প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:৩৩ পিএম (ভিজিট : ৭১)

X
তেলের লাইনে মা
শ্যামনগরে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটে জনজীবনে নেমে এসেছে চরম ভোগান্তি। বিশেষ করে মোটরসাইকেলভিত্তিক জীবিকা নির্ভর মানুষগুলো পড়েছেন সবচেয়ে বিপাকে। এমনই এক হৃদয়স্পর্শী দৃশ্য দেখা গেছে মুন্সিগঞ্জ ডেমলা ফিলিং স্টেশনে—ছেলের মোটরসাইকেলের জন্য পেট্রোল সংগ্রহ করতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন মা।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) প্রখর তাপদাহ উপেক্ষা করে লাইনে অপেক্ষা করতে দেখা যায় বিথিকা রানী বৈদ্যকে। তার ছেলে সাগর বৈদ্য পেশায় একজন ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালক। তেল সংকটের কারণে মোটরসাইকেল চালাতে না পেরে বর্তমানে তিনি কৃষি কাজে যুক্ত হয়েছেন। সংসারের হাল ধরতে তাই মাকেই নামতে হয়েছে পেট্রোল সংগ্রহের লাইনে।
বিথিকা রানী জানান, “আমার ছেলে মোটরসাইকেল চালিয়ে ও কৃষিকাজ করে সংসার চালায়। তেল না পাওয়ায় এখন সে মাঠে কাজ করছে। আমি দুইদিন ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি, কখন তেল পাবো জানি না।”
জানা গেছে, জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় মুন্সিগঞ্জ ডেমলা ফিলিং স্টেশন থেকে ইউনিয়নভিত্তিক তেল বিতরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। উপজেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে তিনটি ইউনিয়নে পর্যায়ক্রমে তেল দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করা হলেও শুরুতেই দেখা দেয় বিশৃঙ্খলা।
বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নে তেল বিতরণের সময় ব্যাপক অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ ওঠে। একপর্যায়ে স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সঙ্গে ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজারের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে, এমনকি তাকে মারধরের অভিযোগও রয়েছে। এর জেরে টানা পাঁচ দিন তেল সরবরাহ বন্ধ থাকে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুধু মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নেই প্রায় দুই হাজারের বেশি মোটরসাইকেল রয়েছে। তেল সংকটের কারণে চালকরা কর্মহীন হয়ে পড়ছেন, অনেকেই বাধ্য হয়ে বিকল্প পেশায় ঝুঁকছেন। এতে পরিবারগুলোর ওপর বাড়ছে অর্থনৈতিক চাপ।
অভিযোগ রয়েছে, নির্ধারিত সময়ের বাইরে প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের নিয়ম ভেঙে তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। সাধারণ মানুষকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য দেবাশীষ গায়েন বলেন, “কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার কারণে তেল সরবরাহ বন্ধ ছিল। এখন স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতাদের সমন্বয়ে পুনরায় তেল বিতরণ শুরু হয়েছে। সুষ্ঠু বণ্টন নিশ্চিত করা গেলে দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতি হবে।”
বর্তমান পরিস্থিতিতে শ্যামনগরের সাধারণ মানুষ স্বস্তি ফিরে পাওয়ার আশায় তাকিয়ে আছে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপের দিকে।