প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:১৩ পিএম (ভিজিট : ১০৩)

X
চাষী ফোরামের স্মারকলিপি
বীজ আলুর দর পূণ:নির্ধারণের দাবিতে পঞ্চগড়ে বিএডিসি চেয়ারম্যান বরাবরে স্মারকলিপি দিয়েছে বিএডিসি চুক্তিবদ্ধ চাষী ফোরাম পঞ্চগড় জেলা শাখা। বৃহস্পতিবার বিকেলে বিএডিসি পঞ্চগড়ের উপ পরিচালকের (আলু বীজ) মাধ্যমে ওই স্মারকলিপি প্রদান করে।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, বীজ আলু বাংলাদেশের মধ্যে গুণগত মানের দিক থেকে পঞ্চগড় প্রথম স্থানে রয়েছে। পঞ্চগড়ের চাষীরা মাঠে নিরবিচ্ছিন্ন পরিশ্রম এবং অর্থ ব্যয় করে মানসম্মত বীজ আলু প্রদান করে আসছে। যে জাতের আলু বাণিজ্যিকভাবে চাষ করে একরে ১২-১৮ মে.টন ফলন আসে সেখানে বীজ আলু উৎপাদন হয় অনেক কম। প্রাকৃতিক দূর্যোগে কখনও কখনও উৎপাদন অর্ধেকে নেমে আসে।
কিন্তু পতিাপের বিষয় হল যে, প্রতিবছর উৎপাদন খরচ বাড়লেও বীজ আলুর দর কমানো হচ্ছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এস্টারেক্স (প্রত্যায়িত) ‘এ’ গ্রেড ৩৫-৩৬ টাকা কেজি দর নির্ধারণ করা হলেও গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা কমিয়ে করা হয় ২৬-২৮ টাকা। চলতি অর্থবছরে সেই আলুর দাম নির্ধারণ করা হয়েছে মাত্র ২২ টাকায়। বিগত তিন বছরে জমির মূল্য, শ্রমিক মজুরীসহ অন্যান্য জিনিসের দাম শতকরা ৩০ ভাগ বৃদ্ধি পেলেও চলতি বছরে বীজ আলুর মূল্য আরও কমিয়ে দেয়া হয়েছে।
বিএডিসি চুক্তিবদ্ধ চাষী ফোরাম পঞ্চগড় জোনের সভাপতি মো. আব্দুল মতিন জানান, বিএডিসির চুক্তিবদ্ধ চাষী হয়ে মানসম্মত বীজ আলু সরবরাহ করে প্রতি বছর আমরা লোকসান গুনেই চলেছি। উৎপাদন খরচ ক্রমাগতভাবে বেড়েই চললেও বিএডিসি কর্তৃপক্ষ আমাদের কোন মতামত না নিয়ে প্রতিবছর বীজ আলুর মূল্য কমিয়েই চলেছে। এভাবে চলতে থাকলে আমরা তো আর আলু চাষ করতে পারবো না। ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন বলেন, আমার জেলার বিএডিসি কর্মকর্তার তত্তাবধানে আলু চাষ করে থাকি। কিন্তু উর্দ্ধতন কর্তৃক্ষ স্টেকহোল্ডার এবং মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের কোন মতামত না নিয়ে ক্রমাগতভাবে বীজ আলুর দাম কমিয়েই চলছে। চলতি অর্থ বছরে বীজ আলুর মূল্য ৩৫-৩৬ টাকা করা না হলে আমরা কঠোর আন্দোলনে যাব।
পঞ্চগড় বিএডিসির উপ পরিচালক (বীজ আলু) কৃষিবিদ সামশুজ্জামান প্রামানিক বলেন, চলতি বছর পঞ্চগড় জেলায় ৪৩টি ব্লকে ৭৯ জন চাষীর মাধ্যমে ৫৮৬ একর জমিতে চুক্তিবদ্ধ আলু চাষীরা আলু আবাদ করেছে। আগাম বৃষ্টি হওয়ার কারণে গত বছরের তুলনায় এবার ফলন অনেকটাই কম বলে তিনি জানান।