
X
ডাকাত দলের সক্রিয় ১০ জন সদস্য গ্রেফতার
পঞ্চগড়ে আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সক্রিয় ১০ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে। তাদের কাছ থেকে দেশীয় অস্ত্র ও সরঞ্জামাদি উদ্ধার সহ একটি মাইক্রোবাস জব্দ করা হয়েছে।
সোমবার ভোরে পঞ্চগড়-তেঁতুলিয়া মহাসড়কের পঞ্চগড় পানি উন্নয়ন বোর্ডের সামনে থেকে দুইজন এবং তাদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী পঞ্চগড় সদর উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে আরও আটজনকে গ্রেফতার করা হয়। বিকেলে পুলিশ সুপার কার্যালয়ের হলরুমে এক প্রেস ব্রিফিং এ এই তথ্য জানান পঞ্চগড়ের পুলিশ সুপার মো. রবিউল ইসলাম।
প্রেস ব্রিফিং এ পুলিশ সুপার জানান, পঞ্চগড় জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার একটি আভিযানিক দল সোমবার রাত অনুমান আড়াইটার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারেন যে, একটি সক্রিয় আন্তঃজেলা ডাকাত দল দেশীয় অস্ত্র-সস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ডাকাতির উদ্দেশ্যে পঞ্চগড় জেলার সদর থানাধীন দশমাইল এলাকায় মাইক্রোবাসযোগে প্রবেশ করেছে।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় ভোররাত সাড়ে চারটার দিকে অভিযান পরিচালনা করে পানি উন্নয়ন বোর্ড অফিস সংলগ্ন পঞ্চগড়-তেঁতুলিয়া মহাসড়কের পার্শ্বে দাড়িয়ে থাকা ট্রাকের আড়ালে একটি সাদা রংঙের পুরাতন নিশান মাইক্রোবাস তল্লাশি করে মাইক্রোবাসের ভেতরে থাকা আন্তঃজেলা ডাকাত দলের দুইজন সদস্য দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার ভাবকী ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের আবু চন্দ্র রায়ের ছেলে প্রদীপ রায় (৩৮) এবং একই জেলার চিরিরবন্দর উপজেলার ভুষিরবন্দর গ্রামের হযরত আলীর ছেলে জহুরুল ইসলাম (৩০) গ্রেফতার করে। সেখান থেকে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত মাইক্রোবাস ও তাদের নিকট থাকা ০২টি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।
গ্রেফতারকৃত দুইজনকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তারা স্বীকার করে যে, তারা আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সক্রিয় সদস্য। তারা আরো জানায় যে, তাদের সঙ্গীয় আটজন ডাকাতির উদ্দেশ্যে পঞ্চগড় সদর থানাধীন দশমাইল এলাকায় অবস্থান করছে। উল্লেখিত ধৃত আসামীদ্বয়ের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পঞ্চগড় সদর থানাধীন বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে সকাল পর্যন্ত বিভিন্ন স্থান থেকে আরও আটজনকে গ্রেফতার করা হয়।
তারা হল পঞ্চগড় সদর উপজেলার ইসলামবাগ গ্রামের মৃত শিরিল টুডুর ছেলে নুর ইসলাম পাচকেল (৬০), রংপুর জেলার কোতয়ালী থানার অতিরামপুর হাজীপাড়া গ্রামের মৃত শহিদার রহমানের ছেলে মো. আব্দুস সালাম (৫৮), দিনাজপুর জেলার কোতয়ালী থাকার বৈকণ্ঠপুর গ্রামের মৃত জহুরুল ইসলামের ছেলে খায়রুল ইসলাম (৪৫) ও বেলবাড়ী গ্রামের মৃত মোবারক আলীর ছেলে বাবুল হোসেন (৫৪), রংপুর জেলার কোতয়ালী থানার জোলাপাড়া (ঈশ্বপরপুর) গ্রামের মৃত আলী হোসেনের ছেলে মো. ফারুক, মানিকগঞ্জ জেলার দৌলতপুর থানার খলশী কুমুরিয়া গ্রামের মাহমুদ আলীর ছেলে আব্দুল মান্নান (৪০), রংপুর জেলার বদরগঞ্জ থানার দক্ষিণ বিষ্ণপুর মাঝাপাড়া গ্রামের ছকিউল ইসলামের ছেলে আবু সুমন (৩০) এবং দিনাজপুরের চিরিরবন্দর থানার দক্ষিণ নসরতপুর গ্রামের মো, আব্দুলের ছেলে মমিন ইসলাম (৩৮)।
তাদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী পঞ্চগড় সদর থানাধীন সাতমেড়া ইউপিস্থ চেকরমারী ঈদগাহ মাঠের সংলগ্ন পাথর গ্যারেজ অফিসের সামনে আম গাছের নিচে বালুর ঢিবিতে লুকিয়ে রাখা ডাকাতি কাজে ব্যবহৃত একটি বস্তা উদ্ধার করা হয়। সেখানে প্লাষ্টিকের ব্যাগে রক্ষিত একটি বড় ধারালো ছুরি, একটি মাঝারি ধারালো ছুরি, দুইট কাটার মেশিন, দুইটি স্লাইরেঞ্জ, একটি প্লাস, একটি লাল কালো রঙ এর কাটার ব্লেড, দুইটি টিয়া ও কালো কালার হাতলসহ হ্যাক্স ব্লেড, একটি হাতল ছাড়া হ্যাক্স ব্লেড, ১৩টি হ্যাক্স ব্লেড, একটি লোহার তৈরি তারকাটা উঠানো যন্ত্র, একটি নাট খোলার গুটি রেঞ্জ, নাটে ব্যবহৃত বিভিন্ন সাইজের ছয়টি লোহার গুটি, ৫০ গ্রাম পলিথিন, পাঁচশ গ্রাম রশি, দুইটি টর্চ লাইট এবং ডাকাতির কাজে কাজে ব্যবহৃত সাতটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।
এ ব্যাপারে পঞ্চগড় জেলার সদর থানায় একটি নিয়মিত মামলা রুজুপূর্বক গ্রেফতারকৃত আসামীদের বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।