কলমাকান্দায় নদ-নদীর পানি বাড়ছে, বন্যার শঙ্কা

কলমাকান্দা (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি

সারাবাংলা

নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলায় টানা চার দিনের ভারী বৃষ্টি ও উজানের পাহাড়ি ঢলে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। এতে

2026-04-29T21:00:16+00:00
2026-04-29T21:00:16+00:00
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬ ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬
   
কলমাকান্দায় নদ-নদীর পানি বাড়ছে, বন্যার শঙ্কা
কলমাকান্দা (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: বুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:০০ পিএম   (ভিজিট : ২১২)
নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি
X

নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি

নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলায় টানা চার দিনের ভারী বৃষ্টি ও উজানের পাহাড়ি ঢলে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। এতে আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। হাওরের পাকা বোরো ধান রক্ষায় কৃষকেরা তড়িঘড়ি করে ধান কাটায় নেমেছেন।

উপজেলার প্রধান উব্দাখালী নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। এর সঙ্গে মহাদেও, গনেশ্বরী, মঙ্গেলশ্বীসহ ছোট-বড় সব নদীর পানিও বেড়েছে। ইতিমধ্যে মেদী, তেলেঙ্গাসহ কয়েকটি বিলে পাকা ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। বুধবার দুপুর ১২টার দিকে উব্দাখালী নদীর ডাকবাংলো পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ১ দশমিক ০৫ মিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। তবে উজানে বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় পানি আরও বাড়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

কৃষকেরা বলছেন, টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে হাওরের প্রায় ৫০ শতাংশ বোরো ফসল তলিয়ে গেছে। আরও অন্তত ২০ শতাংশ জমির ধান ঝুঁকিতে রয়েছে। অনেক জায়গায় ধান পুরোপুরি না পাকায় কাঁচাপাকা অবস্থাতেই কাটতে হচ্ছে। বৃষ্টির কারণে ধান কাটা, মাড়াই ও শুকানো—সবকিছুতেই ভোগান্তি বাড়ছে। হাওরে পানি জমে থাকায় অনেক স্থানে কম্বাইন্ড হারভেস্টার চালানো যাচ্ছে না, আবার শ্রমিক সংকটও প্রকট। রোদ না থাকায় কাটা ধান শুকানোও সম্ভব হচ্ছে না।

সোনাডুবি হাওরপারের মন্তলা গ্রামের কৃষক আবুল মিয়া (৪৫) বলেন, “যেভাবে বৃষ্টি হচ্ছে, পানি বাড়ছে আর বজ্রপাত হচ্ছে—হাওরে যেতে ভয় লাগে। তবুও ঝুঁকি নিয়ে ধান কাটার চেষ্টা করছি।”

উপজেলা কৃষি বিভাগ জানায়, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ২১ হাজার ৬৫ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে হাওরাঞ্চলে রয়েছে ৪ হাজার ৬৩০ হেক্টর জমি। মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত প্রায় ৪৫ শতাংশ জমির ধান কাটা হয়েছে। তবে কৃষকদের দাবি, বাস্তবে কাটা হয়েছে প্রায় ২৫ শতাংশ। ইতিমধ্যে প্রায় ১ হাজার ৬০০ হেক্টর জমির ধান পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে।

উপজেলায় ৫৫টি কম্বাইন্ড হারভেস্টার থাকলেও হাওরে পানি থাকায় অনেক জায়গায় সেগুলো ব্যবহার করা যাচ্ছে না। বর্তমানে ৩০ থেকে ৩৫টি হারভেস্টার মাঠে কাজ করছে, তবে জ্বালানি সংকটে কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, “কয়েকটি হাওর ও বিলে পানি ঢুকেছে। এখন পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ৬০০ হেক্টর জমির ধান তলিয়ে গেছে। কৃষকদের দ্রুত ধান কাটার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে এবং হারভেস্টার ব্যবহারে সমন্বয় করা হচ্ছে। তবে শ্রমিক সংকট রয়েছে।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম মিকাইল ইসলাম বলেন, “হাওরের ধান কাটা আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। আমরা প্রচারণা চালাচ্ছি, যাতে দ্রুত ধান কাটা শেষ করা যায়। দুর্যোগ পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।”





Loading...
Loading...


সারাবাংলা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy