
X
বগুড়াকে ‘এডুকেশনাল হাব’ ও স্মার্ট কৃষির মডেলে রূপান্তরের ঘোষণা
বগুড়াকে দেশের অন্যতম শিক্ষা ও কৃষি-উন্নয়নের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিন মন্ত্রী বলেছেন, সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনার মাধ্যমে জেলাটিকে “এডুকেশনাল হাব” ও “স্মার্ট এগ্রিকালচার জোন”-এ রূপান্তর করা হবে। এ লক্ষ্যে কৃষকভিত্তিক ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণ, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) শিবগঞ্জ উপজেলা-এর উথলী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে প্রাক-পাইলটিং পর্যায়ে ‘কৃষক স্মার্ট কার্ড’ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনপ্রশাসন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারি।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, কৃষকদের জন্য চালু হওয়া ‘কৃষক স্মার্ট কার্ড’ শুধু পরিচয়পত্র নয়, এটি একটি সমন্বিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। এর মাধ্যমে কৃষকরা সরাসরি ভর্তুকি, প্রণোদনা, কৃষিঋণ সুবিধা, সার-বীজ বিতরণ এবং সরকারি সহায়তা পাবেন। এতে মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাব কমবে এবং কৃষি খাতে স্বচ্ছতা বাড়বে।
তিনি আরও জানান, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও বাজারজাতকরণ সহজ করতে ভবিষ্যতে এই কার্ডের সঙ্গে মোবাইল অ্যাপ ও জাতীয় ডাটাবেজ সংযুক্ত করা হবে।
বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী বগুড়াকে “এডুকেশনাল হাব” হিসেবে গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়ে বলেন, প্রতিটি উপজেলায় আধুনিক মাল্টিপারপাস একাডেমিক হল নির্মাণ করা হবে। কারিগরি ও প্রযুক্তি শিক্ষার প্রসারে নতুন ইনস্টিটিউট স্থাপন করা হবে। শিক্ষকদের আর্থিক ও সামাজিক মর্যাদা বাড়াতে উৎসব ভাতা ১০০ শতাংশে উন্নীত করার প্রক্রিয়া চলছে।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপি বলেন, বগুড়ার অবকাঠামোগত উন্নয়নে একাধিক মেগা প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দর ও পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার কাজ অগ্রাধিকার পাচ্ছে।
তিনি জানান, এদিন শিবগঞ্জে ৩,১৪৭ জন কৃষকের মাঝে স্মার্ট কার্ড বিতরণ করা হয় এবং প্রত্যেককে একটি করে ফলজ গাছের চারা দেওয়া হয়েছে, যা পরিবেশ সুরক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
এর আগে সকালে তিনি এডওয়ার্ড পার্ক-এ পাঁচ দিনব্যাপী বৈশাখী মেলার উদ্বোধন করেন এবং বগুড়াকে সিটি কর্পোরেশনে উন্নীত করার পরিকল্পনার কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জনপ্রশাসন ও খাদ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারি এমপি বলেন, সরকার প্রকৃত কৃষকদের শনাক্ত করতে একটি জাতীয় ডিজিটাল ডাটাবেজ তৈরি করছে। এর মাধ্যমে ভুয়া তালিকা বন্ধ হবে এবং প্রকৃত কৃষকরাই সরাসরি সরকারি সুবিধা পাবেন।
তিনি আরও বলেন, কৃষক কার্ডের মাধ্যমে খাদ্য নিরাপত্তা জোরদার হবে এবং কৃষকের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা বাড়বে।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) সকালে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম শিবগঞ্জের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শন করেন। তিনি মহাস্থান ও মোকামতলা এলাকায় প্রস্তাবিত কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্রের সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শন করেন।
এ সময় এলজিইডি’র গ্রামীণ সড়ক উন্নয়ন, বাজার অবকাঠামো এবং সেচ সুবিধা সম্প্রসারণের কাজ দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
কৃষকদের জন্য ডিজিটাল আইডি-ভিত্তিক সেবা চালুর মাধ্যমে দুর্নীতি কমানোর উদ্যোগ কৃষিপণ্য সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য আঞ্চলিক হাব গড়ে তোলার পরিকল্পনা স্থানীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে কৃষি ও শিক্ষা খাতের সমন্বিত উন্নয়ন কৌশল বৈশাখী মেলার মাধ্যমে স্থানীয় সংস্কৃতি ও অর্থনীতির চাঙ্গা হওয়ার প্রত্যাশা।
অনুষ্ঠানে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়-এর উপাচার্য ড. এএসএম আমানুল্লাহ, জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমানসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বিপুলসংখ্যক কৃষক উপস্থিত ছিলেন।