উন্নয়ন নয়, সচেতনতার অভাবই বাড়াচ্ছে জনভোগান্তি

সায়মুন শেখ

সারাবাংলা

বৃষ্টি মানেই এক সময় ছিল স্বস্তির পরশ, কিন্তু বর্তমান নগরজীবনে সেই ধারণা রুপ নিয়েছে জন ভোগান্তিতে। সামান্য বৃষ্টিতেই

2026-04-29T20:34:35+00:00
2026-04-29T20:34:35+00:00
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬ ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬
   
উন্নয়ন নয়, সচেতনতার অভাবই বাড়াচ্ছে জনভোগান্তি
সায়মুন শেখ
প্রকাশ: বুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:৩৪ পিএম   (ভিজিট : ৪৭১)
চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতা
X

চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতা

বৃষ্টি মানেই এক সময় ছিল স্বস্তির পরশ, কিন্তু বর্তমান নগরজীবনে সেই ধারণা রুপ নিয়েছে জন ভোগান্তিতে। সামান্য বৃষ্টিতেই যখন রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে যায়, তখন সেই কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টিই পরিণত হয় চরম দুর্ভোগে। স্কুলগামী শিক্ষার্থী, অফিসমুখী কর্মজীবী, রিকশাচালক থেকে শুরু করে দিনমজুর—নগরীর প্রতিটি স্তরের মানুষকে পোহাতে হয় একই বিড়ম্বনা। এই পরিস্থিতিতে জনমনে প্রশ্ন জাগা স্বাভাবিক যে, চারদিকে এত উন্নয়ন কার্যক্রম চলার পরও কেন কমছে না জলাবদ্ধতা?

​সাধারণত এই জনভোগান্তির জন্য আমরা সব সময় সরকার ও স্থানীয় সিটি কর্পোরেশনের ওপর দায় চাপিয়ে দিই। আমাদের অভিযোগের আঙুল থাকে সবসময় উন্নয়নের গাফিলতির দিকে। কিন্তু বাস্তবতা ভেবে দেখলে উত্তরের প্রেক্ষাপট ভিন্ন হতে পারে। সঠিক উত্তর খুঁজতে গেলে একপাক্ষিকভাবে সরকারের দিকে আঙুল তোলার আগে আমাদের নিজেদের আচরণের দিকেও তাকাতে হবে। কারণ বাস্তবতা হলো, শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন দিয়ে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান কোনোভাবেই সম্ভব নয়, যদি না নাগরিকদের আচরণে ইতিবাচক পরিবর্তন আসে।

শহরের প্রতিটি মোড়ে বা নির্দিষ্ট দূরত্বে ডাস্টবিন থাকা সত্ত্বেও আমাদের মধ্যে সেটি ব্যবহারের অনীহা প্রবল। আমরা বাসাবাড়ির প্রতিদিনের ময়লা-আবর্জনা সুনির্দিষ্ট স্থানে না ফেলে অনেক সময় ড্রেন বা নালার মুখে ফেলে দিই। এই বর্জ্যগুলো পানির স্রোতে গিয়ে ড্রেনের ভেতরে এমনভাবে আটকে যায় যে, পানির স্বাভাবিক প্রবাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। ফলে বৃষ্টির পানি সরার পথ না পেয়ে দ্রুত রাস্তায় উঠে আসে এবং দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতার সৃষ্টি করে। ​প্লাস্টিক ও পলিথিনের যত্রতত্র ব্যবহার আমাদের চলার পথে ব্যবহৃত পানির বোতল, চিপসের প্যাকেট, পলিথিন ও বিভিন্ন খাবারের মোড়ক আমরা অত্যন্ত অবহেলার সাথে রাস্তায় ছুড়ে ফেলি। এসব অপচনশীল বর্জ্য বৃষ্টির পানির সাথে ভেসে গিয়ে নর্দমার ভেতরে জমা হয়। পলিথিন ও প্লাস্টিক যেহেতু পচে না, তাই এগুলো ড্রেনের নিচে শক্ত স্তর তৈরি করে। এটি কেবল জলাবদ্ধতাই সৃষ্টি করে না, বরং মাটির উর্বরতা নষ্ট করে এবং শহরের বাস্তুসংস্থানের দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি সাধন করে পরিবেশকে বিপন্ন করে তুলছে।

​বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকার অবকাঠামো তৈরি করতে পারে, কিন্তু সেই ব্যবস্থাকে কার্যকর রাখতে হলে নাগরিকদের সক্রিয় সহযোগিতা ও সচেতনতা অপরিহার্য। অর্থাৎ, আমরা সাধারণ মানুষ যতদিন পর্যন্ত সচেতন না হব, ততদিন কোনো উন্নয়নই প্রকৃতপক্ষে জনভোগান্তি কমাতে পারবে না।

​জলাবদ্ধতা শুধু একটি প্রাকৃতিক বা প্রশাসনিক সমস্যা নয়—এটি আমাদের সম্মিলিত আচরণেরই একটি প্রতিফলন। তাই এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানও লুকিয়ে আছে আমাদের হাতেই। সময় এসেছে নিজের অভ্যাস বদলানোর। ময়লা নির্দিষ্ট স্থানে ফেলা এবং পরিবেশের প্রতি দায়িত্বশীল হওয়া—এই ছোট ছোট পরিবর্তনগুলোই পারে জলাবদ্ধতার মতো বড় সমস্যার টেকসই সমাধান নিশ্চিত করতে।





Loading...
Loading...


সারাবাংলা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy