প্রকাশ: বুধবার, ৬ মে, ২০২৬, ১:৪৫ পিএম (ভিজিট : ২৭৯)

X
চিতলমারীতে বিলুপ্ত হতে চলছে বেতের তৈরি হস্তশিল্প
ডিজিটিাল যুগে এসে আধুনিকতার ছোঁয়ায় প্লাষ্টিক, স্ট্রীল, অ্যালুমিনিয়ামসহ বিভিন্ন ধাতবের তৈরি জিনিসপত্র বাজারে সয়লাব হওয়ায় বাাঁশ, বেত ও মাটির তৈরি হস্তশিল্প বিলুপ্তি হতে চলছে।
এ পেশার কদর দিন দিন কমে আশায় অনেকেই অন্য কাজে যুক্ত হচ্ছেন। ফলে পুরনো অনেক শিল্প এখন হারিয়ে যেতে বসেছে। এ পরিস্থিতিতে বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলায় প্রায় অর্ধশত পরিবার বেত শিল্পের থেকে নিজেদের সরিয়ে নিয়েছেন । বর্তমানে এ শিল্পের কদর না থাকায় তারা অন্য পেশায় যুক্ত হচ্ছেন। ফলে অচিরেই এ শিল্প বিলুপ্ত হওয়ার সম্ভবনা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় বেত শিল্পের কারিগরদের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, বর্তমানে বেতের তৈরি জিনিসপত্রের কদর না থাকায় এবং বাজারে এর বিক্রি কমে যাওয়ায় এ পেশা থেকে অনেকেই সরে যাচ্ছেন।
এক সময় এলাকার অসংখ্য পরিবার বেত-বাঁশের তৈরি ধামা, কুলা, পৈকা, সের ও অন্যান্য জিনিসপত্র তৈরি করে স্থানীয় হাট-বাজার ও বিভিন্ন মেলায় বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। এছাড়া গ্রামে,গঞ্জে ঘুরে এসব পণ্য বিক্রি করতেন। বিশেষ করে বোরো মৌসুমে বেতের তৈরি ধামা, কুলার ব্যাপক চাহিদা ছিল কিন্তু এখন বিকল্প জিনিসপত্র বেরিয়ে যাওয়ায় বেত শিল্পের কদর নেই। ফলে এ শিল্পের সাথে যুক্ত কারিগররা অন্য পেশায় যুক্ত হচ্ছেন।
স্থানীয় ওয়াপদার বাসিন্দা কেশব বৈরাগী জানান, তিনি অর্ধশত বছর ধরে বেত শিল্পের সাথে যুক্ত আছেন। এখানকার অসংখ্য পরিবার এক সময় বেতের জিনিসপত্র তৈরি করে সংসার চালাতেন কিন্তু বর্তমানে এ পেশার কোন কদর না থাকায় তারা অন্য কাজ করছেন। সরকার যদি ক্ষুদ্র ঋণ সহায়তাসহ তাদের সাহায়্যে এগিয়ে আসত তাহলে এ শিল্পকে টিকিয়ে রাখা সম্ভব হত। এছাড়া তিনি আরো জানান, বেতের তৈরি জিনিস পরিবেশ সম্মত ও স্থায়ী টিকে থাকে। বাজারে এখন প্লাষ্টিকসহ যে সকল পণ্য পাওয়া য়ায় সেটি খুবই অস্থায়ী।
উপজেলার কুরমণি গ্রামের বাসিন্দা অমল বসু জানান, এক সময় চৈত্র-বৈশাখ মাস এলে বোরো ফসল ঘরে আসত। তখন এখানকার নদীতে পালের নৌকা ঘাটে বাধা থাকত। তারা বিভিন্ন মাটির তৈরি হাড়ি,পাতিলসহ নানা জিনিসপত্র গ্রামে ঘুরে বিক্রি করতেন। এছাড়া বাঁশ-বেতের তৈরি ধামা, কুলা, পৈকার বিশেষ চাহিদা ছিল। সেই দিন এখন আর দেখা যায় না। মাটি ও বেতের শিল্প এখন হারিয়ে যাওয়ার পথে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।