প্রকাশ: সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:০৯ পিএম (ভিজিট : ৩৪)

X
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন
আসন্ন বর্ষাকে কেন্দ্র করে বন্দরনগরী চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনে দুই প্রকল্পে ৪৫ কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দ পাচ্ছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)।
চট্টগ্রামের সন্তান অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর আন্তরিকতায় চসিক দ্রুত সময়ের মধ্যে এই বড় বরাদ্দ পাচ্ছে বলে জানিয়েছেন মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। আগামী বর্ষার আগেই এই দুটি প্রকল্প যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে নগরবাসী জলাবদ্ধতার অভিশাপ থেকে মুক্তি পাবেন বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
দুই প্রকল্পের মধ্যে নগরীর ২৫টি খাল থেকে আনুমানিক এক কোটি ঘনফুট মাটি, আবর্জনা উত্তোলন ও অপসারণের জন্য ২৫ কোটি টাকা ব্যয় হবে। যার সম্পূর্ণ তত্ত্বাবধান করবে বাংলাদেশ নৌবাহিনী। এছাড়া, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের অধীনে প্রায় ১ হাজার ৬০০ কিলোমিটার সার্ভিস ড্রেন পরিষ্কার এবং ড্রেনে জমে থাকা মাটি ও আবর্জনা অপসারণের জন্য আরও ২০ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের বাজেট-১৪ শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব সৈয়দ আশরাফুজ্জামানের ৩১ মার্চ স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপন বলা হয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে প্রাপ্ত চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন এলাকায় আসন্ন বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা নিরসনকল্পে (১) নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধানে নগরীর ২৫টি খাল হতে আনুমানিক এক কোটি ঘনফুট মাটি ও আবর্জনা উত্তোলন ও অপসারণের জন্য ২৫ কোটি টাকা এবং (২) চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের অধীনস্থ প্রায় ১ হাজার ৬০০ কিলোমিটার সার্ভিস ড্রেন পরিষ্কার এবং ড্রেনে জমে থাকা মাটি ও আবর্জনা অপসারণের জন্য ২০ কোটি টাকা বিশেষ বরাদ্দ প্রদানের লক্ষ্যে 'সিটি কর্পোরেশন উন্নয়ন সহায়তা' খাতে ৪৫ কোটি টাকা অতিরিক্ত বরাদ্ধ প্রদানের বিষয়ে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশনা প্রেরণ করা হলো।
চসিক সূত্রে জানা যায়, এইবারের বরাদ্দে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনকে নগরীর ২৫টি খাল থেকে মাটি, আবর্জনা উত্তোলন ও অপসারণের কথা বলা হয়েছে। তবে জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য এই অর্থ দিয়েই প্রায় ৩০ খাল থেকে মাটি, আবর্জনা উত্তোলন ও অপসারণ করতে হবে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। গতবছর নগরীর ১৮টি খাল থেকে মাটি, আবর্জনা উত্তোলন ও অপসারণে ১১ কোটি টাকা বরাদ্দ পায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন। একইভাবে ড্রেনের কাজ করার জন্য ৫ কোটি টাকা বরাদ্দ পায় চসিক। অন্যদিকে ড্রেন পরিষ্কারে আরো ৫ কোটি টাকা খরচ করে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। খাল ও ড্রেন পরিষ্কার থাকায় বিগত বছরের তুলনায় গতবছর নগরীতে জলাবদ্ধতার ভোগান্তি কম হয়েছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, বিগত সময়ে জলাবদ্ধতা নিরসনে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনকে খুব একটা বরাদ্দ দেয়া হতো না। আমি দায়িত্ব গ্রহণের পর জলাবদ্ধতা নিরসনে অর্থ বরাদ্দের বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়েছি। এই বছর ৪৫ কোটি টাকা বরাদ্দ পেয়েছি। প্রকল্পের অর্থ দিয়ে যথাযথ কাজ করে নগরবাসীকে জলাবদ্ধতার অভিশাপ থেকে মুক্তি দিব।
তিনি আরো বলেন, চট্টগ্রামের কৃতী সন্তান আমাদের অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর আন্তরিকতায় দুই প্রকল্পের ৪৫ কোটি টাকা দ্রুত সময়ের মধ্যে বরাদ্দ পেয়েছি। যদিও বরাদ্দকৃত অর্থ এখনো চসিক পায়নি। আমরা আশা করছি দ্রুত সময়ের মধ্যে এই অর্থ পেলে কাজ শুরু হবে।