
X
অভিনেতা টেলি সামাদ
একজন কৌতুকের জাদুকর, করতেন মঞ্চনাটক। দর্শকের করতালির শব্দই তাকে মঞ্চ থেকে নিয়ে আসে টেলিভিশনে তারপর বড় পর্দায়। হাসির আড়ালে লুকিয়ে রেখেছিলেন গভীর শিল্পচেতনা, জীবনদর্শন আর অসীম ভালোবাসা। তিনি কৌতুকের কিংবদন্তি টেলি সামাদ। দেশের জনপ্রিয় এ অভিনেতার মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ২০১৯ সালের ৬ এপ্রিল দুপুরে অসুস্থতাজনিত কারণে ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তার তার বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর। টেলি সামাদের আসল নাম আবদুস সামাদ। তবে দর্শকদের কাছে ‘টেলি সামাদ’ নামেই তিনি অধিক পরিচিত।
এ অভিনেতা ১৯৪৫ সালের ৮ই জানুয়ারি মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার নয়াগাঁও গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা থেকে উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণ করেন টেলি সামাদ। তবে রঙতুলি নয়, তার সত্যিকারের ক্যানভাস হয়ে উঠেছিলো রূপালি পর্দা। যে ক্যানভাসে তিনি এঁকেছেন হাসির হাজারো রঙ।
১৯৭৩ সালে ‘কার বউ’ সিনেমার মাধ্যমে কৌতুকাভিনয়ের মাধ্যমে চলচ্চিত্র জগতে প্রবেশ করেন টেলি সামাদ। এরপর ‘নয়নমণি’, ‘পায়ে চলার পথ’, ‘চোরাবালি’, ‘নতুনবউ’, ‘সুন্দর আলী’-সহ প্রায় ছয় শতাধিক সিনেমায় রেখেছেন হাসির ছোঁয়া। সিনেমার পাশাপাশি টেলিভিশন ও মঞ্চ নাটকেও ছিল তার স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি।
টেলি সামাদের অভিনয়ে ছিল জীবনের হাস্যরসকে বাস্তবের সঙ্গে মিশিয়ে দেয়ার বিশেষ ক্ষমতা। বুদ্ধিদীপ্ত সংলাপ, অদ্ভুত মুখভঙ্গি আর অভিনব টাইমিং- কৌতুককে তিনি বানিয়েছিলেন একধরনের শিল্প, যা ছুঁয়ে যেত হৃদয়ের গভীরতাকে। প্রতিটি ফ্রেমে ফুটে উঠতো জীবনের আনন্দ-বেদনার মিশ্র প্রতিচ্ছবি।
টেলি সামাদ শুধু অভিনেতা নয়, ছিলেন গায়কও। রেডিও, টেলিভিশনে গেয়েছেন, করেছেন উপস্থাপনাও। ‘মনা পাগলা’ চলচ্চিত্রে সঙ্গীত পরিচালনার পাশাপাশি ৫০টির মত চলচ্চিত্রের গানে কণ্ঠ দিয়েছেন।
২০১৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রে তার বাইপাস সার্জারি করা হয়। ২০১৮ সালের শেষ দিকে তার রক্তে লোহিত রক্তকণিকার স্বল্পতা দেখা দেয়। এছাড়াও টেলি সামাদের খাদ্য নালীতে সমস্যার পাশাপাশি বুকে সংক্রমণ, ডায়াবেটিস ছিল।
২০১৫ সালে তার অভিনীত সর্বশেষ চলচ্চিত্র ‘জিরো ডিগ্রী’ মুক্তি পায়। তার হাসি এখনো ভেসে আসে সিনেমার পর্দা পেরিয়ে দর্শকমনে।
তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র হচ্ছে- ‘ভাত দে’, ‘রঙিন রূপবান’, ‘নতুন বউ’, ‘মাটির ঘর’, ‘নাগরদোলা’, ‘গোলাপী এখন ট্রেনে’, অশিক্ষিত, কালা, জয় পরাজয়, গুন্ডা, জব্বার, সুজন সখী, চাষীর মেয়ে, কুমারী মা, সাথী হারা নাগিন, মায়ের চোখ, আমার স্বপ্ন আমার সংসার, রিকশাওয়ালার ছেলে, মন বসে না পড়ার টেবিলে, কাজের মানুষ, মায়ের হাতে বেহেস্তের চাবি, কে আমি, কেয়ামত থেকে কেয়ামত, মিস লোলিতা।