প্রকাশ: শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:১০ পিএম (ভিজিট : ১৯৯)

X
ফুটপাত দখলের অভিযোগ
গাজীপুরের টঙ্গী এলাকায় প্রশাসনের উচ্ছেদ অভিযানের পরও ফুটপাত দখল আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। অভিযানে অবৈধ দোকানপাট সরিয়ে ফুটপাত দখলমুক্ত করা হলেও, কিছুদিন যেতে না যেতেই রাতের অন্ধকারে ফের দখলের ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন BYR-এর সদস্যদের নেতৃত্বে কিছু ব্যক্তি পুনরায় ফুটপাত দখলের চেষ্টা চালাচ্ছে—এমন অভিযোগ এলাকাবাসীর।
সরেজমিনে দেখা যায়,টঙ্গী র চেরাগআলী, কলেজ গেইট, স্টেশন রোড, টঙ্গী বাজার ব্যস্ত সড়কের পাশে আবারও গড়ে উঠেছে অস্থায়ী খাবারের দোকান ও বিভিন্ন পণ্যের স্টল। এসব দোকানে ক্রেতাদের ভিড় থাকায় ফুটপাত দিয়ে হাঁটা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ছে। ফলে পথচারীরা বাধ্য হয়ে সড়কে নেমে চলাচল করছে, যা বাড়িয়ে দিচ্ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি।
এলাকাবাসীর মতে, উচ্ছেদ অভিযান হলেও নিয়মিত তদারকির অভাব এবং কিছু প্রভাবশালী মহলের নীরব সমর্থনের কারণেই এই দখলদারিত্ব বারবার ফিরে আসছে। এতে সরকারের উদ্যোগের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। বিশেষ করে কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী এবং নারী পথচারীরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন।
একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, “উচ্ছেদ করা হয়, কিন্তু কয়েকদিন পর আবার সব আগের মতো হয়ে যায়। স্থায়ী কোনো সমাধান হচ্ছে না।” তাদের দাবি, শুধু অভিযান চালালেই হবে না—এর সঙ্গে থাকতে হবে কঠোর নজরদারি এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা।
অন্যদিকে, সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, তারা স্থানীয় মানুষের প্রয়োজন মেটাতেই এসব কার্যক্রম চালাচ্ছেন। তবে বাস্তবতা বলছে, এভাবে ফুটপাত দখল করে জনস্বার্থ বিঘ্নিত হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানে প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, হকারদের জন্য নির্দিষ্ট জায়গা নির্ধারণ এবং আইন প্রয়োগে কঠোরতা। তা না হলে টঙ্গীর মতো ব্যস্ত এলাকায় ফুটপাত দখলের এই চক্র থামানো কঠিন হয়ে পড়বে।
এখন প্রশ্ন একটাই—উচ্ছেদ অভিযান কি শুধু সাময়িক প্রদর্শনী, নাকি বাস্তবেই জনগণের জন্য নিরাপদ ও দখলমুক্ত ফুটপাত নিশ্চিত করা সম্ভব হবে?