সৈয়দপুরে রেলের জমিতে বহুতল ভবন-রেঁস্তোরা-ব্যাংক, বাদ যায়নি জলাশয়ও

সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি

সারাবাংলা

দেশের বৃহত্তম রেলওয়ে কারখানাকে ঘিরে গোড়াপত্তন ঘটে নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরের। এ শহরকে বলা হয় ‘রেলের শহর’। এ কারণে

2026-04-21T17:36:55+00:00
2026-04-21T17:36:55+00:00
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬ ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬
   
সৈয়দপুরে রেলের জমিতে বহুতল ভবন-রেঁস্তোরা-ব্যাংক, বাদ যায়নি জলাশয়ও
সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:৩৬ পিএম   (ভিজিট : ৬৯)
সৈয়দপুরে রেলের জমিতে বহুতল ভবন-রেঁস্তোরা-ব্যাংক, বাদ যায়নি জলাশয়ও
X

সৈয়দপুরে রেলের জমিতে বহুতল ভবন-রেঁস্তোরা-ব্যাংক, বাদ যায়নি জলাশয়ও

দেশের বৃহত্তম রেলওয়ে কারখানাকে ঘিরে গোড়াপত্তন ঘটে নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরের। এ শহরকে বলা হয় ‘রেলের শহর’। এ কারণে জেলায় রেলের জমি বেদখলে থাকার ঘটনা নতুন নয়। সৈয়দপুর রেল অঞ্চলে দখল-দারিত্বের মাত্রা রীতিমতো নিত্যদিনের ঘটনায় পরিণত হয়েছে। 

প্রতিদিনই লক্ষ্য করা যায়, কোথাও না কোথাও বহুতল ভবনসহ বাসা-বাড়ি তৈরি করা হচ্ছে। বেহাত হয়েছে শহরে অবস্থিত প্রায় সাড়ে ৪শ একর জমি। এর কারণ হিসেবে দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও রেলের কর্মকর্তাদের অজ্ঞাত কারণে নীরবতাকে দুষছেন সংশ্লিষ্টরা। দখল হওয়া এসব রেলের জমিতে গড়ে তোলা হয়েছে অসংখ্য বহুতল ভবন। কোনো-কোনো স্থানে এসব জমি কৌশলে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠাসহ ব্যক্তির নামে দিয়ে হরিলুট হয়েছে। দখলের থাবা থেকে বাদ যায়নি কেপিআই অন্তর্ভুক্ত জমিও। রেলের একশ্রেণির অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগ-সাজশেই হয়েছে সব অপকর্ম। আর স্থানীয় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের কারণে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা সম্ভব হয়নি। 

সবশেষ ২০২২ সালে রেলের ভূমি ব্যবস্থাপনার কমপ্লায়েন্স নিরীক্ষা প্রতিবেদনে সব মিলিয়ে ৪২৭ একর জমি অবৈধ দখলদারদের হাতে চলে যাওয়ার তথ্য উঠে আসে। দখল হওয়া এসব জমির মধ্যে ১৫ দশমিক ২১৮৩ একর সিএস, এসএ, আরএস, বিএস জরিপের সময় ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে রেকর্ডভুক্ত এবং নামজারি করা হয়েছে। প্রতিবেদন জমা পড়ার পরেও এসব জমি সংশোধনের কোনো ব্যবস্থা নেয়নি রেল কর্তৃপক্ষ। এভাবে জমি দখল হয়ে যাওয়ায় শুধু লাইসেন্স ফি’ বাবদই বার্ষিক দুই কোটি ৫৪ লাখ টাকার ক্ষতি হচ্ছে রেলের। রেলওয়ে সূত্র বলছে, সৈয়দপুর শহরে ৮শ একর ভূ-সম্পত্তির মধ্যে ১৮৭০ সালে ১১০ একর জমিতে দেশের বৃহত্তম রেলওয়ে কারখানা গড়ে ওঠে। অবশিষ্ট জমির মধ্যে আছে রেলের বিভিন্ন স্থাপনা ও কর্মচারীদের জন্য বসত-বাড়ি। অব্যবহৃত জমির মধ্যে ৫৫ একর কৃষি,২১ দশমিক ৩৮ একর জলাশয়, ১ একর বাণিজ্যিক হিসেবে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ২৫ দশমিক ৭৫ একর জমি পৌরসভার কাছে আছে। আর স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত রেলের বাদ-বাকি ৪৩৭ একর জমি বেহাত বা দখল হয়েছে। 

দখল ও বেহাত হওয়া রেলের জমিতে বহুতল ভবন হয়েছে অর্ধেকেরও বেশি। ‘সরকারি বিধি অনুযায়ী হাট-বাজার এলাকা ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা নিয়ন্ত্রণ করবে। এর ৬০ শতাংশ খাজনা তাদের রাজস্বে যাবে। আর ৪০ শতাংশ রেলওয়েকে দিতে হবে। কিন্তু সৈয়দপুর পৌরসভা কর্তৃপক্ষ তিন থেকে চার মাস এ নিয়ম মানলেও পরবর্তী সময়ে তারা আর রেলওয়েকে কোনো খাজনা দেয়নি।’ 

অনুসন্ধানে দেখা যায়, শহরের স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যবসায়ী রেলওয়ে কোয়ার্টার ও জমি দখল করে ১২টি বহুতল ভবন নির্মাণ করেছেন। সৈয়দপুর রেলওয়ের জায়গায় রেঁস্তোরা, অবৈধভাবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বহুতল ভবন নির্মাণ, শেরেবাংলা সড়কের রেলের জায়গা অবৈধভাবে দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণ, রেলের জলাশয় (ওয়াটার রিজার্ভার) দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জমি অবৈধভাবে দখল করে দখলদাররা বিভিন্ন ব্যাংকসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে ভাড়া দিয়ে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। রেলের নাম ভাঙ্গিয়ে সম্পূর্ণ অবৈধভাবে গড়ে তোলা হয়েছে অর্ধ-শতাধিক দোকান। এছাড়া অবৈধভাবে গড়ে ওঠা ১৪০০ বাড়ি বা স্থাপনা থেকে ভাড়া তুলছেন রেলওয়ে কর্মচারী ও ভূমিদস্যুরা। এসব স্থাপনায় অবৈধভাবে বিদ্যূৎ ব্যবহার করা হচ্ছে। 

অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, রেলের জায়গায় রয়েছে দলীয় অফিস, আবাসিক হোটেল, পাঁচহাজার অবৈধ দোকান, ১৬টি ব্যাংকসহ ৪৩টি শিল্প-প্রতিষ্ঠান। এতে রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে সরকার। 

এ বিষয়ে রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলামের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করে না পাওয়ায় এমনকি তার মোবাইল ফোনে কল দিলে তিনি রিসিভ না করায় তার মন্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। 

এ বিষয়ে সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার বিভাগীয় তত্বাবধায়ক (ডিএস) সুফি নূর মোহা জানান, আমি এখানে আসার এখনও দেড়বছরও হয়নি। বেশ কয়েক বছর আমাদের দপ্তর এ ব্যাপারগুলো দেখলেও এগুলো এখন দেখেন বিভাগীয় এস্টেট বিভাগ, পাকশী। এসময় তিনি দু:খ প্রকাশ করে জানান, আমি আসার পর এসব ব্যাপার নিয়ে কেউ আমাকে প্রশ্ন করেননি বা এ ব্যাপারে জানতে চাননি। আমি ধারণা করেছিলাম অল আর ম্যানেজ্ট। আপনাকে ধন্যবাদ যে, আপনি এ বিষয়ে জানতে চেয়েছেন। 

আমরা ইতিমধ্যে ডিসি অফিসে আইন-শৃংখলার মিটিংয়ে এসব তথ্য তুলে ধরেছি। আমরা আপাতত: আমাদের কর্মচারীদের জন্য বরাদ্দকৃত রেলের দখল হয়ে যাওয়া কোয়ার্টারগুলো দখলমুক্ত করতে ব্যবস্থা নিচ্ছি। পর্যায়ক্রমে রেলওয়ের উর্দ্ধমহলেল সহযোগিতায় এসব ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

একটি সূত্রমতে, ১৯৮৫ সালে সৈয়দপুর রেলওয়ে ২৫ দশমিক ৭৫ একর জমি পৌরসভার কাছে হস্তান্তর করে। চুক্তি অনুযায়ী, জমির মালিকানা রেলের কাছেই থাকার কথা ছিল। কিন্তু পৌরসভাকে দেওয়া ওই ২৫ দশমিক ৭৫ একরের ওপর ভিত্তি করেই রেলওয়ের জমি দিন-দিন বেদখল হচ্ছে। 

জানা যায়, সরকারি বিধি অনুযায়ী হাট-বাজার এলাকা ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা নিয়ন্ত্রণ করবে। এর ৬০ শতাংশ খাজনা তাদের রাজস্বে যাবে। আর ৪০ শতাংশ রেলওয়েকে দিতে হবে। কিন্তু সৈয়দপুর পৌরসভা কর্তৃপক্ষ কিছুদিন এ নিয়ম মানলেও পরবর্তী সময়ে তারা আর রেলওয়েকে কোনো খাজনা দেয়নি। একাধিকবার ভূ-সম্পত্তি বিভাগ এরিয়া নির্ধারণ করতে পৌরসভাবে চিঠি দিলেও তারা কর্ণপাত করেননি। পরবর্তী সময়ে বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়। 

এদিকে, সৈয়দপুরের কেউ-কেউ জানান, রেলের কাছে তারা বরাদ্দ নিয়েছেন। একইভাবে আরও কয়েকজন দখলদারদের সঙ্গে কথা হলে তাদের কেউ পৌরসভা আবার কেউ-কেউ রেলের কাছে বরাদ্দ নেওয়ার কথা জানান। 

এ বিষয়ে সৈয়দপুর পৌরসভার প্রশাসক উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফারাহ ফাতেহা তাকমিলা জানান, আমি নতুন। তবে, তিনি জানান, রেলওয়ের এস্টেট বিভাগের ম্যাজিস্ট্রেট রয়েছেন। তারা এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নিতে পারেন।





Loading...
Loading...


সারাবাংলা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy