
X
অভিনেত্রী চম্পা
মা দিবস ঘিরে বিশ্বজুড়ে চলে নানা আয়োজন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে ঘরোয়া উদযাপন। সব খানেই মাকে ঘিরে ভালোবাসা আর কৃতজ্ঞতার প্রকাশ। এমন সময় মা ও সন্তানের বর্তমান সম্পর্কের দূরত্ব নিয়ে আবেগঘন মন্তব্য করেছেন ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেত্রী চম্পা। তার মতে, মায়ের প্রতি ভালোবাসা কোনো নির্দিষ্ট দিনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকার নয়; বরং প্রতিদিনই হওয়া উচিত মাকে ভালোবাসার দিন।
চম্পা বলেন, ‘মা তো মা-ই। মায়ের ওপরে আর কিছু হতে পারে না। আমি মনে করি, সবার উচিত মাকে যথাযথ সম্মান করা। মা দিবস শুধু একটি দিন কেন হবে? মাকে আমরা প্রতিদিন ভালোবাসব, তার যত্ন নেব।’
শৈশবের স্মৃতি টেনে এনে এই অভিনেত্রী বলেন, মায়ের হাত ধরেই মানুষ পৃথিবীকে চিনতে শেখে। তবে সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে সেই সম্পর্কের উষ্ণতায়ও যেন ভাটা পড়ছে। আক্ষেপের সুরে চম্পা বলেন, ‘আগে আমরা মায়ের হাত ধরে হাঁটতাম। এখন মায়ের হাত ছেড়ে মোবাইল হাতে নিয়ে হাঁটি। এটা একদমই ঠিক নয়।’
তিনি মনে করেন, প্রযুক্তির ব্যস্ততায় পরিবার ও বিশেষ করে মায়ের সঙ্গে মানসিক দূরত্ব তৈরি হচ্ছে। তাই সবাইকে মায়ের আরও কাছে ফেরার আহ্বান জানান এই অভিনেত্রী।
চম্পার ভাষায়, মায়ের হাত কখনো ছাড়বেন না। মাকে বোঝার চেষ্টা করুন, তাকে ভালোবাসুন। মায়ের কাজে সহযোগিতা করুন। মায়ের আদর্শ ও গুণাবলি নিজের মধ্যে ধারণ করুন। তিনি আরও বলেন, একজন মায়ের জীবনের অভিজ্ঞতা সন্তানের জন্য সবচেয়ে বড় শিক্ষা। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই ভবিষ্যতের পথচলায় শক্তি পাওয়া যায়।
চম্পা বলেন, আমাদের মায়েদের অনেক অভিজ্ঞতা রয়েছে। তাদের দীর্ঘ জীবনের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। বর্তমান সময়ে এটি অত্যন্ত জরুরি।
আশির দশকের মাঝামাঝি থেকে নব্বই দশকের প্রথমার্ধ পর্যন্ত বাণিজ্যিক সিনেমার এক নাম্বর নায়িকা ছিলেন চম্পা। সামাজিক, অ্যাকশন, ফোক-সব ধরনের সিনেমাতেই দারুণ সফল ছিলেন তিনি।
গৌতম ঘোষের ‘পদ্মা নদীর মাঝি’, শাহজাহান চৌধুরীর ‘উত্তরের খেপ’ ও শেখ নেয়ামত আলীর ‘অন্যজীবন’ সিনেমার জন্য সেরা অভিনেত্রী হিসেবে এ পর্যন্ত তিনবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন চম্পা। সেরা পার্শ্ব অভিনেত্রী হিসেবে চাষী নজরুলের ‘শাস্তি’ এবং মুরাদ পারভেজের ‘চন্দ্রগ্রহণ’ চলচ্চিত্রের জন্য দুইবার পেয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার।
উল্লেখ্য, ১৯৮৬ সালে প্রয়াত শিবলী সাদিকের ‘তিন কন্যা’র মাধ্যমে সিনেমায় অভিষেক চম্পার। তারে আগে ১৯৮১ সালে প্রয়াত আব্দুল্লাহ আল মামুনের ‘ডুবসাঁতার’ নাটকের মাধ্যমে অভিনয়ে পথচলা শুরু তার।