প্রকাশ: শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:১৫ পিএম (ভিজিট : ১০৬)

X
জলকেলিতে মাতোয়ারা মারমা তরুণ-তরুণীরা
রাঙ্গামাটিতে সাড়ম্বরে উদযাপিত হয়েছে মারমা জনগোষ্ঠীর প্রধান সামাজিক উৎসব ‘সাংগ্রাই’।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সকালে রাঙ্গাামাটি চিং হ্লা মং চৌধুরী মারী স্টেডিয়ামে মারমা সংস্কৃতি সংস্থা (মাসস)-এর উদ্যোগে দিনব্যাপী এই বর্ণিল উৎসবের আয়োজন করা হয়। আলোচনা সভা শেষে অতিথিরা একে অপরের গায়ে পানি ছিটিয়ে ‘সাংগ্রাই মৈত্রী জল উৎসব’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
সাংগ্রাই কেবল নিছক আনন্দ উৎসব নয়, এর পেছনে রয়েছে গভীর আধ্যাত্মিক গুরুত্ব। পুরোনো বছরের সকল কষ্ট ও বেদনাকে পেছনে ফেলে নতুন বছরে শান্তি ও সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার শপথ নেন উৎসবকামী মানুষ। সাংস্কৃতিক পর্বে মারমা জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী গান ও নাচের ছন্দে পুরো স্টেডিয়াম এলাকা একখণ্ড পাহাড়ি সংস্কৃতিতে রূপ নেয়। তরুণ-তরুণীদের এই প্রাণবন্ত উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে গোটা রাঙ্গামাটি শহরে।
উৎসবে অংশ নেয়া মারমা তরুণী নবনীতা মারমা জানান, সারা বছর আমরা এই দিনটির জন্য অপেক্ষা করি। মৈত্রী পানি ছিটিয়ে আমরা একে অপরের মঙ্গল কামনা করি।
পাহাড়ের এই নান্দনিক রূপ উপভোগ করতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে রাঙ্গামাটিতে ভিড় জমিয়েছেন অসংখ্য পর্যটক। ভিন্ন সংস্কৃতির এই মহামিলন তাদের কাছে এক রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা। অনেক পর্যটককে স্থানীয়দের সঙ্গে জলকেলিতে মেতে উঠতে এবং ক্যামেরাবন্দি করতে দেখা যায়।
অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান এবং মন্ত্রণালয় ও ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন। তারা পাহাড়ের এই বৈচিত্র্যময় উৎসবের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং পাহাড়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
দীপেন দেওয়ান বলেন, পাহাড়ের সকল অধিবাসীদের জন্য সমান সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করাই আমাদের সরকারের লক্ষ্য। এখন আর কারো প্রতি বৈষম্য হবে না। আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যে রংধনু জাতি গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন, আমরা সকলে মিলে মিশে তা গঠনে ঐক্যবদ্ধ থাকবো।
জল উৎসবের এই বর্ণিল আয়োজনের মধ্য দিয়েই পর্দা নামলো পাহাড়ের সবচেয়ে বড় সামাজিক উৎসবগুলোর। সাংগ্রাইয়ের পবিত্র পানি যেভাবে ধুলোবালি ধুয়ে দেয়, ঠিক সেভাবেই মানুষের হৃদয়ের সকল দ্বেষ-বিদ্বেষ মুছে দিয়ে একটি সুন্দর ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ে উঠবে, এমনই প্রত্যাশা নিয়ে ঘরে ফেরেন উৎসবে আসা মানুষ।