায় রাস্তাটিতে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় স্কুলগামী শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের চরম বিড়ম্বনা পোহাতে হচ্ছে।
উপজেলা সদরের রাজপাড়া থেকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার পর্যন্ত বিস্তৃত এই রাস্তার পাশেই রয়েছে একটি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, তিনটি কিন্ডারগার্টেন, মসজিদ ও বেশ কিছু চিকিৎসকের চেম্বার। প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ এই পথে চলাচল করেন। সরেজমিনে দেখা যায়, রাজপাড়া থেকে প্রবেশের কিছু দূর পরই রাস্তার বড় অংশ জুড়ে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টির পানির পাশাপাশি গৃহস্থালির বর্জ্য পানি এখানে জমে থাকে। ফলে শুষ্ক মৌসুমেও রাস্তাটি কর্দমাক্ত থাকে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও মৌদাম সেসিপ মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোলাম মোস্তফা বলেন, "এই রাস্তাটি আমাদের জন্য এখন দুঃখের কারণ। বাসা থেকে বের হলেই জুতা হাতে নিয়ে নোংরা পানি পার হতে হয়। এটি অত্যন্ত বিড়ম্বনার।"
বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা সুরাইয়া আক্তার এবং আরবান একাডেমির পরিচালক মো. ফিরোজ মিয়া জানান, রাস্তার অবস্থা এতটাই খারাপ যে এটি এখন অনেকটা কর্দমাক্ত গ্রামের রাস্তার মতো হয়ে আছে। মিডিয়া আইডিয়াল স্কুল ও বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানায়, স্কুলে যাওয়ার পথে কাদা-পানিতে পড়ে গিয়ে প্রায়ই তাদের বই-খাতা ও পোশাক নষ্ট হয়ে যায়।
মিডিয়া আইডিয়াল স্কুলের পরিচালক জুলফিকার আলী শাহীন অভিযোগ করেন, ড্রেন না থাকায় পানি সরতে পারছে না, যা রাস্তার স্থায়িত্ব নষ্ট করছে। তিনি পূর্বধলায় কোনো পৌরসভা না থাকায় অপরিকল্পিত নগরায়নকে এই সমস্যার মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেন এবং দ্রুত ড্রেন নির্মাণের পাশাপাশি পূর্বধলা পৌরসভা চালুর দাবি জানান।
এদিকে, স্টেশন রোডের ব্র্যাক অফিসের সামনে আরসিসি ঢালাই দিয়ে রাস্তা উঁচু করা হলেও দুই পাশে ড্রেন না থাকায় সেখানেও পানি জমে রাস্তা ভেঙে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।
উপজেলা প্রকৌশলী মিশুক দত্ত বলেন, "রাস্তাটি মাত্র এক বছর আগে মেরামত করা হয়েছিল। কিন্তু রাস্তার দুই পাশের বাসিন্দারা গৃহস্থালির পানি সরাসরি রাস্তায় ছেড়ে দেওয়ায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে বিটুমিন নষ্ট হচ্ছে এবং গর্ত তৈরি হচ্ছে।"
স্থানীয়রা দ্রুত এই ভোগান্তি নিরসনে সংসদ সদস্য ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।