
X
বিজু উৎসব শুরু
পুরোনো বছরকে বিদায় আর নতুন বছরকে বরণ করে নিতে পুজাপার্বনসহ নানা আনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে ভোর থেকে নদী,ঝর্ণা, ছড়ায় ফুল ভাসিয়ে চাকমা সম্প্রদায়ের তিন দিনব্যাপী বিজু উৎসব শুরু হয়েছে।
আজ রবিবার সকালে খাগড়াছড়ির চেঙ্গী, মাঈনীসহ জেলার ভিবিন্ন ঝর্ণা ছড়ায় ফুল ভাসানোর মধ্য দিয়ে এ উৎসবের শুরু হয়।
উৎসবের প্রথম দিনকে বলা হয় ‘ফুল বিজু’। এই দিনে পূজা-অর্চনার পাশাপাশি বাড়িঘর পরিষ্কার করে সাজানো হয়। ফুল ভাসিয়ে সুন্দর পৃথিবীর জন্য প্রার্থনা করেন চাকমা নারী-পুরুষ ও শিশুরা। নারীরা ঐতিহ্যবাহী পোশাক পিনন-হাদি ও পুরুষেরা ধুতি পরে উৎসবে যোগ দেন।
ভোরে চেঙ্গী নদীতে গিয়ে দেখা যায়, ফুল ভাসাতে ভিড় করেছেন স্থানীয় চাকমা জনগোষ্ঠীর বাসিন্দারা। তাঁদেরই একজন প্রবীণ বসুন্ধরা চাকমা। দুই কিলোমিটার দূরে লতিবান এলাকা থেকে এসেছেন । তিনি বলেন, ‘একসময় সন্তানদের নিয়ে ফুল ভাসাতে আসতাম। এখন বয়স বাড়ায় কষ্ট হলেও নাতি-নাতনিদের সঙ্গে এসেছি, মনের শান্তির জন্য। এবার প্রাণভরে প্রার্থনা করলাম, সবাই মিলেমিশে যেন ভালো থাকতে পারি, পৃথিবীতে যেন শান্তি থাকে।’
ফুল ভাসাতে আসা তরুণীদের একজন প্রমিলা চাকমা। তিনি বলেন, ‘আমরা সবাই মিলে চেঙ্গী নদীতে ফুল ভাসিয়ে আগামী দিনগুলোর জন্য সুখ–শান্তি কামনা করেছি। এখানে শত শত নারী-পুরুষ উৎসবে যোগ দিয়েছেন। আমিও সারা বছর অপেক্ষায় থাকি এদিনটার জন্য।’
আমরা বন্ধুরা মিলে চেঙ্গী নদীতে ফুল ভাসিয়ে আগামী দিনগুলোর জন্য সুখ–শান্তি কামনা করেছি।
উৎসব দেখতে নদীর পারে ভিড় জমান পাহাড়ি বাঙ্গালীসহ সকল সম্প্রদায়ের লোকজনও। ঢাকা,চট্টগ্রাম, কক্সবাজারসহ দেশের ভিবিন্ন জেলা থেকে উৎসব দেখতে আসেন চট্টগ্রাম থেকে আসা রুনা বড়ুয়া ও মির আসলাম। তাঁরা জানান, ২০২৪ সালে একবার রাঙামাটিতে ফুল ভাসানো উৎসব দেখতে গিয়েছিলেন দুজন। উৎসব দেখে খুবই মুগ্ধ হয়েছিলেন। এবার তাই আবারও ফুল ভাসানোর উৎসব দেখতে এসেছেন।
সরেজমিনে কথা হয় খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের (সাবেক) সদস্য ও জেলা বিএনপির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক রিংকু চাকমার সাথে তিনি বলেন, ‘বিজু আদিকাল থেকেই চলে আসছে। বিজু মানে আনন্দ, হইহুল্লোড়, বিজু মানে দল বেঁধে ঘুরে বেড়ানো। বিজু মানে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন সৃষ্টি করা।’
বাংলা বছরের শেষ দুই দিন ও নতুন বছরের প্রথম দিন চাকমারা বিজু উদ্যাপন করেন। আজ ফুল বিজু, ১৩ এপ্রিল সোমবার মূল বিজু, ১৪ এপ্রিল নু’অ বজর বা নতুন বছর, আর পয়লা বৈশাখের পর দিন উদ্যাপিত হয় ‘গোজ্যেপোজ্যে দিন’ হিসেবে। উৎসবের প্রথম দিনে পূজা-অর্চনা ও বাড়িঘর পরিষ্কার করে সাজানো হয়। দ্বিতীয় দিনে অতিথি আপ্যায়ন ও খাওয়াদাওয়ার আয়োজন করা হয়। তৃতীয় দিনে হাঁস-মুরগি ও পশুপাখিদের খাবার দেওয়া ও বয়োজ্যেষ্ঠদের কাছ থেকে আশীর্বাদ নেওয়া হয়।