হলিউডের ঝলমলে দুনিয়ায় সৌন্দর্য, সাফল্য আর আত্মবিশ্বাসের মেলবন্ধনে যে কয়েকজন তারকা আজও সমান উজ্জ্বল, তাদের অন্যতম অ্যান হ্যাথাওয়ে। ২০২৬ সালে পিপল ম্যাগাজিনের ‘ওয়ার্ল্ডস মোস্ট বিউটিফুল’ কভার স্টার নির্বাচিত হয়েছেন অ্যান হ্যাথাওয়ে। বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দরী নারী নির্বাচিত হওয়ার পেছনে রয়েছে তার লড়াই ও বদলে যাওয়ার গল্প।
৪৩ বছর বয়সি অ্যান হ্যাথাওয়ে বলেন, ‘ক্যারিয়ারের শুরুতে ভাবতাম, নিজের প্রতি কঠোর হলে আমি আরো ভালো শিল্পী হতে পারব। কিন্তু চল্লিশ বছর বয়সে এসে আমি নতুন মাত্রা খুঁজে পেলাম। অস্বস্তিকর জীবন কাটানোর প্রতি আমার আর কোনো আগ্রহ ছিল না। আমি শুধু জীবনের মজার অংশটুকু উপভোগ করতে চাই।’
দীর্ঘ ক্যারিয়ার থেকেই অ্যান হ্যাথাওয়ের এসব উপলব্ধি হয়েছে। ২০০১ সালে ‘দ্য প্রিন্সেস ডায়েরিজ’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় যাত্রা শুরু করেন তিনি। এরপর ‘ব্রোকব্যাক মাউন্টেন’, ‘বিকামিং জেইন’-এর মতো শিল্পধর্মী সিনেমা থেকে শুরু করে ‘এলিস ইন ওয়ান্ডারল্যান্ড’ কিংবা ‘লা মিজারেবলস’ এর মতো ব্লকবাস্টার সিনেমা উপহার দেন। ‘লা মিজারেবলস’ সিনেমার জন্য অস্কার জিতে নেন এই তারকা।
চলতি বছরটি ভীষণ ব্যস্ততায় কাটছে অ্যান হ্যাথাওয়ের। এ বছরে মুক্তি পাবে তার অভিনীত পাঁচটি সিনেমা, যার মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ‘দ্য ডেভিল ওয়ারস প্রাডা টু’। প্রায় দুই দশক পর আবারো অ্যান্ডি স্যাকস চরিত্রে ফিরেছেন; এ যেন নস্টালজিয়া আর নতুন অভিজ্ঞতার এক মিশেল। তার সঙ্গে ফিরেছেন আগের সহশিল্পীরাও। যেমন-মেরিল স্ট্রিপ, এমিলি ব্লান্ট ও স্ট্যানলি টুচি। অ্যান হ্যাথাওয়ের ভাষায়-‘ এই পুনর্মিলন ছিল ‘সুন্দর ও আনন্দে ভরা এক অভিজ্ঞতা।’
ব্যক্তিগত জীবনে জুয়েলারি ডিজাইনার ও প্রযোজক অ্যাডাম শুলমানকে বিয়ে করেছেন অ্যান হ্যাথাওয়ে। ১৩ বছরের দাম্পত্য জীবনে তাদের দুটো পুত্রসন্তান রয়েছে। ব্যক্তিগত জীবনে অ্যানের সবচেয়ে ভরসার মানুষ অ্যাডাম। এ মানুষগুলো অভিনেত্রীকে বাস্তবতার মাটিতে পা রাখতে সাহায্য করেন। হ্যাথাওয়ে স্বীকার করেন, এত সাফল্যের পরও জীবনে একটা ‘অবিরাম লড়াই’ থেকে যায়। কিন্তু সেই লড়াইটাকে তিনি ভালোবাসেন।
অ্যান হ্যাথাওয়ে বলেন, ‘আপনি সবসময় খাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে থাকেন। আপনি পড়ে যান, আবার কোনোভাবে উঠে দাঁড়ান। কিন্তু আমি এটা ভালোবাসি। আমি ঝুঁকি নিতে ভালোবাসি। আমি মনে করি, আমি সর্বোচ্চ যা আশা করতে পারি তা হলো, আমি যদি যথেষ্ট ভাগ্যবান হই, কাজ চালিয়ে যেতে পারি, তাহলে পেছনে ফিরে তাকিয়ে বলতে পারব-‘ওহ, আমি এটা করেছি।’
শৈশব থেকেই অভিনয়ের প্রতি হ্যাথাওয়ের ছিল আগ্রহ। মাত্র তিন বছর বয়সে মঞ্চে মায়ের অভিনয় দেখে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, তিনিও একদিন অভিনেত্রী হবেন। তবে পথটা সহজ ছিল না। কৈশোর থেকে ত্রিশের শেষ পর্যন্ত তিনি নিজেকে অস্বস্তিকর অবস্থার মধ্যেই দেখেছেন। এমনকি কথা বলতেও তার অসুবিধা হতো। ক্যারিয়ারের শুরুতে সৌন্দর্য নিয়েও ছিল নানা বিভ্রান্তি। কীভাবে নিজের চুল বা লুক ঠিক করতে হবে, এই ‘ভাষা’ বুঝতেই হ্যাথাওয়ের এক দশক লেগে গেছে। এখন অবশ্য তিনি জানেন, নিজের পছন্দ বোঝাতে হলে কল্পনার চেয়ে ছবিই বেশি কার্যকর।